বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না

বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, টনসিল হলে করণীয় কি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
বাচ্চাদের-টনসিল-হলে-কি-কি-খাওয়া-যাবে-না
.
টনসিল হলে দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।

বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না

টনসিল হলো গলার দুপাশে অবস্থিত দুটি লসিকাগ্রন্থি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তবে যখন এই টনসিল প্রদাহ বা সংক্রমণের শিকার হয়, তখন তা ব্যথা, জ্বর ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। টনসিল হলে খাবার বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু খাবার সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ব্যথা বাড়ানোর কারণ হতে পারে। তাই যে সকল খাবার আমাদের এড়িয়ে চলা উচিৎ তা নিম্নরূপ।
  • টনসিল আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও ঝাল খাবার খাওয়া উচিত নয়।যেমন মরিচ, গরম মসলা, লাল ও কালো মরিচ যুক্ত খাবার। এগুলো গলার সংবেদনশীল টিস্যুকে আরও বেশি উত্তেজিত করতে পারে এবং ব্যথা বাড়াতে পারে।
  • আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, কোল্ড ড্রিংকস এবং বরফ দেওয়া জুস খেলে টনসিলের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ঠান্ডা খাবার গলার সংক্রমণকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
  • চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফাস্টফুড জাতীয় ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো গলায় লেগে গিয়ে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • লেবু, আচার, টক দই, টক ফল ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে। টক খাবারে থাকা অ্যাসিড গলার প্রদাহকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
  • দুধ, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার অনেক সময় গলায় শ্লেষ্মা জমিয়ে দেয়, যা গলা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • কফি, চা এবং সোডাযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো গলা শুষ্ক করে দিতে পারে এবং আরামদায়ক নয়। এছাড়া টনসিল হলে করণীয় হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

টনসিল হলে করণীয় কি

টনসিলের সাধারণ সমস্যায় সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য জানতে হবে টনসিল হলে আমাদের করনীয় কি তার সম্পর্কে। তাই নিম্নে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
  • দিনে ৩-৪ বার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে গলার সংক্রমণ কমতে সাহায্য করে এবং ব্যথা ও ফোলাভাব দূর হয়।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও আরাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি কথা বলা বা চিৎকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যাতে গলার উপর চাপ না পড়ে এবং সংক্রমণ আরও না বাড়ে।
  • গলা আর্দ্র রাখতে প্রচুর কুসুম গরম পানি পান করা উচিত। এটি গলার শুষ্কতা দূর করে এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
  • টনসিল হলে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে গলাধঃকরণ করা যায় এবং সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। উষ্ণ স্যুপ, নরম খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ফলের স্মুদি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • মধু ও আদার সংমিশ্রণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যা গলা নরম করে এবং সংক্রমণ কমায়। গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া আদা চা বা তুলসী চা পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।
  • আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, গরম চা বা কফি খেলে গলার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • টনসিলের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে, উচ্চমাত্রার জ্বর আসে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা লাগতে পারে।
এছাড়া বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সেটা জানার পর তাদের খাবার নির্বাচন করতে হবে। বাচ্চাদের জন্য সেই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

টনসিল হলে কি খাওয়া উচিত

টনসিল হলে সঠিক খাবার গ্রহণ করলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। নরম, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সংক্রমণ কমতে পারে এবং ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। টনসিল হলে কি কি খাবার খেতে হবে অর্থাৎ কি কি খাওয়া উচিত তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  • গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করা এবং সেই পানি পান করা গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। লবণ জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং টনসিলের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
  • গরম ভেষজ চা, যেমন আদা চা, তুলসী চা, লেবু চা টনসিলের ব্যথা উপশম করতে পারে।
  • গরম পানির সঙ্গে মধু ও আদা মিশিয়ে খেলে এটি গলা নরম রাখে এবং ব্যথা কমায়।
  • মুরগির স্যুপ, শাকসবজি স্যুপ, ওটমিল, নরম খিচুড়ি বা সেমাই খেলে টনসিলের অস্বস্তি কমবে। স্যুপের গরম ভাব গলায় আরাম এনে দেয় এবং ব্যথা কমায়।
  • দুধ বা দই গলায় শ্লেষ্মা সৃষ্টি না করলে অল্প পরিমাণে কুসুম গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরে শক্তি বজায় থাকে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হয়।
  • পাকা কলা, পেঁপে, আপেল সস ও অন্যান্য নরম ফল খাওয়া যেতে পারে। সারা দিন পর্যাপ্ত গরম পানি পান করা খুবই জরুরি।
  • নরম রান্না করা ডিম, ভালোভাবে সিদ্ধ করা মাছ বা নরম মাংস খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না আর কোনটি খাওয়ার প্রয়োজন, তার তালিকা নিয়ে খাওয়ালে বাচ্চাদের টনসিল সমস্যা নিরসনে সাহায্য করবে।

