বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায়
বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
যদি কোনো মা শিশুকে বুকের দুধ ছাড়ানোর পরিকল্পনা করেন তবে ধাপে ধাপে করা উচিত। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.
বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায়
অনেক মা একটি নির্দিষ্ট সময় পরে বুকের দুধ বন্ধ করতে চান, বিশেষ করে যখন তাদের বাচ্চারা ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবারের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যায়। বুকের দুধ শুকানোর জন্য ওষুধের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে অনেকেই ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন, যা স্বাস্থ্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। নিচে কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো।
- বুকের দুধ শুকানোর জন্য ধাপে ধাপে কমানো সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। হঠাৎ করে দুধ বন্ধ করলে স্তনে ব্যথা হতে পারে এবং মা শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তাই প্রতিদিন ধীরে ধীরে খাওয়ানোর সংখ্যা কমাতে হবে। এতে দুধের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে।
- শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পেলে দুধ উৎপাদন বাড়তে পারে। তাই দৈনিক পানির পরিমাণ একটু কমিয়ে দিলে দুধ তৈরি ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে পানি একেবারে বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ এটি শরীরের অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
- পুদিনা এবং পার্সলে দুটোই প্রাকৃতিকভাবে বুকের দুধ কমাতে সাহায্য করে। পুদিনার চা বা পার্সলে চা পান করলে দুধ উৎপাদন কমে আসে। অনেক মা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং ভালো ফল পান।
- বুকের দুধ শুকাতে বাঁধাকপির পাতার ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। ঠাণ্ডা বাঁধাকপির পাতা স্তনের ওপর লাগিয়ে রাখলে দুধ উৎপাদন কমতে শুরু করে। এটি স্তনের ফুলে যাওয়া ও ব্যথাও কমাতে সহায়তা করে।
- কিছু নির্দিষ্ট খাবার বুকের দুধ উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে- মেন্থল, পুদিনা, পার্সলে, ভুট্টা ও জোয়ান। তাই এই খাবারগুলো খেলে দুধ স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে পারে।
- খুব বেশি ঢিলা বা খুব টাইট পোশাক পরলে স্তনের দুধ তৈরি হতে পারে বেশি। তাই বুকের দুধ শুকানোর উপায় হিসেবে আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। এই ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করলে নিরাপদভাবে বুকের দুধ শুকানো সম্ভব।
বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা
বাচ্চার সুস্থ বিকাশ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের মতে, শিশুর প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত একমাত্র খাবার হিসেবে মায়ের দুধই যথেষ্ট। এ সময়ে কোনো অতিরিক্ত পানি, ফর্মুলা দুধ বা শক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না।
মায়ের দুধে বিদ্যমান প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, অ্যান্টিবডি এবং ভিটামিন শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ছয় মাস পর থেকে শিশুর জন্য পরিপূরক খাদ্য চালু করা যেতে পারে, তবে এটি বুকের দুধের পাশাপাশি হতে হবে। শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত, বা তারও বেশি সময় ধরে, মায়ের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখা উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা নির্ধারণে শিশুর শারীরিক অবস্থা, মায়ের স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত। কিছু শিশু দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই স্বাভাবিকভাবে দুধ পান বন্ধ করে দেয়। আবার কিছু শিশু দীর্ঘ সময় ধরে দুধ পান করতে চায়। এ ক্ষেত্রে মায়ের ধৈর্য ধরতে হবে এবং ধীরে ধীরে শিশুকে দুধ ছাড়ানোর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
যদি কোনো মা শিশুকে বুকের দুধ ছাড়ানোর পরিকল্পনা করলে ধাপে ধাপে করতে হবে। যাতে মা ও শিশু দুজনের জন্যই প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। অনেক সময় মায়েরা দুধ শুকানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায়গুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে দুধ খাওয়ানো কমানো, ঔষধি গাছের সাহায্য নেওয়া এবং ব্যায়াম করা অন্যতম। তবে, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বুকের দুধ কত বছর থাকে
