বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা
বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
.
নাকের মাংস বৃদ্ধি সমস্যাটি অনেক সময় রোগীর জন্য অসহনীয় হয়ে যায়। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা
নাকের পলিপাস হলো নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া নরম মাংসপিণ্ডের মতো স্ফীত অংশ, যা সাধারণত নাসারন্ধ্রের ভিতরে বা সাইনাসের পাশে থাকে। এটি প্রদাহজনিত কারণে বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে বিভিন্ন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নাকের পলিপাসের কারণ হতে পারে অ্যালার্জি, সাইনোসাইটিস, ইনফেকশন বা অন্যান্য প্রদাহজনিত সমস্যা।
সাধারণত পলিপাসটি আকারে ছোট থেকে বড় হতে পারে এবং এর উপস্থিতি শ্বাসকষ্ট, গন্ধ না শোনা, মুখে দুর্গন্ধ, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক মানুষ মনে করেন যে নাকের পলিপাসের চিকিৎসা শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারেই সম্ভব। তবে এটি একটি ভুল ধারণা।
অস্ত্রোপচার ছাড়াও নাকের পলিপাস কমানোর বেশ কিছু প্রাকৃতিক এবং ঔষধি উপায় রয়েছে, যা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। স্টেরয়েড চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পলিপাসের আকার কমাতে সহায়ক এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। স্টেরয়েড স্প্রে বা ট্যাবলেট নিয়মিত ব্যবহার করার মাধ্যমে অনেক সময় পলিপাসের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায়গুলোও বেশ কার্যকরী হতে পারে। নাকের পলিপাস কমানোর জন্য স্যালাইন নোজ স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা নাকের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং নাসারন্ধ্রকে মুক্ত রাখে। স্যালাইন সলিউশনের মাধ্যমে নাক পরিষ্কার করার ফলে শ্বাসকষ্ট কমে আসে এবং পলিপাসের আকার ছোট হতে থাকে।
এছাড়া গরম পানির ভাপ নেওয়া একটি পুরনো এবং কার্যকরী পদ্ধতি। গরম ভাপ নাকের ভিতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা ও মিউকাসকে দ্রবীভূত করে এবং নাকের রাস্তা খোলার মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাসকে সহজ করে। এটি বিশেষত ঠান্ডা বা সাইনাস সমস্যায় উপকারী। যাদের নাকের পলিপাস রয়েছে, তাদের জন্য আদা বা হলুদ পানির সেবনও উপকারী হতে পারে।
আদায় প্রদাহ কমানোর গুণ রয়েছে এবং এটি শরীরের বিভিন্ন প্রদাহজনিত সমস্যার চিকিৎসায় সাহায্য করে। হলুদে উপস্থিত কুরকিউমিন নামক উপাদানও প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে, যা নাকের পলিপাস কমাতে সহায়ক হতে পারে। নাকের পলিপাসের চিকিৎসায় কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধও ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো পলিপাসের কারণে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতে কার্যকরী হতে পারে।
কিছু বিশেষ ধরনের খাবারও নাকের পলিপাস কমানোর জন্য উপকারী হতে পারে। সিট্রাস ফল, যেমন কমলা, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এছাড়া সবুজ শাকসবজি, তাজা ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়া নাকের পলিপাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং সাইনাসের শ্লেষ্মা পাতলা করে পলিপাসের বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে। সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং ধূলাবালি ও এলার্জি উৎপাদনকারী উপাদানগুলি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব বিষয় পলিপাসের বৃদ্ধি এবং সাইনাস সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
শ্বাস প্রশ্বাসের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং পলিপাসের আকার কমাতে নিয়মিত ব্যায়ামও একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। আর ঘরোয়া উপায়ে নাকের মাংস কমানোর পদ্ধতি থেকে আপনার জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায়
নাকের মাংস বৃদ্ধি সমস্যাটির কারণে অনেকেই অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসকের পরামর্শের দিকে ঝুঁকেন। তবে কিছু ঘরোয়া উপায়ে নাকের মাংস কমানো সম্ভব। নিম্নে নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায়গুলো সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো।
- স্যালাইন সলিউশন দিয়ে নাক পরিষ্কার করা একটি কার্যকরী পদ্ধতি। স্যালাইন সলিউশন নাকের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করে এবং নাসারন্ধ্রের ভিতরে জমে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো বের করে দেয়। যা নাকের মাংসের বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
- স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করার সময় নাকের ভিতরে হালকা গরম পানি ব্যবহার করলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়।
