গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায়
গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে করনীয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
.
গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা সংক্রমণ ঘটে, যার মধ্যে কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যতম। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায়
গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কৃমির সমস্যা প্রকট হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ঘরোয়াভাবে কৃমি দূর করার উপায় অবলম্বন করে সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিক উপায় নিরাপদ হওয়ায় গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
রসুনঃ রসুন একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক কৃমিনাশক, যা অন্ত্র থেকে কৃমি দূর করতে সহায়তা করে। রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিপ্যারাসিটিক উপাদান কৃমির সংক্রমণ কমাতে কার্যকর। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে কৃমির সমস্যা দ্রুত দূর হতে পারে। এছাড়া গরম পানিতে রসুন সিদ্ধ করে সে পানি পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।
পেঁপেঃ পেঁপের বীজ প্রাকৃতিকভাবে কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা এনজাইম কৃমির ডিম ধ্বংস করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এক চামচ কাঁচা পেঁপের রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কৃমির সমস্যা কমে যায়।
কলাঃ কলা হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রে কৃমির সংখ্যা কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে পাকা কলা মিশিয়ে খেলে কৃমির সংক্রমণ কমে এবং অন্ত্র পরিষ্কার থাকে।
কুমড়োর বীজঃ কুমড়োর বীজে থাকা প্রাকৃতিক কেমিক্যাল কৃমির বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক মুঠো কুমড়োর বীজ চিবিয়ে খেলে অন্ত্রে কৃমির বৃদ্ধি রোধ হয়।
হলুদঃ হলুদে থাকা অ্যান্টিপ্যারাসিটিক উপাদান কৃমি ধ্বংস করতে সহায়ক। এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে রাতে খেলে অন্ত্র পরিষ্কার হয় এবং কৃমির সমস্যা কমে যায়।
নারকেলের পানিঃ নারকেলের পানি হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রকে পরিশুদ্ধ রাখে। প্রতিদিন এক গ্লাস নারকেলের পানি পান করলে কৃমির সমস্যা কমে। এছাড়া এক চামচ বিশুদ্ধ নারকেল তেল খেলে অন্ত্রে কৃমির বৃদ্ধি রোধ হয়।
গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে প্রথমে ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করা। তবে যদি সংক্রমণ বেশি হয় বা উপসর্গ গুরুতর হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে করনীয়
গর্ভাবস্থায় কৃমির সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি অবহেলা করা উচিত নয়। কৃমি হলে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলে। তাই গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে প্রথমে করনীয় বিষয়গুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- কৃমির লক্ষণ দেখা দিলে গর্ভাবস্থায় সব ধরনের ওষুধ গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। তাই চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
- কৃমি হলে এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। প্রচুর পানি পান করা, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, টকজাতীয় ফল, সবুজ শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
- গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে পেঁপের বীজ, রসুন, হলুদ দুধ এবং কুমড়োর বীজের মতো প্রাকৃতিক উপাদান কার্যকর হতে পারে।
- গর্ভাবস্থায় কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- খাবার গ্রহণের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া, রান্নার আগে সবজি ও ফলমূল পরিষ্কার করে নেওয়া এবং কাঁচা মাছ-মাংস এড়িয়ে চলা উচিত।
- গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি, যাতে কোনো রকম অপুষ্টি বা কৃমির সংক্রমণ হলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে করনীয় হলো ঘরোয়া উপায় মেনে চলা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
কি খেলে কৃমি হয়
কৃমির সংক্রমণ সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে যেসব খাবার ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না বা পর্যাপ্ত তাপে রান্না করা হয় না, সেগুলো কৃমির ডিম ও লার্ভা বহন করতে পারে। কৃমির সংক্রমণ এড়াতে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত তা জানা জরুরি।
- যেসব খাবার ভালোভাবে ধোয়া হয় না, যেমন কাঁচা সবজি ও ফলমূল। সেগুলো কৃমির ডিম বহন করতে পারে।
- রাস্তার খোলা খাবারেও অনেক সময় কৃমির ডিম ও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যা শরীরে প্রবেশ করলে কৃমির সংক্রমণ ঘটতে পারে।
- নদী, পুকুর বা অপরিষ্কার পানীয় জল কৃমির প্রধান বাহক হতে পারে। যদি পানি ঠিকভাবে ফুটিয়ে পান না করা হয়, তবে কৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে।
- কম সিদ্ধ বা কাঁচা মাংস, বিশেষ করে গরু, হাঁস-মুরগি ও সামুদ্রিক মাছে থাকা পরজীবী কৃমি সংক্রমণের একটি বড় কারণ।
- অপাস্তুরিত দুধ, দই বা দুধ থেকে তৈরি খাবার কৃমি বহন করতে পারে যদি তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়।
- বেশি পরিমাণে চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে অন্ত্রে কৃমির বৃদ্ধি বাড়তে পারে।
গর্ভাবস্থায় কৃমির সমস্যা এড়াতে এসব খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে প্রাকৃতিক সমাধান অনুসরণ করা যেতে পারে। যা অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
কৃমির লক্ষণ
মানবদেহে কৃমির সংক্রমণ হলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কৃমি সাধারণত অন্ত্রে বসবাস করে এবং পুষ্টি শোষণ করে শরীরকে দুর্বল করে তোলে। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওজন হ্রাস। অনেক সময় নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া সঠিকভাবে করলেও ওজন কমতে থাকে, যা কৃমির উপস্থিতির একটি বড় ইঙ্গিত হতে পারে।
পেটের সমস্যা কৃমির আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রাতে পেটব্যথা বেশি হতে পারে। কারণ অনেক কৃমি রাতের বেলা বেশি সক্রিয় হয়। এছাড়া পেটে গুরুগম্ভীর আওয়াজ হওয়া বা সব সময় অস্বস্তি অনুভব করাও কৃমির লক্ষণ হতে পারে।
অনেক সময় কৃমির কারণে ত্বকের সমস্যা দেখা যায়। শরীরে চুলকানি, বিশেষ করে পায়ুপথের চারপাশে চুলকানি হওয়া কৃমির সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়। কারণ তাদের হেলমিনথ নামক এক ধরনের কৃমি সহজেই সংক্রমিত করে। কৃমি শরীরে থেকে গেলে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়।
