বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ

বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, বাচ্চা না ঘুমালে কি করনীয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
বাচ্চাদের-ঘুমের-মধ্যে-ঝাকুনি-কিসের-লক্ষণ
বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি হওয়া অনেক বাবা-মায়ের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.

বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ

অনেক সময় শিশুরা ঘুমের মধ্যে হাত-পা ঝাঁকায়, হঠাৎ করে শরীর কেঁপে ওঠে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে নড়াচড়া করে। সাধারণত এটি শিশুর বিকাশের একটি অংশ হতে পারে। তবে কখনও কখনও এটি বিশেষ কোনো শারীরিক বা স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
  • মায়োক্লোনিক জার্কস নামক একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার কারণে শিশুরা ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি অনুভব করে। এটি ঘুমের শুরুর ধাপে ঘটে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক। তবে যদি বাচ্চার ঝাঁকুনি খুব বেশি হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা এর সাথে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। তাহলে এটি নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারের ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো REM Sleep Behavior Disorder। এটি তখন ঘটে যখন শিশুর মস্তিষ্ক স্বপ্ন দেখা ও বাস্তব নড়াচড়ার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে শিশু ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছুঁড়তে পারে বা ঝাঁকুনি দিতে পারে।
  • এছাড়া অতিরিক্ত উত্তেজনা বা ক্লান্তি থাকলেও বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি হতে পারে।
  • সারাদিন খুব বেশি খেলা করা, টিভি দেখা বা মোবাইল ব্যবহারের কারণে তাদের স্নায়ুব্যবস্থা উত্তেজিত হয়ে ঘুমের সময় শরীরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি করতে পারে।
  • ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব শিশুদের ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে।
  • যদি বাচ্চার ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি খুব বেশি হয়, ঘন ঘন হয় বা সাথে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যায় মানে শিশুর খিঁচুনি, জ্বর বা অস্বাভাবিক আচরণ থাকে, তাহলে অবহেলা করা উচিত নয়। তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বাচ্চা যদি ভালোভাবে না ঘুমায় বা ঘুমের সমস্যা হয়, তাহলে বাচ্চা না ঘুমালে যেসব করনীয় সেই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যাতে শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক রুটিন বজায় থাকে এবং তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়।

বাচ্চা না ঘুমালে কি করনীয়

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চারা যদি রাতে না ঘুমায় বা ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে ওঠে, তাহলে এটি তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ, আবেগীয় উন্নতি এবং স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাচ্চা না ঘুমালে করনীয় যাবতীয় বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করানো হলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয়। ঘুমের আগে বই পড়া, মৃদু গান শোনানো বা গল্প বলা তাকে মানসিকভাবে শিথিল করতে সাহায্য করে।
  • বাচ্চা ঘুমানোর সময় ঘরের আলো কমিয়ে রাখা, অতিরিক্ত শব্দ এড়ানো এবং নরম ও আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করা শিশুর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে।
  • অনেক সময় শিশুরা অতিরিক্ত উত্তেজনা বা ক্লান্তির কারণে ঘুমাতে পারে না। তাই শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত।
  • এছাড়া শিশু রাতে ভারী খাবার খেলে বা অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার খেলে ঘুমে সমস্যা হতে পারে। দুধ, কলা বা হালকা খাবার শিশুকে ঘুমাতে সাহায্য করে।
  • যদি শিশু ঘুমাতে না চায় তবে তার সঙ্গে শারীরিক সংযোগ বজায় রাখা দরকার। অনেক সময় মা-বাবার আদর বা সান্নিধ্য শিশুকে আরামদায়ক অনুভূতি দেয়, যা ঘুমের জন্য উপকারী।
  • যদি শিশু দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমাতে না চায়, অস্বাভাবিক আচরণ করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ এর ইঙ্গিত হতে পারে তা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিরীক্ষণ করা দরকার।
সঠিক ঘুমের অভ্যাস শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাবা-মায়ের উচিত ধৈর্য ধরে সঠিক পদ্ধতিতে শিশুর ঘুমের রুটিন তৈরি করতে হবে।