- গরম পানির ভাপ নাকের মাংস কমানোর জন্য এক প্রকার প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করতে পারে। গরম পানি শ্বাসের মাধ্যমে নাকের ভিতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা ও মিউকাস বের করে দেয় এবং নাকের রাস্তা খোলার মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাগুলি দূর করতে সাহায্য করে।
- আপনি ঠান্ডা লাগার পর বা সাইনাসের সমস্যা অনুভব করলে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন দিনে ১-২ বার।
- আদা এবং মধুর মিশ্রণও নাকের মাংস কমানোর জন্য একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায়। আদায় রয়েছে প্রদাহবিরোধী গুণ এবং মধু স্বাভাবিকভাবেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এই মিশ্রণটি দিনে দুই-তিন বার খেলে নাকের শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হতে পারে এবং মাংস কমানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।
- পানি বেশি পরিমাণে খাওয়া এবং তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে উপস্থিত প্রদাহ কমানো সম্ভব। এছাড়া খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল- কমলা, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি যোগ করা উচিত।
- আবার বাইরের ধুলাবালি এবং অ্যালার্জির কারণে নাকের মাংস বৃদ্ধি হতে পারে। তাই এগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা উচিত। সাধারণত সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার থেকেও বিরত থাকা উচিত।
নাকের মাংস কমানোর এই ঘরোয়া উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা সম্ভব এবং নাকের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
নাকের মাংস বৃদ্ধির লক্ষণ
নাকের মাংস বৃদ্ধির সমস্যাটি অনেকের ক্ষেত্রেই অল্প লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। যা ধীরে ধীরে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণত শ্বাসকষ্ট ও নাক বন্ধ থাকা এই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় এই সমস্যাটি বেশি অনুভূত হয়। যার ফলে অনেকের নাক ডাকার প্রবণতা বেড়ে যায়।
- নাকের মাংস বৃদ্ধির আরেকটি লক্ষণ হলো ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া। নাসারন্ধ্রের মধ্যে অতিরিক্ত মাংস বেড়ে গেলে গন্ধ গ্রহণ করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।
- একইসঙ্গে নাকে চাপ অনুভব করা, মাথাব্যথা এবং মুখমণ্ডলে অস্বস্তি হওয়া এই সমস্যার অন্যতম সাধারণ লক্ষণ।
- অনেক ক্ষেত্রে নাক দিয়ে ক্রমাগত সর্দি পড়তে থাকে ও সহজে ভালো হতে চায় না। কাশির সমস্যা তৈরি হতে পারে।
- এই সমস্যার আরেকটি লক্ষণ হলো কানে ভারী ভাব ও কম শুনতে পারা।
- নাকের মাংস বৃদ্ধি পেলে তা ইউস্টেশিয়ান টিউবের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে কানে চাপ অনুভূত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো আরও গুরুতর হতে পারে।
- অনেকেই ভাবেন যে নাকের মাংস বৃদ্ধির একমাত্র সমাধান অপারেশন। তবে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে এবং এটা প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর।
তবে যাদের নাকের মাংস বেশি বেড়ে গেছে, তারা কিছু নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে স্বস্তি পেতে পারেন। মধু, আদা, হলুদ এবং রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রমণ কমানো সম্ভব। সেইসাথে ধুলোবালি ও অ্যালার্জির কারণগুলো এড়িয়ে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
নাকের মাংস বৃদ্ধি কেন হয়
নাকের মাংস বৃদ্ধি বা নাসাল পলিপাস সাধারণত নাকের অভ্যন্তরীণ টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে হয়। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে মূলত দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি, সংক্রমণ এবং প্রদাহ এই সমস্যার জন্য দায়ী।
- যাদের দীর্ঘদিন ধরে সাইনাসের সমস্যা বা অ্যালার্জিজনিত নাক বন্ধ থাকার সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে নাসাল পলিপাস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
- প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা হাঁপানিজনিত অ্যালার্জি। যখন নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি দীর্ঘ সময় ধরে প্রদাহগ্রস্ত থাকে, তখন নাকের টিস্যু ফুলে যায় এবং ধীরে ধীরে অতিরিক্ত মাংস বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ- দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিস, নাকের মাংস বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হতে পারে।
- এই সমস্যা হরমোনের পরিবর্তন ও বংশগত কারণেও দেখা দিতে পারে। যাদের পরিবারে কারও নাকের পলিপাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- আবার অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ এর প্রতি সংবেদনশীলতা থাকলেও নাকের মাংস বৃদ্ধি হতে পারে।
অনেকেই এই সমস্যার সমাধানে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা করার জন্য বিভিন্ন ওষুধ ও প্রাকৃতিক উপায় প্রয়োগে আগ্রহী থাকে। নিয়মিত বাষ্প গ্রহণ, নাক পরিষ্কার রাখা এবং অ্যালার্জির কারণগুলো এড়িয়ে চললে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