ফলে শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্ষুধামন্দা, রক্তশূন্যতা এবং চুল পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশুরা কৃমিতে আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। অনেক সময় কৃমির কারণে ঘুমের সমস্যা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা অস্বস্তি বোধ হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে দেরিতে প্রস্রাব করা এবং কান্নাকাটি করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য কৃমি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে কৃমির সংক্রমণ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় এবং ভ্রূণের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়।
কৃমি কেন হয়
কৃমি সংক্রমণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অপরিচ্ছন্নতা। খাবার ঠিকমতো পরিষ্কার না করা হয় বা অপরিষ্কার পানি পান করা হলে দেহে কৃমির ডিম প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় রাস্তার খাবার বা অর্ধসিদ্ধ মাংস খেলে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।
- শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার বেশি দেখা যায়, কারণ তারা মাটিতে খেলে এবং অনেক সময় হাত ধোয়ার অভ্যাস না থাকায় মুখে নোংরা হাত দিয়ে দেয়।
- কৃমি সংক্রমণের আরেকটি কারণ হলো দূষিত পরিবেশে বসবাস। বিশেষ করে যেসব জায়গায় স্বাস্থ্যকর পায়খানার ব্যবস্থা নেই, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। মল-মূত্রের মাধ্যমে কৃমির ডিম সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং পানি বা মাটির মাধ্যমে অন্য মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে।
- পুষ্টির অভাব এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কৃমি সংক্রমণের একটি কারণ হতে পারে। যদি শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পায়, তাহলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং কৃমি সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
- এছাড়াও, অপরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে চোখ, মুখ বা নাকে স্পর্শ করলেও কৃমি সংক্রমিত হতে পারে।
- গবাদি পশুর সংস্পর্শেও কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় পশুর মল-মূত্রের মাধ্যমে কৃমির ডিম মাটিতে পড়ে যায় এবং সেটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যারা গবাদি পশুর যত্ন নেন, তাদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণ আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে করনীয় জানতে হবে, যাতে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া যায় এবং নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে কৃমি দূর করার জন্য গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় মেনে চলা উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের প্রভাব এড়ানো যায় এবং শরীরের কোনো ক্ষতি না হয়।
গুড়া কৃমি কি ক্ষতি করে
গুড়া কৃমি একটি সাধারণ অন্ত্রের পরজীবী, যা দেহে প্রবেশ করলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি মূলত মাটির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এবং সংক্রমণের পর শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে।
- গুড়া কৃমি সংক্রমণের ফলে প্রধানত রক্তশূন্যতা দেখা যায়। এই কৃমি অন্ত্রে লেগে থেকে রক্ত শোষণ করে। ফলে দেহে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যায়।
- দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমিত থাকলে শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- এই কৃমির কারণে অন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির পেটে ক্রমাগত ব্যথা হতে পারে, খাবারে অরুচি দেখা দিতে পারে এবং হজমের সমস্যা হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়।
- গুড়া কৃমি সংক্রমণ চামড়ার সমস্যার কারণ হতে পারে। যখন এটি শরীরে প্রবেশ করে তখন পায়ের তলায় বা সংক্রমিত স্থানে চুলকানি, লালচে দাগ বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। এটি সাধারণত মাটি থেকে সংক্রমিত হয়।
- শিশুরা যদি গুড়া কৃমিতে আক্রান্ত হলে তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- গর্ভবতী নারীদের জন্য গুড়া কৃমি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। রক্তশূন্যতার কারণে গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যা নবজাতকের স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে প্রাকৃতিক উপায়ে কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
সুতরাং গুড়া কৃমি থেকে বাঁচতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
গর্ভাবস্থায় কৃমির ওষুধ খাওয়া যাবে কি
গর্ভাবস্থায় যে কোনো ধরনের কৃমির ওষুধ গ্রহণ করার আগে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস খুবই সংবেদনশীল সময়, কারণ এই সময়ে শিশুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়। তাই চিকিৎসকরা সাধারণত প্রথম ট্রাইমেস্টারে কৃমির ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন না।
তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট কৃমির ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যালবেনডাজল এবং মেবেনডাজল জাতীয় ওষুধ গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে তা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
গর্ভবতী নারীর দেহে কৃমির সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করলে এবং রক্তশূন্যতা বা অপুষ্টির ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশে নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। যদি গর্ভাবস্থায় কৃমির সমস্যা দেখা দেয়, তবে আগে গর্ভাবস্থায় কৃমি হলে করনীয় সম্পর্কে জানা জরুরি। হালকা সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রথমে ঘরোয়া প্রতিকার অনুসরণ করা উচিত এবং কেবলমাত্র যদি সংক্রমণ গুরুতর হয়, তাহলে ওষুধ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অনেক গর্ভবতী নারী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কৃমি দূর করতে চান, কারণ এতে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে কৃমি প্রতিরোধের চেষ্টা করা যেতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে গর্ভাবস্থায় কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।
আমাদের আজকের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে কৃমি কেন হয়, লক্ষণ, গুড়া কৃমি কি ক্ষতি করে, গর্ভাবস্থায় কৃমির ওষুধ খাওয়া যাবে কি এবং করণীয়সহ গর্ভাবস্থায় কৃমি দূরকরণের উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url