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে কান্না করে কেন

অনেক বাবা-মা তাদের শিশুকে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কান্না করতে দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন। এটি সাধারণত ছোট শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
  • ঘুমের ঘোরে আতঙ্কিত হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ঘটে। এই অবস্থায় বাচ্চারা হঠাৎ করে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে।
  • পেটের গ্যাসের সমস্যা শিশুদের কান্নার অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
  • এছাড়া শারীরিক অসুবিধা বা ব্যথা থাকলেও বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে কাঁদতে পারে। দাঁত উঠার সময়, কানে ব্যথা বা কোনো ধরনের অসুস্থতার কারণে শিশুরা রাতে অস্থির হয়ে পড়ে।
  • কখনও কখনও দুঃস্বপ্ন বা মানসিক চাপের কারণে বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে কান্না করতে পারে।
  • অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা অস্বস্তিকর ঘুমের পরিবেশ শিশুর শান্ত ঘুম ব্যাহত করায় তারা কেঁদে ওঠে।
  • যদি শিশু ঘন ঘন ঘুমের মধ্যে কাঁদে, তবে বাবা-মায়ের উচিত তার ঘুমের রুটিন ও দৈনন্দিন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা। আর এর সাথে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ যুক্ত হলে এটি স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া যদি শিশুর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাচ্চা না ঘুমালে কি করনীয় এই বিষয়গুলো অনুসরণ করে তাকে ঘুমাতে সহায়তা করা যেতে পারে।

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে চমকে উঠে কেন

অনেক বাবা-মা লক্ষ্য করেন যে তাদের শিশু ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চমকে ওঠে বা হাত-পা ছুঁড়ে দেয়। এটি সাধারণত নবজাতক ও ছোট শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক।
  • মোরো রিফ্লেক্স নবজাতকদের মধ্যে সাধারণ একটি প্রতিক্রিয়া। যখন শিশু কোনো আকস্মিক শব্দ বা স্পর্শ অনুভব করে, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে চমকে ওঠে। এটি শিশুর জন্মগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।
  • REM ঘুমের এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। ফলে কিছু বাচ্চা হঠাৎ নড়াচড়া করে বা চমকে ওঠে।
  • এছাড়া সারাদিন খুব বেশি খেলা করা, মোবাইল বা টিভি দেখা বা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে শিশুর মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়। ফলে ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই চমকে ওঠতে পারে।
  • শরীরে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে শিশুর পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়ে ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক চমকানোর কারণ হতে পারে।
  • কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সমস্যা বা খিঁচুনির লক্ষণ হিসেবে শিশুরা ঘুমের মধ্যে বারবার চমকে ওঠে। যদি এই চমকানো খুব বেশি হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা এর সাথে শ্বাসকষ্ট, কান্না বা খিঁচুনি দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে।
  • যদি হঠাৎ কোনো উচ্চ শব্দ হয় বা আলো পরিবর্তন ঘটে, তবে শিশু সহজেই চমকে উঠতে পারে।
তবে চমকে ওঠার সমস্যা বেশি হলে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। কারণ অনেক সময় এটি বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়, সেটা শরীরের স্নায়ুবিক বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাবা-মায়ের উচিত শিশুর ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা

বাচ্চাদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় বাবা-মায়েরা অভিযোগ করেন যে তাদের শিশু ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে না, মাঝরাতে বারবার জেগে উঠছে বা ঘুমানোর সময় অস্বস্তি প্রকাশ করছে। বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে এবং এটি তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • ঘুমের রুটিনের অভাব অনেক শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। যদি শিশুকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে অভ্যস্ত না করানো হয়, তবে সে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাতে অসুবিধা অনুভব করবে।
  • অতিরিক্ত উত্তেজনা বা দুশ্চিন্তা শিশুর ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। সারাদিনে অনেকক্ষণ খেলা করা, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার বা নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার ফলে শিশুর মস্তিষ্ক অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
  • শারীরিক অসুবিধাও বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যার অন্যতম কারণ। দাঁত উঠা, পেটের গ্যাস, কানের ব্যথা বা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে শিশুর ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
  • এছাড়া যদি শিশুর ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি হয়, তবে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • পরিবেশগত কারণ যেমন অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা অস্বস্তিকর ঘুমের পরিবেশ শিশুর আরামের ঘুম বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই ঘুমের সময় ঘর শান্ত ও আরামদায়ক রাখা জরুরি।
যদি শিশুর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাবা-মায়ের বাচ্চা না ঘুমালে কি করনীয় এই বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা, ঘুমানোর আগে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং খাবারের ব্যবস্থা করা শিশুর ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।