নাকের মাংস বৃদ্ধির হোমিও চিকিৎসা
প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নাকের মাংস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। হোমিও চিকিৎসা রোগীর শরীরের ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং প্রদাহ কমিয়ে নাকের মাংস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
- হোমিওপ্যাথিতে বেশ কিছু কার্যকর ওষুধ রয়েছে। যেমন Calcarea Carbonica যা সাধারণত নাক বন্ধ ও অতিরিক্ত মাংস বৃদ্ধির সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। Thuja Occidentalis একটি জনপ্রিয় হোমিও ওষুধ পলিপাস সংকোচন করতে সহায়ক।
- এছাড়া Sanguinaria Nitricum এবং Teucrium Marum Verum ওষুধ দুটি নাকের টিস্যু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবহৃত হয়।
- হোমিও চিকিৎসার মূল সুবিধা হলো এটি ধীরে ধীরে কাজ করলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। তবে এই চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় ধৈর্য ধরতে হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে ওষুধ নির্ধারণ করেন। যেটা আরও কার্যকর হতে পারে।
- অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি এড়াতে অনেকে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা করার জন্য হোমিওপ্যাথি একটি ভালো বিকল্প মনে করেন।
এই চিকিৎসার পাশাপাশি নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে নাকের মাংস বৃদ্ধির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নাকের পলিপাস এর ড্রপ এর নাম
নাকের পলিপাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্যতম কার্যকর ওষুধ হলো রেস্পিজেন নাজাল স্প্রে (Respizen Nasal Spray)। এটি একটি কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ। যা মূলত নাকের প্রদাহ, অ্যালার্জি এবং সংক্রমণজনিত সমস্যার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই স্প্রেটি নাসারন্ধ্রের ফোলা ও লালচে ভাব কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
যারা দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী। বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা করতে এসব স্প্রে ও ড্রপ ব্যবহার করা যায়। রেস্পিজেন নাজাল স্প্রে লোশন, ক্রিম এবং মলম আকারেও পাওয়া যায়। এটা ত্বকের প্রদাহ, সোরিয়াসিস এবং অন্যান্য চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ব্যবহার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। নাকের পলিপাসের চিকিৎসায় অন্যান্য স্টেরয়েড নাজাল স্প্রেও ব্যবহৃত হয়। যার মধ্যে রয়েছে মোমেটাসোন ফুরোট (Mometasone Furoate) ও ফ্লুটিকাসোন প্রোপিওনেট (Fluticasone Propionate)। এসব নাকের মাংস সংকোচনে কার্যকর।
নাকের মাংস বৃদ্ধি পেলে করণীয়
নাকের মাংস বৃদ্ধি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ এটি শ্বাসকষ্ট, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া এবং ক্রমাগত সর্দি-কাশির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নাকের মাংস বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা দিলে প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ ও ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
- নাসাল পলিপাস বা নাকের মাংস বৃদ্ধির মূল কারণ শনাক্ত করা প্রয়োজন। অ্যালার্জির কারণে হলে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান এড়িয়ে চলতে হবে।
- ধুলাবালি, ধোঁয়া ও অ্যালার্জিজনিত খাবার পরিহার করা উচিত। নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখা এবং লবণ পানির গার্গল করা নাকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ বা নাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা নাকের ভেতরের প্রদাহ কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। অনেক ক্ষেত্রে স্টেরয়েড স্প্রে বা ওষুধ কার্যকর হতে পারে। এটা নাকের মাংস স্বাভাবিক আকারে আনতে সাহায্য করে।
- নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিলে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা করা সম্ভব। হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্টিম থেরাপি বা বাষ্প গ্রহণ নাকের মাংস সংকোচনে সহায়ক হতে পারে।
- এছাড়া কিছু নাকের মাংস কমানোর ঘরোয়া উপায় অনেক উপকারে আসবে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন গরম পানির বাষ্প গ্রহণ করলে নাকের মাংস নরম হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক হতে পারে।
যদি সমস্যা গুরুতর হয়ে যায় এবং ঘরোয়া বা ওষুধের চিকিৎসায় উন্নতি না হয়, তাহলে অপারেশনই শেষ উপায় হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস চিকিৎসা তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।
আমাদের আজকের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে নাকের মাংস বৃদ্ধি কেন হয়, লক্ষণ, নাকের মাংস বৃদ্ধির হোমিও চিকিৎসা, নাকের পলিপাসের ড্রপ এর নাম, নাকের মাংস বৃদ্ধি পেলে করণীয় ও ঘরোয়া উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url