দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
.
ছত্রাক সংক্রমণে সংঘটিত দাদ চুলকানি সময়ে চিকিৎসা না নিলে ত্বকের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়
দাদ চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, যা ছত্রাক সংক্রমণের কারণে হয়। এটি শরীরের যে কোনো অংশে হতে পারে, তবে সাধারণত হাত, পা, পিঠ, ঘাড়, গলা, কোমর এবং আঙুলের ফাঁকে বেশি দেখা যায়। দাদ হলে আক্রান্ত স্থানে লালচে দাগ, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়, যা সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে দাদ চুলকানি সারানোর ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করা বেশ কার্যকর হতে পারে।
- অনেক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। এর মধ্যে অন্যতম হলো হলুদ ও নিমপাতা। হলুদে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়।
- নিমপাতাতেও রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান যা ছত্রাক বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। কয়েকটি নিম পাতা ভালো করে বেটে এর সঙ্গে এক চা চামচ হলুদ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে দাদ দ্রুত সেরে ওঠে। এটি ২০-৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- আরেকটি কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হলো লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা। লবঙ্গে শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে, যা দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে বেশ কার্যকর। এক চা চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা লবঙ্গ তেল মিশিয়ে দিনে দুইবার আক্রান্ত স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
- অনেক সময় প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান হিসেবে লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করা হয়। সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
- রসুনও দাদ চুলকানি কমাতে বেশ কার্যকর। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান ছত্রাক ধ্বংস করতে সাহায্য করে। কয়েকটি রসুন কোয়া বেটে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। তবে যদি ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালাপোড়া হয়, তাহলে এটি নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- আরেকটি জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায় হলো আপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডা ব্যবহার করা। অর্ধেক কাপ আপেল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করলে ফাঙ্গাস ধ্বংস হয় এবং ত্বকের অম্লীয় মাত্রা ঠিক থাকে।
- অনেক সময় সাধারণ নারকেল তেলও দাদ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন ২-৩ বার বিশুদ্ধ নারকেল তেল আক্রান্ত স্থানে লাগালে দাদ দ্রুত কমে যায়।
- অ্যালোভেরা জেল ত্বকের সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি আরাম দেয় এবং চুলকানি প্রশমিত করে। প্রতিদিন দুইবার অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে লাগালে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
- দইতে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা দাদের ফাঙ্গাস কমাতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক দই সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
তবে যদি ঘরোয়া উপায়ে দাদ পুরোপুরি না সারে বা সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ও ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম
তীব্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে দাদ চুলকানি থেকে দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের ক্রিমে সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে। যা ছত্রাক ধ্বংস করে এবং সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম পাওয়া যায়। যার মধ্যে কিছু অ্যালোপ্যাথিক এবং কিছু আয়ুর্বেদিক বা হারবাল উপাদানে তৈরি।
- সাধারণত ক্লোট্রিমাজল, মাইকোনাজল, টেরাবিনাফিন, কিটোকোনাজল এবং টলনাফটেট জাতীয় ওষুধযুক্ত ক্রিম ব্যবহৃত হয়। এসব উপাদান ফাঙ্গাস প্রতিরোধে কার্যকর এবং সংক্রমিত ত্বকে দ্রুত আরাম দেয়।
- বাজারে রিংগার্ড, রেক্সগার্ড, ফাঙ্গিটপ ও রেলিনগার্ড এই ধরনের অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম রয়েছে। পরিমাণমতো ক্রিম নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয় এবং এটি দিনে অন্তত দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। দাদ পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত অন্তত দুই সপ্তাহ নিয়মিত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।
- তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা প্রথমে অল্প পরিমাণে ক্রিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা তা বোঝা যায়।
- অনেক সময় শুধুমাত্র দাদ চুলকানি নিরাময়ের ক্রিম ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। সংক্রমণ পুরোপুরি দূর করতে হলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সংক্রমিত জায়গা শুকনো রাখা এবং সুস্থ জীবনযাত্রা মেনে চলা প্রয়োজন।
তাই শুধু ক্রিমের ওপর নির্ভর না করে পাশাপাশি দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করাও ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দাদ রোগ কি
দাদ রোগ বা টিনিয়া একটি সাধারণ ত্বক সংক্রমণ, যা সাধারণত ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়- পিঠ, পা, হাঁটু, গলা বা শরীরের অন্য কোনও স্থানে। দাদ রোগের সবচেয়ে প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকে গোলাকার বা আংটির মতো র্যাশ যা মাঝে মাঝে চুলকায় এবং কিছুটা লাল হয়ে যায়।
এটি সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে এবং ছত্রাকের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগটি প্রাথমিকভাবে মুলত শুকনো ত্বক বা আর্দ্র পরিবেশে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এই রোগটি প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ হতে পারে তবে ত্বকের সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে যদি উপযুক্ত চিকিৎসা না করা হয়।
দাদ রোগের উপসর্গ হিসাবে চুলকানি, ত্বক উঁচু হয়ে যাওয়া, শুষ্কতা, লালচে বা সাদা দাগ এবং মাঝে মাঝে ব্যথা হতে পারে। এই রোগটি শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে তবে সাধারণত যেসব স্থানে ঘাম বেশি হয়, সেখানে এটি বেশি দেখা যায়। যেমন পা, আন্ডারআর্ম বা শরীরের অন্য কোনও অংশে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ার মধ্যে এটি আরও প্রকট হয়।
দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় ব্যবহৃত সব উপাদানগুলি প্রাকৃতিকভাবে ছত্রাক দূর করতে সহায়ক এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া দাদ চুলকানি সারানোর ক্রিম বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। যা দ্রুত রোগের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।
দাদ এর লক্ষণ
দাদ রোগের লক্ষণ প্রথমে ত্বকের উপর গোলাকার বা আংটির মতো র্যাশের আকারে দেখা যায়। এটি সাধারণত লালচে, সাদা বা হালকা বাদামী হতে পারে এবং সময়ের সাথে এর আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথমে এটি ছোট আকারে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি আরও বড় হয়ে যায় এবং গণ্ডগোল সৃষ্টি করতে পারে। দাদ সাধারণত শরীরের ত্বকে এমন স্থানে হয় যেখানে ঘাম জমে থাকে বা যেখানে আর্দ্রতা থাকে। যেমন পা, আন্ডারআর্ম, কোমরের নিচে, গলার কাছে। এটি বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বৃদ্ধি পায়।
- দাদ রোগের সবচেয়ে প্রচলিত লক্ষণ হল ত্বকে চুলকানি।
- রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ত্বক সাধারণত খুবই চুলকায় এবং চুলকানোর কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ত্বকের রং পরিবর্তন হতে পারে এবং ত্বকে ক্ষত বা ফাটলও দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া ত্বক শুকনো হয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। এভাবে চুলকানোর ফলে ত্বকের উপর ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
- এছাড়াও দাদ রোগে আক্রান্ত স্থানে ত্বক ওঠে বা ক্ষতবিক্ষত হয়, যা পরে অন্য স্থানে ছড়িয়ে যেতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে র্যাশের ভিতরে পানি বা পুঁজ জমে যেতে পারে এবং এটি দাদকে আরও জটিল করে তোলে। এই অবস্থায় চুলকানি অনেক বেড়ে যায় এবং ত্বকে জ্বালা-পোড়া অনুভূতি হতে পারে।
দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় প্রয়োগে ছত্রাকের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় এবং ত্বককে শীতল ও আরামদায়ক রাখে।
দাদ হওয়ার কারণ কি
দাদ রোগের প্রধান কারণ হল ত্বকের উপর জন্ম নেয়া ছত্রাকের সংক্রমণ। এই ছত্রাকের নাম টিনিয়া এবং এটি বেশ কয়েকটি প্রকারে থাকতে পারে। যেমন টিনিয়া করপোরিস, টিনিয়া পেডিস, টিনিয়া কেপিটিস, ইত্যাদি। এই ছত্রাকগুলো ত্বকের কোষে প্রবেশ করে এবং তাদের মধ্যে প্রজনন শুরু করে দাদ রোগের সৃষ্টি করে। যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন না বা যাদের শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাদের মধ্যে দাদ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
