হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায়

হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, হার্ট এটাক এর পূর্ব লক্ষণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
হার্ট-অ্যাটাক-থেকে-বাঁচার-উপায়
হার্ট অ্যাটাক বর্তমানে একটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.

হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায়

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে হলে জীবনযাত্রার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সকলকে অবশ্যই হার্ট এটাক এর পূর্ব লক্ষণ গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেন আপনার আপনজন এবং আশপাশের লোকজন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।
  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা উচিত। ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। কারণ এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবর্তে প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত পানি পান করা উচিত। যা হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কোনো হালকা ব্যায়াম করতে হবে। যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।
  • ধূমপান ও মদ্যপান হার্টের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এগুলো ধমনীর পরিধি সংকুচিত করে এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে এই অভ্যাসগুলো পরিহার করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত ওজন হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত রক্তচাপ এবং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত এবং তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • মানসিক চাপ কমানোর জন্য পর্যাপ্ত ঘুম এবং মেডিটেশন করা প্রয়োজন। মানসিক চাপ হৃদযন্ত্রের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
  • আর পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কারণ ঘুম হার্টকে পুনরায় শক্তি দেয় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় অনুসরণ করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এই নিয়মগুলো মেনে চললে হার্ট অ্যাটাক থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

হার্ট এটাক এর পূর্ব লক্ষণ

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎ করেই ঘটে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীর কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ প্রকাশ করে। যা সময়মতো চিনতে পারলে জীবন রক্ষা করা সম্ভব। হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।
  • প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা বা চাপ অনুভব করা। এই ব্যথা হালকা থেকে তীব্র হতে পারে এবং এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে বা থেমে থেমে আসতে পারে। অনেক সময় এই ব্যথা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। যা হার্টের সমস্যার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
  • শ্বাসকষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। যা অনেক সময় বুকের ব্যথার সঙ্গে বা আলাদাভাবে দেখা যায়। সামান্য পরিশ্রমেই দম নিতে কষ্ট হওয়া বা শ্বাসের সংকট অনুভব করা হার্ট অ্যাটাকের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।
  • অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া, বিশেষ করে বিনা কারণে প্রচণ্ড ঘাম হলে সেটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় রোগীরা বমি বমি ভাব, হজমে সমস্যা বা তীব্র ক্লান্তি অনুভব করেন। যা সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ভুল হতে পারে।
  • মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হার্টের রক্ত সরবরাহে বাধার কারণে হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে চোয়াল ও পিঠের ব্যথা, ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরার লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় হলো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক কত প্রকার

হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction) একাধিক প্রকারের হতে পারে। যা সাধারণত একিউট করোনারি সিনড্রোম (ACS) এর অন্তর্ভুক্ত। মূলত হার্ট অ্যাটাক পাঁচ ধরনের হতে পারে।

STEMI (ST-segment Elevation Myocardial Infarction): এটি সবচেয়ে গুরুতর ধরণের হার্ট অ্যাটাক, যেখানে হার্টের একটি প্রধান ধমনী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। ইসিজি (ECG)-তে ST-segment-এর উচ্চতা দেখা যায়, যা হার্টের মারাত্মক ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের অ্যাটাকে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, যেমন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি।

NSTEMI (Non-ST-segment Elevation Myocardial Infarction): এই ধরনের হার্ট অ্যাটাকে করোনারি ধমনীর আংশিক ব্লকেজ হয়। যদিও ST-segment-এর উচ্চতা দেখা যায় না, তবে হার্টের কিছু অংশ অক্সিজেনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনজাইম টেস্ট ও ইসিজির মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা হয়।

করোনারি আর্টারি স্প্যাজম (Prinzmetal’s Angina): এটি একটি বিরল ধরণের হার্ট অ্যাটাক, যেখানে ধমনী কোনো স্থায়ী ব্লকেজ ছাড়াই হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি সাধারণত ধূমপান, স্ট্রেস বা শীতল আবহাওয়ার কারণে হতে পারে এবং নাইট্রোগ্লিসারিন বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

স্থিতিশীল এনজাইনাঃ এটি তখন ঘটে যখন হৃদপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, কিন্তু এটি সাময়িক এবং সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় ঘটে। এই ধরনের হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় হলো বিশ্রাম নিতে হবে বা ওষুধ খেলে ব্যথা কমে যায়।

অস্থির এনজাইনাঃ এটি হার্ট অ্যাটাকের একটি বিপজ্জনক ধরণ, যেখানে বুকের ব্যথা অনিয়মিতভাবে ঘটে এবং বিশ্রাম নিলেও কমে না। এটি আসন্ন হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এই পাঁচ ধরনের হার্ট অ্যাটাকের প্রতিটি চিকিৎসার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

হার্ট অ্যাটাক কেন হয়

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত তখনই ঘটে যখন হৃদপিণ্ডের অন্যতম প্রধান ধমনীর মধ্যে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়। যার ফলে হৃদপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এটি হৃদপেশির কোষগুলোর মৃত্যু ঘটায়। যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদপিণ্ডের ধমনীগুলোর সংকীর্ণতা এবং ব্লকেজ হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ। অনেক সময় হার্ট এটাক এর পূর্ব লক্ষণ দেখে রোগ সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হয়না।

