চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ

চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, চোখে ঝাপসা দেখার সমাধান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ। 
চোখে-দূরের-জিনিস-ঝাপসা-দেখার-কারণ
.
চোখে ঝাপসা দেখা অনেকটা সেই সমস্যার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।

চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ

চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা একাধিক কারণে ঘটতে পারে এবং এটি সাধারণত রিফ্র্যাকটিভ দৃষ্টিশক্তির সমস্যার ফলস্বরূপ। মানুষের চোখে সাধারণত আলো প্রবাহিত হয়ে রেটিনায় একটি সঠিক ছবি তৈরি করে। যা আমাদের মস্তিষ্কে পাঠানো হয়। তবে কিছু কারণে এই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হলে চোখে দূরের বস্তুর ছবি ঝাপসা হয়ে যায়।

মায়োপিয়াঃ মায়োপিয়া হলো সবচেয়ে সাধারণ কারণ। যেখানে চোখের লেন্স বা কর্নিয়া অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যায়। ফলে দূরের ছবি সঠিকভাবে রেটিনায় ফোকাস হতে পারে না। মায়োপিয়া একধরনের শারীরিক অস্বাভাবিকতা। যেটা সাধারণত জন্মগত হতে পারে অথবা অল্প বয়স থেকেই এ সমস্যাটি শুরু হতে পারে। মায়োপিয়া হওয়ার ফলে মানুষ নিকটবর্তী বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে পারে। তবে দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়।

হাইপারপিয়াঃ অন্যতম আরেকটি কারণ হলো হাইপারপিয়া, যেখানে চোখের লেন্স খুব সমতল বা ছোট হয়। ফলে নিকটস্থ বস্তুর ছবি সঠিকভাবে রেটিনায় ফোকাস হতে পারে না। এটি সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় এবং প্রবীণদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়। এই সমস্যায় মানুষ দূরের বস্তুকে ভালভাবে দেখতে পারে ও নিকটস্থ বস্তু ঝাপসা দেখায়।

ক্যাটার্যাক্টঃ ক্যাটার্যাক্ট বা চোখের লেন্সে কুয়াশা জমে যাওয়াও দূরের বস্তুর ঝাপসা দেখার অন্যতম কারণ। ক্যাটার্যাক্টের ফলে চোখের লেন্স মেঘলা হয়ে যায় এবং রেটিনায় ছবি ফোকাস করতে ব্যর্থ হয়। গ্লোকোমায় চোখের চাপ বৃদ্ধির কারণে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটিও চোখের দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

এছাড়া চোখে অনেক সময় অতি পরিশ্রম, বেশি স্ক্রিন টাইম এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন থেকেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার চোখের পেশীকে ক্লান্ত করে এবং এর ফলে চোখের রিফ্র্যাকটিভ ক্ষমতা কমে যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব যেমন ভিটামিন A বা C চোখের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

চোখে ঝাপসা দেখার সমাধান

চোখে ঝাপসা দেখলে বিভিন্ন উপায়ে সমাধান করা যেতে পারে। চোখের সমস্যা রিফ্র্যাকটিভ হলে চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা একটি সহজ এবং কার্যকর সমাধান। চশমা বা লেন্স চোখের প্রয়োজনীয় শক্তি যোগ করে এবং এইভাবে চোখের দৃষ্টি স্পষ্ট হয়। তবে চশমা বা লেন্সের মাধ্যমে শুধুমাত্র সমস্যা সাময়িকভাবে সমাধান হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী নয়।
  • অন্যদিকে ক্যাটার্যাক্ট রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা করা প্রয়োজন। ক্যাটার্যাক্টের ক্ষেত্রে চোখের দৃষ্টি পুনরুদ্ধার করতে লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। গ্লোকোমার ক্ষেত্রে চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে।
  • একই সঙ্গে চোখের পেশীকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করার জন্য চোখের ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিশেষ ব্যায়াম রয়েছে- (২০-২০-২০) নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কিছু দেখুন) যা চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। এই ব্যায়ামগুলো চোখের পেশীকে শক্তিশালী করে এবং দৃষ্টি সঠিকভাবে সেন্ট্রালাইজড রাখতে সহায়তা করে।
  • প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A, C, E এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণও চোখের জন্য উপকারী। ভিটামিন A চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং রেটিনায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করে। সুতরাং গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, কুমড়ো এবং স্যুপ বা সালাদে ভিটামিন A সমৃদ্ধ খাদ্য রাখা উচিত।
  • এছাড়া চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং স্ক্রীন টাইম কমানো প্রয়োজন। নিয়মিত চোখের বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। যথেষ্ট ঘুম না হলে চোখের পেশী ক্লান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে।
তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার মাধ্যমে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান সম্ভব। চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