মায়ের শরীরে বুকের দুধ উৎপাদন মূলত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমায় নয় হরমোনের উপর নির্ভর করে। সন্তান জন্মের পর থেকেই দুধ উৎপাদন শুরু হয় এবং যতদিন শিশুকে স্তন্যপান করানো হয় ততদিনই এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর বয়স ২-৩ বছর বায়৫ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকে।
যদি মা ধীরে ধীরে স্তন্যপান কমিয়ে দেন, তবে শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং দুধ উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত দুধ উৎপাদিত হওয়ার একটি স্বাভাবিক কারণ হলো শিশুর স্তন্যপান চালিয়ে যাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শিশু ৪-৫ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করতে আগ্রহী থাকে, তবে এটি বেশ বিরল।
বুকের দুধ উৎপাদন কখন থেমে যাবে তা নির্ভর করে মায়ের শারীরিক অবস্থা, দুধ খাওয়ানোর নিয়ম এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের ওপর। কিছু বিশেষ অবস্থায়- গর্ভধারণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা ওষুধ গ্রহণের ফলে দুধ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। অনেক মা বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় খুঁজে থাকেন। যার মধ্যে ধীরে ধীরে স্তন্যপান কমানো, কিছু নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা এবং ঠান্ডা সেঁক দেওয়া অন্যতম।
তবে কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। WHO এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত হতে পারে। তবে ছয় মাস পর থেকে পরিপূরক খাবার চালু করা জরুরি। তাই মায়েরা সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী এবং নিজের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ও স্তন্যপান বন্ধ করার পরিকল্পনা করতে পারেন।
বাচ্চাদের বুকের দুধ ছাড়ানোর উপায়
বাচ্চাদের বুকের দুধ ছাড়ানো একটি ধৈর্য ও যত্নে করা উচিত। হঠাৎ দুধ বন্ধ করে দিলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ধীরে ধীরে স্তন্যপানের পরিমাণ কমানো জরুরি। যদি শিশু দিনে পাঁচবার স্তন্যপান করে, তবে প্রথমে একবার কমিয়ে দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য সময়গুলোর পরিবর্তে বিকল্প খাবার দেওয়া যেতে পারে।
এতে শিশুর দেহ ও মন নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। পরবর্তী ধাপে বুকের দুধের পরিবর্তে পুষ্টিকর খাবার ও তরল সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের পর থেকেই শিশুকে পরিপূরক খাবার দেওয়া শুরু করা উচিত। যা দুধ ছাড়ানোর সময় সহায়ক হতে পারে। শিশুদের পছন্দের স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি, দুধ ও দুধজাত খাবার, ওটস, ডাল ইত্যাদি তাদের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
এছাড়া শিশুর মানসিক সমর্থনের দিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। তাই বিকল্প হিসেবে শিশুকে বেশি সময় দেওয়া, খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখা ও স্নেহপূর্ণ আচরণ করা দরকার। যাতে তারা মায়ের সান্নিধ্য পেলেও স্তন্যপানের প্রতি নির্ভরশীল না থাকে। যদি মা দুধ শুকানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চান, তবে কিছু বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন।
ধীরে ধীরে দুধ কমিয়ে দেওয়া, কিছু নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা, ঠান্ডা সেঁক দেওয়া এবং চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়ানো দুধ শুকানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বাচ্চাদের বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় ধৈর্য ধরা এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে এটি মা ও শিশুর উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক ও সহজ হয়।
বুকের দুধ শুকাতে কতদিন লাগে
বুকের দুধ সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে যেতে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারণ এটি মায়ের শারীরিক অবস্থা, হরমোনের কার্যক্রম এবং স্তন্যপান বন্ধের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ধীরে ধীরে দুধ কমানোর পদ্ধতি অনুসরণ করলে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে দুধের প্রবাহ কমে আসে এবং সম্পূর্ণ বন্ধ হতে এক মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
তবে যদি হঠাৎ করে দুধ বন্ধ করা হয়, তাহলে কিছু মায়ের ক্ষেত্রে কয়েক দিনেই দুধ শুকিয়ে যেতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। বুকের দুধ শুকানোর সময় মায়ের শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে- স্তন ভারী বা সংবেদনশীল হওয়া, সামান্য ব্যথা অনুভব করা বা দুধ জমাট বাঁধার মতো অনুভূতি হওয়া।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মায়েরা বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন। তবে যদি ব্যথা বেশি হয় বা দুধ জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা অন্তত দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। শিশুর এক বছরের বেশি বয়স হলে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