টনসিল হলে কি কি সমস্যা হয়

টনসিল হলো আমাদের গলায় অবস্থিত দুটি লিম্ফয়েড টিস্যুর একটি অংশ। এতে সংক্রমণ হলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে টনসিল ফুলে যায় এবং গলা ব্যথা শুরু হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় কথা বলতেও সমস্যা দেখা দেয়।

টনসিল হলে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো গলা ব্যথা। এটি সাধারণত তীব্র হতে পারে এবং খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা হয়। অনেক সময় টনসিল ফুলে গেলে মুখ খুলতে কষ্ট হয় এবং স্বর ভেঙে যায়। এছাড়া টনসিলে ইনফেকশন হলে গলা শুকিয়ে যাওয়া, শুষ্ক কাশি এবং গলায় খুশখুশে অনুভূতি হতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় অনেকের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

অনেক সময় টনসিলের সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলে। জ্বর আসতে পারে, শরীরে দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে এবং মাথাব্যথা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে টনসিলের সংক্রমণ লিম্ফ নোডগুলিকে ফুলিয়ে তোলে এবং গলায় ব্যথা বাড়তে পারে। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে পুঁজ জমে যেতে পারে এবং এটি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ বের হতে পারে।

এই টনসিলের সংক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এটি ক্রনিক টনসিলাইটিসে রূপ নিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে গলার চারপাশে পুঁজ জমে যেতে পারে। যা চিকিৎসা না করালে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের টনসিল হলে করণীয় কি এবংবাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না, প্রথমেই জেনে নিতে হবে। যেন সমস্যাটি এড়িয়ে চলা যায়।

বাচ্চাদের টনসিল কেন হয়

বাচ্চাদের মধ্যে টনসিল সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। সাধারণ ঠান্ডা লাগা, ফ্লু বা স্ট্রেপটোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে টনসিল ফুলে যেতে পারে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দুর্বল হয় বলে তারা সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।
  • বাচ্চাদের টনসিল হওয়ার আরেকটি কারণ হলো দূষিত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা। বাইরে খোলা খাবার খাওয়া, অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখে হাত দেওয়া বা ঠান্ডা পানীয় পান করলে টনসিলের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার শীতকালে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বেশি হয়।
  • পরিবারের মধ্যে কারো টনসিল ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে বা শিশুরা স্কুল বা খেলাধুলার সময় সংক্রমণ সহজেই ছড়াতে পারে। কারণ টনসিল সংক্রমণ সাধারণত হাঁচি, কাশি বা দূষিত জিনিসপত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • এছাড়া অ্যালার্জি ও ধুলাবালি থেকেও বাচ্চাদের টনসিল হতে পারে। যেসব শিশু ধুলাবালির সংস্পর্শে বেশি আসে, তারা শ্বাসকষ্ট বা গলা ব্যথার সমস্যায় পড়তে পারে। যেসব খাবারে অতিরিক্ত সংরক্ষণশীল উপাদান থাকে, সেগুলোও টনসিলের সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • বাচ্চারা প্রায়ই ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের টনসিলের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ চলতে থাকলে এটি ক্রনিক টনসিলাইটিসে পরিণত হতে পারে। যা শিশুর স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ও খাওয়া-দাওয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সেজন্য বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সে সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বাচ্চাদের জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার এবং ঝাল বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