প্রধানত ধমনীর মধ্যে প্লাক (চর্বি, কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ) জমে গিয়ে ব্লকেজ সৃষ্টি করে। যা রক্ত প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। কখনো কখনো এই প্লাক ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেটা সম্পূর্ণভাবে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। যদি হৃদপিণ্ড পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন না পায়, তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যেই হার্টের কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে। যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। উচ্চ রক্তচাপ ধমনীগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। যা ধীরে ধীরে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সংকুচিত করে ফেলে। একইভাবে ডায়াবেটিস রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। যা রক্তনালীর প্রাচীরকে দুর্বল করে দিতে পারে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় কমতে থাকে।

ধূমপান হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এতে থাকা নিকোটিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ধমনীগুলোর সংকোচন ঘটায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার ধমনীর মধ্যে কোলেস্টেরল জমিয়ে ব্লকেজের সৃষ্টি করতে পারে।

শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও হার্ট অ্যাটাকের একটি প্রধান কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। যেটা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে বংশগত কারণও হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী হতে পারে। যদি কারও পরিবারে পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে তার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাছাড়াও অ্যালকোহল সেবন, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ থাকাও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

এসব কারণগুলি একত্রে বা পৃথকভাবে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করা দরকার। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

যদি কেউ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন, তবে হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় অবলম্বন করতে হবে। আর এর জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে রোগীকে শান্ত রাখতে হবে এবং তাকে বসিয়ে দিন। যাতে সে কম উত্তেজিত থাকে। এর পর যদি রোগীর চিকিৎসকের অনুমোদন থাকে, তাকে একটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট চিবিয়ে খেতে দিন।

এটি রক্ত পাতলা করে ও ব্লকেজ কমাতে সহায়তা করে। রোগী যদি শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন তবে তাকে অক্সিজেন দিতে হবে। কারণ এটি হার্টে অক্সিজেনের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করে। যদি রোগীর হার্ট স্পন্দন কম থাকে, তখন সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) করতে হবে। বুকের মাঝখানে চাপ দিয়ে রক্ত প্রবাহ সচল রাখা যায়।

তবে এসব পদক্ষেপ খুবই প্রাথমিক চিকিৎসা। তাই রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে হার্টের ক্ষতি কমানো এবং রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। হাসপাতাল পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা হয়। যেমন থ্রমবোলাইসিস বা এনজিওপ্লাস্টি। যা হার্ট অ্যাটাকের প্রকৃত চিকিৎসা প্রদান করে।

মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ

মেয়েদের হার্টের সমস্যা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় অনেক সময় আলাদা উপসর্গে প্রকাশিত হয়। যা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে তাদের হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণগুলো অনেক সময় অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সাথে মিলতে পারে। ফলে সঠিকভাবে সনাক্ত করা হয় না। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো:

অস্বাভাবিক ক্লান্তিঃ মেয়েরা অনেক সময় কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন। যা বিশ্রামের পরও কমে না। এটি হার্টের সমস্যার পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
বুকের অস্বস্তি। সাধারণত মেয়েরা বুকের ব্যথা অনুভব না করে, এর পরিবর্তে বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া বা চাপ অনুভব করেন। এই চাপ বা অস্বস্তি হৃদরোগের সংকেত হতে পারে।

বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যাঃ অনেক সময় মেয়েরা হার্টের সমস্যার পূর্বে হজমের সমস্যা বা বমি বমি ভাব অনুভব করেন। যা প্রথমে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এটি হার্টের সমস্যা হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনঃ মেয়েরা হাঁটাহাঁটি বা সামান্য পরিশ্রম করার সময় শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করতে পারেন। আর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।

অবশেষে পিঠ, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথাঃ মেয়েদের ক্ষেত্রে পিঠ, ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যা পুরুষদের ক্ষেত্রে তেমন থাকে না।

এই লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ হার্টের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা হলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয়

যদি বুঝতে পারেন হার্ট এটাক এর পূর্ব লক্ষণ অনুযায়ী আপনি বা আপনার আশেপাশে কেউ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। তাহলে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমে লক্ষণগুলো চিনে সতর্ক থাকুন। হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণগুলো যেমন বুকের তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হাত বা ঘাড়ে ব্যথা ইত্যাদি দ্রুত চিহ্নিত করুন।

এরপর তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে ১০০ নম্বরে কল করুন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। নিজের গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ হার্ট অ্যাটাকের অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হার্ট অ্যাটাকের পর সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা জীবনের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও অপরিহার্য। এটি হার্টের সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো আমাদের হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। নিয়মিত চেকআপ এবং সচেতনতা আমাদের হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে হার্ট অ্যাটাক কত প্রকার, লক্ষণ, হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা এবং করণীয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url