দৃষ্টিশক্তি হচ্ছে একটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এর অবর্তমানে মানুষ সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পরে। তবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তাই নিজেদের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে আমাদের জানতে হবে এর কমে যাওয়ার পেছনের কারণ। নিম্নে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো।
  • রিফ্র্যাকটিভ দৃষ্টি সমস্যা- মায়োপিয়া (নিকটদৃষ্টি), হাইপারপিয়া (দূরদৃষ্টি) এবং আস্টিগমেটিজম অন্যতম প্রধান কারণ। এই ধরনের সমস্যা চোখের লেন্স বা কর্নিয়ার অস্বাভাবিক আকারের কারণে ঘটে। যার ফলে চোখের ফোকাস সঠিকভাবে রেটিনায় পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে দূরের বা নিকটস্থ বস্তুর ছবি ঝাপসা দেখা শুরু হয়।
  • এছাড়া বয়সজনিত পরিবর্তনও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ও চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্সের নমনীয়তা কমে দৃশ্যের স্পষ্টতা কমে যায়। এই অবস্থাকে প্রেসবাইোপিয়া বলা হয়। যা সাধারণত ৪০ বছরের পর থেকে শুরু হয় এবং এতে নিকটস্থ বস্তুর দেখায় সমস্যা হয়।
  • আরেকটি কারণ হলো ক্যাটার্যাক্ট। যেখানে চোখের লেন্স ধোঁয়াটে হয়ে যায় এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
  • গ্লোকোমা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মত গুরুতর সমস্যাও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। গ্লোকোমা চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রেটিনোপ্যাথি রেটিনায় রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • পর্যাপ্ত ভিটামিনের অভাবও চোখের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা দেখা দিতে পারে।
  • এছাড়া অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং চোখের অতিরিক্ত চাপ চোখের পেশী ক্লান্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখার সমাধান এর মধ্যে সঠিক চিকিৎসা, চোখের ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্তর্ভুক্ত। চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চোখের পাওয়ার কমে গেলে করণীয়

যখন চোখের পাওয়ার কমে যায়, তখন প্রথমে একটি চোখের পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ চোখের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। চোখের পাওয়ার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে রিফ্র্যাকটিভ সমস্যাগুলি। যেমন- মায়োপিয়া (নিকটদৃষ্টি) বা হাইপারপিয়া (দূরদৃষ্টি)। এসব সমস্যার সমাধান করতে চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যায়।

এর মাধ্যমে চোখের পাওয়ার সঠিকভাবে ঠিক করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে দৃষ্টি সুস্থ রাখা যায়। আবার চোখের পাওয়ার কমে যাওয়ার কারণ ক্যাটার্যাক্ট বা গ্লোকোমা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা করা প্রয়োজন। ক্যাটার্যাক্টের ক্ষেত্রে চোখের লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয় এবং গ্লোকোমার ক্ষেত্রে চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এছাড়া চোখের ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা। যা চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে। অন্যান্য কিছু পন্থা অন্তর্ভুক্ত করা যায়- খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা। ভিটামিন A, C এবং E সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, পালং শাক এবং মাছ খাওয়া চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং স্ক্রীন টাইম কমানো চোখের সুস্থতার জন্য উপকারী।

চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ যেটি হতে পারে মায়োপিয়া। তার জন্য চশমা ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ করা উচিত।

কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর

চোখের স্বাস্থ্য অনেকাংশে আমাদের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কিছু খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। যে সকল খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর নিম্নে সে সকল খাবারের নাম উল্লেখ করা হলো।
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন ফাস্ট ফুড, স্ন্যাকস এবং উচ্চ চিনি ও লবণযুক্ত খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টির অভাব থাকে। এটা চোখের কোষগুলোর সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক নয়।
  • উচ্চ পরিমাণে চিনি গ্রহণ করলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি গুরুতর চোখের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রোগে রেটিনার রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
  • ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন বেকারি আইটেম ও প্যাকেটজাত খাবার চোখের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে এবং চোখের শুষ্কতা বাড়াতে পারে। এই ধরনের খাবার শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যা চোখের কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে।
  • এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল খাওয়ার ফলে শরীরে জলশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। যার প্রভাব সরাসরি চোখে পড়ে। জলশূন্যতা চোখের শুষ্কতা বৃদ্ধি করে এবং চোখে লালভাব বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
  • এছাড়া চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং গরম পানীয় খাওয়া। এর ফলে চোখে চাপ বৃদ্ধি পেয়ে গ্লোকোমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • খুব বেশি ভাজা এবং তেলযুক্ত খাবার চোখের লেন্সের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে ফেলতে পারে।
  • খাবারে সঠিক পুষ্টি না থাকার কারণে চোখের পেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে দূরের বা নিকটস্থ জিনিস স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।
চোখে ঝাপসা দেখার সমাধান সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সম্ভব। এর মধ্যে ভিটামিন A, C এবং E সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা জরুরি।