- দাদ রোগ ছত্রাকের মাধ্যমে এক ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি সাধারণত ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে বা একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার করা পোশাক, তোয়ালে বা বিছানার চাদর ব্যবহার করলে ছড়ায়।
- আবার যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা এই রোগে দ্রুত আক্রান্ত হতে পারেন। শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিরা, যাদের শারীরিক অবস্থাও দুর্বল, তারা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
- সাধারণত অনেকেই দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় প্রয়োগে প্রাকৃতিকভাবে ছত্রাকের বৃদ্ধিকে কমায়। তার সাথে দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো দ্রুত উপসর্গগুলিকে কমাতে সহায়তা করে।
- দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিমগুলো সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান দিয়ে তৈরি। যা ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করে এবং ত্বককে দ্রুত সুস্থ করে তোলে। তবে যদি কোনো ব্যক্তি দাদ রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাদ হলে কি সাবান ব্যবহার করা যায়
দাদ রোগ হলে ত্বককে পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এতে ব্যবহৃত সাবান সঠিক ধরনের হতে হবে। সাধারণ সাবানগুলো ত্বককে আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। যা ছত্রাকের সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দাদ রোগে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা উচিত।
এই ধরনের সাবানগুলো ত্বকে ছত্রাকের বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের বিস্তার রোধ করে। আবার যেসব সাবানে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, টিনকোটিন বা অন্যান্য ছত্রাকনাশক উপাদান থাকে, সেগুলি দাদ রোগের জন্য কার্যকর। এমন সাবান ব্যবহার করলে ত্বক শুদ্ধ হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।
তবে সাবান ব্যবহারের পাশাপাশি ত্বককে আর্দ্র রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক ছত্রাকের সংক্রমণ বৃদ্ধি করতে পারে। দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে ভিনেগার বা নারিকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উপাদানগুলি প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের ছত্রাক দূর করতে সহায়তা করে।
এছাড়া ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য অতিরিক্ত ফ্রাগ্রান্ট সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এগুলি ত্বককে উত্তেজিত করতে পারে এবং চুলকানির সমস্যা বাড়াতে পারে।
দাদ হলে কি করা উচিত
দাদ রোগ হওয়ার প্রধান কারণ হল ছত্রাকের সংক্রমণ, বিশেষ করে টিনিয়া নামক ছত্রাকের কারণে। এই ছত্রাকটি ত্বকের উপর আক্রমণ করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। দাদ রোগ সাধারণত ত্বকের উপর গোলাকার বা আংটির মতো র্যাশের আকারে দেখা যায়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গরম ও আর্দ্র পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এটি এক ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, শরীরের আর্দ্রতা ও অপরিষ্কার ত্বক দাদ সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এজন্য যাদের শারীরিকভাবে অতিরিক্ত ঘাম হয় বা যারা দীর্ঘ সময় আর্দ্র পরিবেশে থাকেন, তাদের মধ্যে দাদ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন- খেলাধুলার পর ব্যায়াম করার সময় ঘাম সঞ্চিত হওয়া এবং খুব গরম আবহাওয়ায় বেশি সময় থাকা।
নারিকেল তেল বা তেজপাতা দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এগুলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করে। এছাড়া যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের মধ্যে দাদ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যেমন শিশু, বয়স্ক মানুষ, বা যাদের দীর্ঘকালীন অসুস্থতা রয়েছে।
তাছাড়া একসঙ্গে অপরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার, সঠিক পরিচ্ছন্নতা না বজায় রাখা, দাদ হওয়ার কারণ হতে পারে। ছত্রাকের সংক্রমণ রোধ করতে সহায়ক কিছু দাদ চুলকানি দূর করার ক্রিম বাজারে পাওয়া যায়। এসব ক্রিম দ্রুত রোগের উপসর্গ কমিয়ে এবং ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ক্রিম বা অন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে দাদ চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে দাদ রোগ কি, লক্ষণ, দাদ হওয়ার কারণ কি, দাদ হলে কি সাবান ব্যবহার করা যায়, দাদ হলে কি করা উচিত, এটা দূর করার ক্রিম এবং উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url