বাচ্চাদের টনসিলের লক্ষণ

বাচ্চাদের টনসিল হলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। যেটা দ্রুত চিহ্নিত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়। গলা ব্যথা অন্যতম প্রধান লক্ষণ। যা খাবার গিলতে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। বাচ্চারা অনেক সময় ব্যথার কারণে খেতে চায় না এবং অস্বস্তি বোধ করে। টনসিল ফুলে গেলে গলার ভেতরের অংশ লালচে হয়ে যায় এবং কখনো কখনো সাদা বা হলুদ আবরণ পড়ে যায়।
  • জ্বর আসা টনসিলের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। সাধারণত এটি ১০০°F-১০৪°F পর্যন্ত উঠতে পারে ও শরীর দুর্বল করে দেয়।
  • টনসিল সংক্রমণের কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা ও শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয়। শিশুদের মধ্যে ঘন ঘন ঘুমানোর প্রবণতা দেখা যায় এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে আগ্রহ কমে যায়।
  • অনেক সময় টনসিল বড় হয়ে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, রাতে ঘুমানোর সময় নাক ডাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
  • এছাড়া টনসিল সংক্রমণের ফলে গলা শুকিয়ে যাওয়া এবং খুসখুসে কাশি হতে পারে।
  • গলা ব্যথার পাশাপাশি মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া টনসিলের আরেকটি লক্ষণ। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে হয়।
  • টনসিল বড় হলে অনেক সময় গলার আশেপাশের লিম্ফ নোড ফুলে গিয়ে ব্যথা অনুভূত হয়।
  • কিছু শিশু টনসিল সংক্রমণের কারণে কানে ব্যথা অনুভব করতে পারে। কারণ গলা ও কানের স্নায়ুগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
সকলকে টনসিল হলে করণীয় কি তা নিয়ে ধারণা থাকতে হবে। বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত। আর যেসব খাবার খেলে এসব জটিলতা বাড়তে পারে, তা অবশ্যই খাবার হিসেবে পরিহার করা উচিত।

বাচ্চাদের টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা

বাচ্চাদের টনসিল হলে ঘরোয়া উপায়ে এটি কমানোর বেশ কিছু কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে। গরম পানি ও লবণ দিয়ে গার্গল করানো অত্যন্ত উপকারী। এটি গলার জীবাণু ধ্বংস করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

মধু ও আদার রসঃ মধু ও আদার রস একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে গলার ব্যথা দ্রুত উপশম হয়। মধুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান টনসিলের প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

লেবু ও গরম পানিঃ লেবু ও গরম পানি পান করানোও টনসিল সংক্রমণ কমানোর একটি কার্যকর উপায়। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়া তুলসী পাতার রস ও মধু একসঙ্গে খাওয়ালে গলা ব্যথা কমে এবং সংক্রমণ দ্রুত নিরাময় হয়।

গরম তরলঃ শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম তরল পান করানো উচিত। গরম স্যুপ, হারবাল চা বা মধু মিশ্রিত গরম পানি ইত্যাদি এগুলো গলা আর্দ্র রাখতে এবং সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে রাখা উচিত নয় এবং ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা উচিত।

হলুদ দুধঃ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার মধ্যে হলুদ দুধ অন্যতম কার্যকর উপায়। হলুদে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং গলা ব্যথা কমায়।

ঠান্ডা খাবারঃ বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তৈলাক্ত খাবার, চকলেট, সফট ড্রিংকস, চিপস এবং অতিরিক্ত চিনি মিশ্রিত খাবার, এগুলো টনসিলের প্রদাহ বাড়াতে পারে বলে এড়িয়ে চলা উচিত। এরপরও টনসিল হলে করণীয় কি হবে তা নির্ভর করে শিশুদের শারীরিক অবস্থার উপর। এসময় প্রাথমিকভাবে উষ্ণ খাবার দেওয়া, শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

বলা যেতে পারে বাচ্চাদের টনসিল কমাতে ঘরোয়া চিকিৎসা কার্যকর। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য রক্ষা ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে বাচ্চাদের টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।

আমাদের আজকের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে টনসিল হলে কি খাওয়া উচিত, টনসিল হলে কি কি সমস্যা হয়, বাচ্চাদের টনসিল কেন হয়, লক্ষণ, বাচ্চাদের টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা এবং করণীয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url