ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি
ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, ম্যালেরিয়া কি ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
ম্যালেরিয়া একটি মারাত্মক রোগ। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.
ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি
ম্যালেরিয়া নামক মারাত্মক রোগটি যা প্লাজমোডিয়াম নামক একধরনের পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই পরজীবী সাধারণত অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তে বিস্তার লাভ করে। এই রোগ সৃষ্টির জন্য পাঁচটি প্রধান প্লাজমোডিয়াম পরজীবী দায়ী। এগুলো হলো-
- Plasmodium falciparum: এটি সবচেয়ে মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী ধরনের ম্যালেরিয়া সৃষ্টি করে।
- Plasmodium vivax: এটি অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হলেও দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
- Plasmodium ovale: এটি Plasmodium vivax-এর মতো কাজ করে, তবে অপেক্ষাকৃত বিরল।
- Plasmodium malariae: এটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ ঘটায় কিন্তু সাধারণত কম গুরুতর হয়।
- Plasmodium knowlesi: এটি মূলত বানরের মধ্যে পাওয়া যায়, তবে মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্লাজমোডিয়াম সংক্রমণ ঘটায়। বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলে Plasmodium falciparum সংক্রমণের হার বেশি এবং এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী। অন্যদিকে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় Plasmodium vivax সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করার পর রক্তের লোহিত কণিকা ধ্বংস করতে শুরু করে। এর ফলে রোগী উচ্চ জ্বর, শীতল কম্পন, মাথাব্যথা, বমি, অতিরিক্ত ঘাম এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ অনুভব করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে মশা দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মশারি ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ম্যালেরিয়া কি ছোঁয়াচে রোগ
ম্যালেরিয়া একটি সংক্রামক রোগ, তবে এটি সরাসরি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না। এটি মূলত অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। যা প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবী বহন করে। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি, এর উত্তরে বলা যায়, এটি Plasmodium নামের পরজীবী। যেটি মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং লোহিত রক্তকণিকাকে সংক্রমিত করে।
এই রোগটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট রোগগুলোর মতো একজন মানুষ থেকে আরেকজনের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি বা ছোঁয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। কেউ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে, তার শারীরিক স্পর্শ করে বা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করে, তাতেও সংক্রমণ ঘটবে না।
তবে যদি কোনো মশা ম্যালেরিয়াগ্রস্ত ব্যক্তির রক্ত শোষণ করে এবং পরে সুস্থ ব্যক্তিকে কামড় দেয়, তখন সে ব্যক্তিও সংক্রমিত হতে পারে। ম্যালেরিয়া ছড়ানোর একটি বিশেষ ক্ষেত্র রক্ত সঞ্চালন এবং ব্যবহৃত সূঁচের মাধ্যমে হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং তার রক্ত কোনো সুস্থ ব্যক্তির দেহে স্থানান্তর করা হয়, তবে তারও ম্যালেরিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাছাড়া সংক্রমিত মায়ের গর্ভস্থ শিশুও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। যাকে কংজেনিটাল ম্যালেরিয়া বলা হয়। তবে এই ধরনের সংক্রমণ খুবই বিরল। অনেকে মনে করেন ম্যালেরিয়া সহজেই একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায়। যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি কোনো শ্বাসযন্ত্রজনিত বা যৌন সংক্রমিত রোগ নয়, একমাত্র মশার মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়।
তাই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য মশা নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মশারি ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি তা সম্পর্কে আপনারা ধারণা পেয়েছেন। যা একমাত্র সংক্রমিত মশার মাধ্যমেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবে এটি প্রতিরোধে সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ
ম্যালেরিয়া একটি জটিল এবং প্রাণঘাতী রোগ, যার লক্ষণগুলি রোগীর শরীরের উপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবী দ্বারা এর সৃষ্টি হয়। যা অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ধারণা বুঝতে সাহায্য করে যে এই রোগটি রক্তের লোহিত কণিকা ধ্বংস করে এবং রোগীকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে।
ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলো উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর। রোগী প্রথমে শীতল কম্পন অনুভব করে এবং তারপর জ্বর তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি প্রায়ই এমনভাবে ঘটে যে রোগী একে একে তীব্র শীতলতা, জ্বর এবং অতিরিক্ত ঘাম অনুভব করে। এই লক্ষণগুলি প্রায়ই ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার পর পর ফিরে আসে। কারণ প্লাজমোডিয়াম পরজীবী রক্তকণিকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতি করে।
অন্য একটি সাধারণ লক্ষণ হলো মাথাব্যথা এবং গা ঘোরানো। রোগী অস্বস্তি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তির অনুভূতি পায়। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও ব্যথা হতে পারে। বমি এবং বমির অনুভূতি ম্যালেরিয়া রোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। রোগী খাবার খেতে চাই না এবং সাধারণভাবে পেটের সমস্যায় ভুগতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে, যখন এটি গুরুতর হয়ে ওঠে। রক্তের ঘাটতি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে রক্তের দাগ, চোখের পলক ধীরে ধীরে পড়ে যাওয়া এবং পেটের সমস্যা যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এই পর্যায়ে রোগী অবচেতন অবস্থায় চলে যেতে পারে এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে প্রাণনাশক হতে পারে।
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সরাসরি সংক্রমণ ঘটায় না। তবে মশার মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়াতে পারে, তাই এটি প্রতিরোধে মশার দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু সম্পর্কে জানা থাকলে, রোগের লক্ষণগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্মক হতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় [ পরীক্ষা-নিরিক্ষা ]
ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, যা চিকিৎসককে সঠিক রোগ নির্ধারণে সহায়তা করে। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি, তা জানা থাকলে নির্ণয়ের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়। প্লাজমোডিয়াম পরজীবী, যা ম্যালেরিয়া রোগের কারণ, এটি রক্তের লোহিত কণিকা ধ্বংস করে এবং শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করে।
এই পরজীবী শরীরে উপস্থিত হলে নির্দিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা সনাক্ত করা যায়। ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরজীবী শনাক্ত করা। রোগীর রক্তের স্যাম্পল নিয়ে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এটি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় রক্তে প্লাজমোডিয়াম পরজীবী দেখতে পাওয়া গেলে রোগী ম্যালেরিয়া আক্রান্ত বলে ধরা হয়।
এই রক্ত পরীক্ষা সাধারণত দুই ধরণের হয়- স্লাইড টেস্ট এবং রেপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট। স্লাইড টেস্টে রক্তের স্যাম্পল মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয় এবং পরজীবী শনাক্ত করা হয়। রেপিড ডায়াগনস্টিক টেস্টে একটি বিশেষ ধরনের কিট ব্যবহার করে রক্তে পরজীবীর উপস্থিতি দ্রুত পরীক্ষা করা হয়। অন্য একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নির্ণয় করা হয়।
সেটি হলো ডেংগু টেস্ট, যা রক্তের কোষের সংখ্যা পরিমাপ করে। এই পরীক্ষায় রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং হিমাটোক্রিট মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ম্যালেরিয়া রোগের উপস্থিতি চিহ্নিত হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা যেমন টাকার টেস্ট বা পারাসাইটোলজি পরীক্ষা করেও ম্যালেরিয়া নির্ণয় করা যেতে পারে।
ম্যালেরিয়া কি ছোঁয়াচে রোগ নয়, তাই সরাসরি রোগীর শ্বাস, কাশি বা শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না। তবে মশার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। তাই রোগী মশার কামড় থেকে বাঁচতে বিশেষ যত্ন নিতে হয়। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু সম্পর্কে ধারণা থাকলে পরীক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক স্যাম্পল গ্রহণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত নির্ণয় করা সহজ হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ম্যালেরিয়া রোগের কারণ কী
ম্যালেরিয়া একটি প্রাচীন এবং প্রাণঘাতী রোগ, যার প্রধান কারণ হলো প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবী। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি সম্পর্কে আলোচনায় আসে এই অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে জীবাণুটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মশা ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শোষণ করলে প্লাজমোডিয়াম পরজীবী মশার শরীরে প্রবাহিত হয়। পরে এই পরজীবী মশার মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে।
- ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান কারণ হলো এই পরজীবীর সংক্রমণ। যা রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।