চোখের জন্য উপকারী খাবার

চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে উপকারী কিছু খাবার রয়েছে যা চোখের পেশীকে শক্তিশালী করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। নিম্নে এমন কিছু খাদ্যের নাম উল্লেখ করা হলো যা আমাদের চোখের জন্য উপকারী।
  • গাজর একটি প্রাচীন খাবার যা চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A থাকে, যা রাতকানা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। গাজর খেলে চোখের কোষগুলোর পুষ্টি বৃদ্ধি পায় এবং চোখের রেটিনার স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
  • মাছ- স্যামন, সার্ডিন এবং টুনা, উচ্চ পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ধারণ করে। এই উপাদান চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। কারণ এটি চোখের শুষ্কতা এবং ইনফ্লামেশন কমাতে সহায়ক।
  • এছাড়া পালং শাক এবং কুমড়ো-এর মতো শাকসবজি চোখের জন্য অত্যন্ত ভালো। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে লুটিন এবং জেক্সানথিন থাকে। যেটা চোখের পেশীকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং ক্যাটার্যাক্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • ব্লুবেরি এবং স্ট্রবেরি-এর মতো বেরির ফ্রুটসেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা চোখের কোষকে মজবুত রাখে এবং তাদের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে।
  • এছাড়া ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার- কমলা, লেবু এবং অন্যান্য সাইট্রাস ফল। এগুলো চোখের রেটিনার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • চোখের জন্য উপকারী খাবারের মধ্যে এক্ষেত্রে ডিমও খুবই কার্যকর। কারণ এতে লুটিন এবং জেক্সানথিন পাওয়া যায়। ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন রয়েছে যা চোখের পেশীকে মজবুত করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।
চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ হতে পারে চোখের পেশীর দুর্বলতা। যা উপযুক্ত পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী করা যেতে পারে। এই উপকারী খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত।

চোখের পাওয়ার বৃদ্ধি করার উপায়

চোখের পাওয়ার বৃদ্ধি করার জন্য কিছু প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর উপায় রয়েছে। যা একজন কম দুরদৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক। চোখের ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চোখের পেশীকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করা দরকার। এটি চোখের পেশীকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে পারে।

এছাড়া পামিং নামক একটি ব্যায়াম রয়েছে, যেখানে হাতের তালু দিয়ে চোখ ঢেকে রাখলে চোখের ক্লান্তি দূর হয় এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হতে পারে। সঠিক খাবার খাওয়া চোখের শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়ক। যেমন গাজর বা ভিটামিন A সমৃদ্ধ খাবার চোখের সেলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ, লুটিন ও জেক্সানথিন সমৃদ্ধ শাকসবজি (পালং শাক ও কুমড়ো) চোখের পেশীকে শক্তিশালী করে।

এইসব খাবার চোখের রেটিনার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। যার ফলে চোখের পাওয়ার বৃদ্ধি হতে পারে। কীভাবে চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণ করবেন তা জানা জরুরি। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রীন ব্যবহার করলে চোখের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম ও চোখের ব্যায়াম করার মাধ্যমে এই চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরিপূর্ণ ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্ক্রীন টাইম কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। যদি চোখে কোনো ধরনের সমস্যা যেমন মায়োপিয়া বা হাইপারপিয়া থাকে, তাহলে  সেক্ষেত্রে চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ হলো রিফ্র্যাকটিভ সমস্যা। যা চশমা দিয়ে সমাধান করা সম্ভব।

চোখের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি। এছাড়া আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে চোখের দৃষ্টি শক্তির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার জন্য। চোখের সঠিক পুষ্টি গ্রহণ, ব্যায়াম এবং বিশ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে চোখের পাওয়ার বৃদ্ধি করা সম্ভব। চোখে ঝাপসা দেখার সমাধান হিসেবে এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হতে পারে।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে চোখে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন.

আমাদের আজকের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ, চোখের পাওয়ার কমে গেলে করণীয়, কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর বা উপকারী, চোখের পাওয়ার বৃদ্ধি করার উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url