ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
বর্তমান যুগে বিভিন্ন অনিয়ম, বদভ্যাস এবং খাবারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ব্রেন স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.
ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
ব্রেন স্ট্রোক একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সারা বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে। যার ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর মৃত্যু শুরু হয়। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় মেনে চললে ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচা নিশ্চিত করা সম্ভব। জীবনধারার পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো যায়।
- সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে ব্রেন স্ট্রোক থেকে সহজেই বাঁচার উপায় অনুসরণ করা যায়। উচ্চমাত্রার চর্বি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত। কারণ এগুলো ধমনিতে চর্বি জমিয়ে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, মাছ, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর।
- নিয়মিত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা প্রতিরোধ করতে সহায়ক, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিটের হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাইক্লিং বা হালকা ওজনের ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন ভালো থাকে।
- অসংযত জীবনধারার কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস দেখা দেয়। যা ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। সুতরাং রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা, ডায়াবেটিস থাকলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করা, লবণ ও চিনি কম খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা জরুরি।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল ধমনির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে বলে রক্তচলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচতে এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, ধ্যান ও রিলাক্সেশন ব্যায়াম করা, এবং চাপ মুক্ত জীবনযাপন করা স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। কোলেস্টেরল লেভেল, রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া যায় এবং ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়।
ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা
ব্রেন স্ট্রোক থেকে সেরে ওঠার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে রোগীর পুনরুদ্ধার দ্রুত হয় এবং ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী এই রোগীর খাবার তালিকা তৈরি করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয়।
- সবুজ শাকসবজি, গাজর, বিটরুট, টমেটো, ব্রকলি ইত্যাদি ব্রেন স্ট্রোক রোগীর জন্য উপকারী। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর সুরক্ষা দেয়।
- এছাড়া আপেল, কলা, পেঁপে, কমলা, বেরি জাতীয় ফল ফাইবার ও ভিটামিন সরবরাহ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- প্রোটিন শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে, যা ব্রেন স্ট্রোক রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকেন, স্যামন, টুনা ও সার্ডিন মাছ, ডাল, সয়াবিন, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবারের তালিকাতে রাখা উচিত।
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার- অলিভ অয়েল, বাদাম, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, এবং অ্যাভোকাডো ব্রেনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ, তাই অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।
- শরীরে পানির অভাব দূর করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এছাড়া গ্রিন টি ও হারবাল চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ব্রেনের সুস্থতায় সহায়ক।
সঠিক খাবার তালিকা অনুসরণ করার পাশাপাশি রোগীর নিয়মিত ব্যায়াম ও থেরাপি নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্ট্রোক এড়াতে ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
ব্রেন স্ট্রোক কি
ব্রেন স্ট্রোক একটি মারাত্মক অবস্থার নাম, যা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। যখন মস্তিষ্কের কোন একটি অংশে রক্ত পৌঁছাতে পারে না, তখন সেই অংশের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। এর ফলে রোগী বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
ব্রেন স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি হল আইসেমিক স্ট্রোক, যেখানে রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্বিতীয়টি হল হেমোরেজিক স্ট্রোক, যেখানে রক্তনালী ফেটে রক্তপাত ঘটে। ব্রেন স্ট্রোকের ফলে শরীরের এক পাশ প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। ভাষা বা কথা বলার সমস্যা সৃষ্টি অথবা স্মৃতিভ্রংশও দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণ সাধারণত তৎকালীন সময়ে খুব দ্রুত উন্নত হয় এবং রোগীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হয়। দ্রুত চিকিৎসা না করালে মস্তিষ্কের ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রোগী স্থায়ী প্রতিবন্ধীও হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণগুলি হল- হঠাৎ করে শরীরের একপাশে দুর্বলতা, কথা বলতে না পারা, চোখে অন্ধকার দেখাটা, তীব্র মাথাব্যথা এবং সঠিকভাবে হাঁটা বা দাঁড়ানোর সমস্যাসমূহ।
এই লক্ষণগুলি দেখামাত্রই চিকিৎসা নিতে হবে। ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য সঠিক জীবনধারা মেনে চলা অপরিহার্য। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ও ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রোগীর খাবার তালিকাতে সঠিক পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেন স্ট্রোকের পর রোগীর চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পাদিত হলে অনেক সময় রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হন। তবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সঠিক চিকিৎসা, ডায়েট এবং নিয়মিত থেরাপির উপর।
ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ
ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণগুলি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দ্রুত প্রকাশ পায়। এই লক্ষণগুলি কোন রোগীর জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে এবং সেগুলি তৎক্ষণাত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সতর্কতা সৃষ্টি করে। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলি হঠাৎ করেই শুরু হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর জীবনঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
- প্রথমেই উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো শরীরের একপাশে দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত। রোগী হঠাৎ করে একপাশে চলতে বা দাঁড়াতে অসুবিধা অনুভব করলে এটি স্ট্রোকের সম্ভাব্য সংকেত। এর সাথে সাথে মুখে ঝুলে যাওয়া বা চোখে অন্ধকার দেখা শুরু হতে পারে।
- অনেক সময় মুখের একপাশের পেশী দুর্বল হয়ে মুখের মাংসপেশী পড়ে যেতে পারে এবং হাসি বা কথা বলার সময় অন্যরকমভাবে প্রদর্শিত হতে পারে।
- আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো কথা বলতে না পারা বা ধ্বনির জ্ঞান হারানো। একজন স্ট্রোক রোগী হঠাৎ করে কথা বলতে সমস্যা অনুভব করেন। বাক্য সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না বা ভাষার ধ্বনির মধ্যে সমস্যা হয়। সেই সাথে অস্বাভাবিক মাথাব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথা অনুভূতি হতে পারে।
- স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো দৃষ্টি সমস্যা। রোগী হঠাৎ করে এক বা দুই চোখের দৃষ্টি হারাতে পারেন অথবা চোখের সামনে অন্ধকার দেখার অনুভূতি হতে পারে।
- এছাড়া একজন রোগী যদি সোজা দাঁড়াতে না পারেন এবং হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, তাহলে সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণগুলি যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় ততই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে এসব লক্ষণ যদি খুব তাড়াতাড়ি বুঝে নেওয়া যায়, তবে সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে পারলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানো সম্ভব। স্ট্রোকের পর রোগীকে সঠিক থেরাপি, ব্যায়াম এবং ডায়েটও প্রয়োজন। যেমন ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা-এ পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা। তাই সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমে যায়।
ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ
ব্রেইন স্ট্রোক একটি জটিল ও মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এই সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয় যখন মস্তিষ্কের কোনো একটি অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ওই অংশের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। নিম্নে ব্রেইন স্ট্রোকের যে সকল কারণ রয়েছে তা উল্লেখ করা হলো।
- স্ট্রোকের কারণগুলির মধ্যে বেশ কিছু সাধারণ এবং পরিচিত কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমেই আসে উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন রক্তনালীগুলোর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। যা ধমনী বা রক্তনালী ফাটার কারণ হতে পারে এবং পরবর্তীতে স্ট্রোক সৃষ্টি করতে পারে।
- আরেকটি প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস। কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং রক্তপ্রবাহের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হার্টের অসুস্থতা যেমন অ্যারিথমিয়া বা হার্ট অ্যাটাকও ব্রেন স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
- অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ধূমপানও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান রক্তনালীগুলোতে কোলেস্টেরল জমিয়ে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মদ্যপান রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
- ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ানোর আরেকটি কারণ হলো অবসন্ন জীবনধারা। শারীরিক অচলতা বা বসে থাকা, খাদ্যাভ্যাসে অস্বাস্থ্যকর পরিমাণে চর্বি এবং শর্করা গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে শারীরিক ব্যায়াম না করা। এসব কিছুই স্ট্রোকের কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
- স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য জীবনধারায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ বিহীন পরিবেশ কার্যকর।
এছাড়া যেহেতু সঠিক পুষ্টি এবং খাবার স্ট্রোকের পরবর্তী উন্নতিতে সহায়ক। তাই ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা তৈরিতে উচ্চ প্রোটিন, কম চর্বি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যা মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে। এসব উপায়ে সঠিকভাবে স্ট্রোকের কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং ঝুঁকি কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়।
ব্রেইন স্ট্রোকের রোগীর ব্যায়াম
ব্রেন স্ট্রোকের পর রোগীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যায়াম। সঠিকভাবে পরিচালিত ব্যায়াম রোগীর শারীরিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক। মাংসপেশী শক্তিশালী করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের উন্নতি ঘটায়। তবে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি। কারণ প্রতিটি রোগীর অবস্থা আলাদা হতে পারে।
ব্রেন স্ট্রোকের রোগীর জন্য সাধারণত হালকা এবং ধীরে ধীরে বাড়ানো ব্যায়াম উপযুক্ত। যেমন হাঁটা, হাত পা নাড়ানো এবং স্ট্রেচিং ব্যায়ামগুলো মাংসপেশী ও স্নায়ু পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। এই ব্যায়ামগুলো রোগীর শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনও উন্নত করে, যা মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারে সহায়ক। অনেক সময় রোগী পা বা হাতের পক্ষাঘাতের কারণে চলাফেরা করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম খুবই কার্যকর।
এছাড়া হাতের এবং পায়ের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ ব্যায়াম করা যেতে পারে। আঙ্গুল বা হাতের মুষ্টি শক্ত করে ধরতে বলা, পা তুলে ধরার ব্যায়াম ইত্যাদি। তবে ব্যায়াম করার সময় রোগীর শরীরের অবস্থান এবং আরাম বজায় রাখা জরুরি। ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়াম নিশ্চিত করা উচিত। যাতে স্ট্রোকের পর রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হন। এর পাশাপাশি ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা তৈরিতে পুষ্টিকর খাবারের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।
ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি
ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি পুনর্বাসনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। থেরাপি স্ট্রোকের পর রোগীর শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক। ব্রেন স্ট্রোকের থেরাপির মধ্যে মূলত ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং স্পিচ থেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফিজিওথেরাপি মস্তিষ্কের পক্ষাঘাত বা দুর্বলতা সত্ত্বেও শরীরের মাংসপেশী এবং গতি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
এক্ষেত্রে হাত পা চালনা, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হাঁটাচলা সঠিকভাবে শিখানোর মাধ্যমে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য সহায়ক করা হয়। অকুপেশনাল থেরাপি রোগীকে দৈনন্দিন কাজগুলি সম্পাদন করতে শেখায়, যাতে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ে। স্পিচ থেরাপি বা যাদের ভাষাগত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তাদের জন্য উপকারী।
এতে রোগীকে কথা বলা, সঠিক উচ্চারণ করা এবং মুখের পেশী নিয়ন্ত্রণ করার উপায় শেখানো হয়। থেরাপি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া হতে পারে। তবে ধৈর্য এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে রোগীকে তার সামর্থ্য ফিরে পেতে সহায়ক হয়। ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে থেরাপি নিয়মিত গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে এবং রোগীকে তার দৈনন্দিন জীবনযাপনে সহায়তা করে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ব্রেন স্ট্রোক কি, লক্ষণ, ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ, বাঁচার উপায় হিসেবে ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি ও ব্যায়াম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url