- ম্যালেরিয়া রোগটি শুধুমাত্র মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয় অর্থাৎ একজন মানুষের শ্বাস বা শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না। ম্যালেরিয়া কি ছোঁয়াচে রোগ নয় তা নিয়ে সংশয় আর থাকার কথা নয়। এজন্য এই মশা দমন ও প্রতিরোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
- প্লাজমোডিয়াম পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে রক্তের লোহিত কণিকাগুলির মধ্যে প্রবাহিত হয় এবং তাদের ধ্বংস করতে শুরু করে। এর ফলে রক্তের অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। যার ফলে রোগী তীব্র শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি অনুভব করতে পারে। এই পরজীবী মানুষের শরীরে বসবাসের সময় রক্তের ঘাটতি, তীব্র জ্বর, শীতলতা এবং অন্যান্য উপসর্গ সৃষ্টি করে, যা ম্যালেরিয়ার প্রধান লক্ষণ।
- ম্যালেরিয়া ছড়ানোর জন্য বিশেষ কিছু পরিবেশের প্রয়োজন। যেমন গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু। যেখানে অ্যানোফিলিস মশা বেশিরভাগ সময় প্রজনন করে। তাই যেসব অঞ্চলে মশার উপদ্রব বেশি, সেগুলোতে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম জানলে এটির চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহজ করা যায়। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হলে এই রোগটি নিরাময়যোগ্য।
ম্যালেরিয়া হলে কি খাবার খাওয়া উচিত
ম্যালেরিয়া হলে রোগীর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাকে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয় যাতে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি জেনে নিন। এবার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ম্যালেরিয়া রোগীকে সঠিক সময়ে প্রচুর পানি, ফলের রস এবং স্যুপ খাওয়া উচিত।
যাতে শরীরের পানির অভাব পূর্ণ হয় এবং রক্তে জমাট বাঁধার সমস্যা এড়ানো যায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল- কমলা, আমলকি, আনারস রোগীর শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া হালকা খাবার যেমন পাউরুটি, সেদ্ধ ভাত, সুজি বা মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে শক্তির ঘাটতি থাকে। তাই তাকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার- ডাল, মাছ, মুরগি, দুধ খেতে দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া মেথি, আদা, হলুদ এবং তেলাপিয়া মাছের মতো খাবারও রোগীর জন্য উপকারী। ম্যালেরিয়া ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার বা পাত্রের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। রোগী যতটা সম্ভব সহজ এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে পারলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
ম্যালেরিয়া রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা
ম্যালেরিয়া রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা জরুরি। কারণ এটি সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক হতে পারে। ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি প্লাজমোডিয়াম জানা প্রয়োজন। এটি শরীরে প্রবেশ করার পর রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করে। প্রথমে ম্যালেরিয়া রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি এবং শক্তি বর্ধক খাবার দেওয়া উচিত।
এরপর সঠিক ওষুধ গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যালেরিয়া চিকিৎসার জন্য সাধারণত অ্যামোকুইন, চিক্লোলোকুইন এবং আর্থ্রেমিসিনিন প্রণালী ব্যবহার করা হয়। রোগীর শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করা হয়। যদি রোগী খুবই অসুস্থ হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বর থাকে, তবে হাসপাতালে ভর্তি করা হতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন, রোগীকে দ্রুত শীতলতা ও জ্বর কমানোর জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়। কখনও কখনও ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীর বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইনজেকশনও দেয়া হতে পারে। ম্যালেরিয়া কি ছোঁয়াচে রোগ নয়, তাই রোগীকে যত্ন নেওয়ার সময় অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর কোন আশঙ্কা নেই।
তবে মশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা ও সময়মতো প্রতিকার গ্রহণে ম্যালেরিয়া রোগের সুস্থতার হার অনেক বেশি। সঠিক চিকিৎসা না হলে, ম্যালেরিয়া মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন: মস্তিষ্কের সংক্রমণ, কিডনি সমস্যা, এবং শক অবস্থার সৃষ্টি।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর নাম কি তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ, কারণ, ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়, ম্যালেরিয়া রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং খাবার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url