যাতে মায়ের শরীর স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং দুধ শুকানোর প্রক্রিয়া সহজ হয়। প্রতিটি মায়ের শরীর আলাদা বলে দুধ শুকানোর সময়ের ব্যবধানও ভিন্ন হতে পারে। কিছু মায়ের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে যায়, আবার কিছু মায়ের ক্ষেত্রে মাসখানেক বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই সময়টা মায়ের জন্য কম কষ্টদায়ক হবে এবং শিশুর জন্যও পরিবর্তনটি সহজ হবে।
কি খেলে বুকের দুধ শুকিয়ে যায়
বুকের দুধ উৎপাদন মূলত প্রোল্যাকটিন ও অক্সিটোসিন হরমোনের ওপর নির্ভর করে। কিছু খাবার ও পানীয় আছে যা এই হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়ে দুধ উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত যারা বুকের দুধ শুকানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে চান, তারা কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলেন বা গ্রহণ করেন।
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা ও কফি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে দুধের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। একইভাবে বেশি মাত্রায় পার্সলে, পেপারমিন্ট, ওরেগানো ও সেজ লিফ জাতীয় ভেষজ খাবার গ্রহণ করলেও বুকের দুধ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। এছাড়া খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত মিষ্টি বা উচ্চমাত্রার প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকলে তা দুধ উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন করলে স্তন্যদানের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং বুকের দুধ শুকিয়ে যেতে পারে। ডি-হাইড্রেশনও দুধ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। তাই যদি মায়েরা দুধ শুকানোর চেষ্টা করেন, তবে তারা তরল গ্রহণ কমিয়ে দিতে পারেন। বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায়গুলো এক্ষেত্রে গ্রহণ করা অন্যতম।
অনেক মায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় ধীরে ধীরে স্তন্যপান কমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিলে দুধ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। বুকের দুধ হঠাৎ বন্ধ হয়ে মা কোনো অস্বস্তি অনুভব করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রতিটি মায়ের শরীর ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই দুধ শুকানোর জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করার আগে ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
কত বছর বয়সে বাচ্চারা বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করে
বাচ্চারা সাধারণত দুই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করে। তবে এটি নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ প্রতিটি শিশুর অভ্যাস, পুষ্টির চাহিদা এবং মানসিক প্রস্তুতি ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা দুই বছর বা তারও বেশি সময় হয়ে থাকে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দুই বছর পর ধীরে ধীরে স্তন্যপান কমে যায়।
কারণ তারা অন্যান্য খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছু শিশু তিন বা চার বছর পর্যন্ত স্তন্যপান চালিয়ে যেতে চায়। বিশেষ করে যদি তারা মায়ের সান্নিধ্য বেশি চায় বা রাতে ঘুমানোর সময় অভ্যাসগতভাবে বুকের দুধ খেতে চায়। তবে অধিকাংশ শিশু তিন বছর পেরোনোর আগেই স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। যদি মা স্তন্যপান বন্ধ করতে চান, তবে এটি ধাপে ধাপে করা উচিত। যাতে শিশু মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে।
ধীরে ধীরে স্তন্যপানের সংখ্যা কমিয়ে দিলে শিশুর অভ্যাস পরিবর্তন করা সহজ হয় এবং মায়ের শরীরও স্বাভাবিকভাবে দুধ উৎপাদন কমাতে পারে। অনেক মা বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। যার মধ্যে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, কিছু নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা এবং তরল গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা সহায়ক হতে পারে। তবে দুধ ছাড়ানোর সময় শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। যাতে এটি তার জন্য স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে বুকের দুধ শুকানোর ঘরোয়া উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ঘরোয়াভাবে বাচ্চাদের বুকের দুধ ছাড়ানোর উপায়, কি খেলে বুকের দুধ শুকিয়ে যায় এবং শুকাতে কতদিন লাগে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url