বাচ্চাদের ঘুম বেশি হওয়ার কারণ

সাধারণত নবজাতক ও ছোট শিশুদের বেশি ঘুমানো স্বাভাবিক। কারণ এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি বাচ্চা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘুমায়, সারাদিন ক্লান্ত অনুভব করে বা খেলাধুলায় আগ্রহ হারায়। তাহলে এটি কিছু নির্দিষ্ট কারণের ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী ঘুমের চাহিদা আলাদা। নবজাতকরা দিনে ১৪-১৭ ঘণ্টা ঘুমাতে পারে যেটা ধীরে ধীরে কমে ১০-১২ ঘণ্টায় আসে। তবে কিছু শিশু স্বভাবগতভাবে বেশি ঘুমাতে পারে, যা স্বাভাবিক হতে পারে।
  • শারীরিক ক্লান্তি বা রোগ শিশুদের বেশি ঘুমাতে বাধ্য করতে পারে। যদি শিশু অসুস্থ থাকে, জ্বর, ক্ষত বা শারীরিক দুর্বলতা থাকে, তাহলে সে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমাতে পারে।
  • এছাড়া আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টির অভাব শিশুর শরীরে দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে সে অতিরিক্ত ঘুম অনুভব করতে পারে।
  • আবার কখনও ঘুমের ব্যাঘাত বা রাতের ঘুমের অভাব শিশুকে দিনের বেলায় বেশি ঘুমানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। যদি রাতের ঘুম পর্যাপ্ত না হয়, তবে শিশু দিনে বেশি ঘুমিয়ে তা পূরণ করার চেষ্টা করে।
  • যদি শিশুর ঘুমের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি দেখা যায়, তবে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ সেটা পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
বাচ্চা যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘুমায় এবং তাতে তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ বা খেলার ইচ্ছা কমে যায়। তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাচ্চাদের ঘুম না হওয়ার কারণ

অনেক শিশু ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না বা ঘুমালেও বারবার জেগে ওঠে। এটি বাবা-মায়ের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • অতিরিক্ত উত্তেজনা বা মানসিক চাপ শিশুর ঘুমের প্রধান বাধা হতে পারে। সারাদিন বেশি মোবাইল বা টিভি দেখা, খেলা করা এজাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার ফলে শিশুর মস্তিষ্ক উত্তেজিত হয়ে ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করে।
  • অনিয়মিত ঘুমের রুটিন শিশুর ঘুমের অভ্যাস নষ্ট করতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে না গেলে শিশুর শরীর ও মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে ঘুম আসতে দেরি হয়।
  • শারীরিক অসুবিধাও ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে। পেট ব্যথা, গ্যাসের সমস্যা, দাঁত ওঠা বা কানের ব্যথা থাকলে শিশু অস্বস্তিতে থাকে এবং সহজে ঘুমাতে পারে না।
  • পুষ্টির অভাব বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে শিশুর পেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। ফলে ঘুমে সমস্যা দেখা দেয়।
  • অনেক সময় এর থেকে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ এর দিকে যেতে থাকে তা অভিভাবকদের জন্য বিপদজনক ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • ঘুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর হলে শিশুর ঘুম ব্যাহত করতে পারে। তাই শিশুর ঘর শান্ত ও আরামদায়ক রাখা জরুরি।
  • যদি শিশুর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাবা-মায়ের বাচ্চা না ঘুমালে কি করনীয় তা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
  • নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করে ভারী খাবার এড়ানো উচিত। ঘুমানোর আগে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করলে শিশুর ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
শিশুর স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাবা-মায়ের উচিত শিশুর ঘুমের সমস্যা নিরীক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি কিসের লক্ষণ তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।

সাথেই আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে বাচ্চা ঘুমের মধ্যে চমকে উঠে কেন, কান্না করে কেন, বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা, ঝাকুনি কিসের লক্ষণ ও করণীয়, বাচ্চাদের ঘুম না হওয়ার কারণ এবং বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url