মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে

মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
মানুষের-জিহ্বা-কত-ধরনের-স্বাদ-গ্রহন-করতে-পারে
অনেকের হঠাৎ করে কোনো খাবারের স্বাদ জিহ্বায় ঠিকমতো অনুভব করতে পারেন না। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.

মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে

আমাদের জিহ্বায় প্রায় ১০,০০০ স্বাদকোরক থাকে, যা স্বাদ গ্রহণের জন্য কাজ করে। জিহ্বার অগ্রভাগে অবস্থিত স্বাদকোরকগুলোর মাধ্যমে আমরা মিষ্টি বা মধুর স্বাদ অনুভব করি। এই অংশটিই সাধারণত চিনি, মধু এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবারের স্বাদ গ্রহণে কার্যকর। অগ্রভাগের দুপাশে অবস্থিত স্বাদকোরক লবণাক্ত বা নোনতা স্বাদ গ্রহণে সাহায্য করে। যেমন লবণ বা সয়াসসের স্বাদ।

তার ঠিক ওপরে জিহ্বার পার্শ্ববর্তী অংশে টক স্বাদগ্রাহক কোরক অবস্থিত। যা লেবু ও দইয়ের মতো খাবারের টক স্বাদ অনুভব করায়। মানুষের জিহ্বা দিয়ে কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করা যায়, এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় জিহ্বা প্রধানত পাঁচ ধরনের স্বাদ অনুভব করতে পারে। এই স্বাদগুলো হলো মিষ্টি, লবণাক্ত, টক, তেতো এবং ইউমামি। প্রতিটি স্বাদের জন্য জিহ্বার নির্দিষ্ট অঞ্চল কাজ করে, যা স্বাদ কোরকের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

মিষ্টি স্বাদঃ সাধারণত চিনি, মধু, ফল এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবার থেকে এই স্বাদ অনুভূত হয়। জিহ্বার অগ্রভাগ এই স্বাদ অনুভব করতে বেশি সক্ষম।

লবণাক্ত স্বাদঃ লবণ, সয়াসস ও বিভিন্ন ধরণের প্রসেসড ফুডে লবণাক্ত স্বাদ পাওয়া যায়। জিহ্বার পার্শ্ববর্তী অংশে এই স্বাদের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি হয়।

টক স্বাদঃ লেবু, দই, টকজাতীয় ফল ও খাবারের মাধ্যমে টক স্বাদ অনুভূত হয়। সাধারণত জিহ্বার পাশের অংশে এই স্বাদ বেশি অনুভূত হয়।

তেতো স্বাদঃ অনেক ওষুধ, করলা, নিমপাতা ও অন্যান্য তেতো খাবারে এই স্বাদ পাওয়া যায়। জিহ্বার পেছনের অংশ তেতো স্বাদ গ্রহণ করতে বিশেষভাবে সক্ষম।

ইউমামি স্বাদঃ এটি তুলনামূলকভাবে নতুনভাবে চিহ্নিত একটি স্বাদ, যা গ্লুটামেট নামক উপাদান থেকে আসে। মাংস, চিজ, সয়াসস, টমেটো এবং মাশরুমে এই স্বাদ পাওয়া যায়।

মানুষের জিহ্বার স্বাদ গ্রহন সম্পর্কে অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা স্বাদের নতুন দিক আবিষ্কার করছেন। যেমন ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত স্বাদ, যা আগের পাঁচটি স্বাদের বাইরে থাকতে পারে। এছাড়াও প্রতিটি ব্যক্তির স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা আলাদা হতে পারে। যা তাদের জিনতত্ত্ব, খাদ্যাভ্যাস এবং জিহ্বার সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি

জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়া বা স্বাদ হ্রাস পাওয়ার পিছনে বিভিন্ন শারীরিক ও বাহ্যিক কারণ থাকতে পারে। যখন নাক বন্ধ হয়ে যায়, তখন খাবারের গন্ধ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। যার ফলে স্বাদও কম অনুভূত হয়। নিম্নে জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি তা সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো।
  • একটি সাধারণ কারণ হলো ঠান্ডা বা সর্দি-কাশি, যা আমাদের স্বাদ ও গন্ধ গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
  • ভাইরাল সংক্রমণ যেমন কোভিড-১৯, দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্বাদ না পাওয়ার কারণ হতে পারে।
  • আরেকটি বড় কারণ হলো জিঙ্কের ঘাটতি। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ জিঙ্ক না থাকলে স্বাদকোরকের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। যার ফলে স্বাদ অনুভব করা দুর্বল হয়ে যায়। জিঙ্কযুক্ত খাবার- বাদাম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবার খেলে এই সমস্যা কমতে পারে।
  • এছাড়া ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন স্বাদকোরকের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান করলে স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্টও হতে পারে।
  • বয়সের প্রভাবও একটি বড় কারণ। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাদকোরকের সংখ্যা কমে যায়। যার ফলে স্বাদ অনুভব করার ক্ষমতা কমে আসে।
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টও স্বাদ হ্রাসের কারণ হতে পারে।
  • ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির অভাব থাকলেও জিহ্বার স্বাদকোরক সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে স্বাদ অনুভব কমে যায়।
  • মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে, এই বিষয়ে আলোচনা করলে দেখা যায় জিহ্বার স্বাদকোরক নির্দিষ্ট কয়েকটি স্বাদ গ্রহণে সক্ষম। কিন্তু যদি কোনো কারণে স্বাদকোরক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা তাদের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, তবে এই স্বাদগুলো ঠিকমতো অনুভব করা সম্ভব হয় না।
জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি হতে পারে নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ওপর। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক পুষ্টি গ্রহণ এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকলে স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।

জিহ্বার স্বাদ কোরক

জিহ্বার স্বাদ কোরক হল ছোট ছোট সংবেদনশীল কোষসমূহ, যা আমাদের বিভিন্ন স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। আমাদের জিহ্বায় প্রায় ১০,০০০ স্বাদকোরক থাকে। যা মস্তিষ্কের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং খাবারের স্বাদ সম্পর্কে আমাদের তথ্য সরবরাহ করে। প্রতিটি স্বাদকোরকের ভেতরে স্বাদগ্রাহক কোষ থাকে।

যা নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে এলে সক্রিয় হয় এবং সেই স্বাদ মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। স্বাদকোরকগুলি সাধারণত জিহ্বার বিভিন্ন অংশে অবস্থিত এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট স্বাদ গ্রহণে বিশেষভাবে দক্ষ। জিহ্বার অগ্রভাগে মিষ্টি স্বাদগ্রাহক কোরক থাকে, যা চিনি বা মধুর মতো মিষ্টি স্বাদ গ্রহণে সাহায্য করে।

পার্শ্ববর্তী অংশে লবণাক্ত এবং টক স্বাদ গ্রহণের কোরক থাকে, যা লবণ বা লেবুর মতো খাবারের স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। জিহ্বার পেছনের অংশে তেতো স্বাদ গ্রহণের কোরক অবস্থিত, যা ওষুধ বা করলার মতো তেতো স্বাদ চিহ্নিত করে। এছাড়াও ইউনামি স্বাদগ্রাহক কোরক আমাদের গ্লুটামেটযুক্ত খাবারের স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে।

যা মাংস, চিজ বা সয়াসসের মতো খাবারে পাওয়া যায়। এই স্বাদকোরকের উপস্থিতির কারণেই আমরা বিভিন্ন স্বাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি এবং খাবারের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে সক্ষম হই। মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে এই সম্পর্কে এতক্ষণে আপনারা ধারণা পেয়ে গেছেন। স্বাদকোরকের কার্যকারিতার কারণেই আমরা এই স্বাদগুলো অনুভব করতে পারি।

তবে কোনো কারণে স্বাদকোরক নষ্ট হলে বা কার্যকারিতা কমে গেলে স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতাও হ্রাস পায়। সঠিক পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্বাদকোরককে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে, ফলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারি।

মুখের তেতো ভাব দূর করার উপায়

অনেক সময় আমরা মুখে একটি অবাঞ্ছিত তেতো স্বাদ অনুভব করি, যা বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। এটি মূলত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সমস্যা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। তবে কিছু সহজ উপায় মেনে চললে মুখের তেতো ভাব দূর করা সম্ভব। শরীরে পানির অভাব থাকলে লালা উৎপাদন কমে যায়, যা মুখের স্বাদ পরিবর্তনের একটি বড় কারণ।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখের শুষ্কতা দূর হয় এবং স্বাভাবিক স্বাদ ফিরে আসে। ঠিকমতো ব্রাশ না করা, জিহ্বা পরিষ্কার না রাখা এবং নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার না করলে মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে যায়, যা তেতো স্বাদের কারণ হতে পারে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ব্রাশ করা এবং মাঝে মাঝে অ্যান্টিসেপ্টিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের দুর্গন্ধ ও তেতো ভাব কমে যায়।

লেবু-পানি বা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা ভালো সমাধান হতে পারে। বেশি ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার খেলে মুখে তেতো স্বাদ অনুভূত হতে পারে। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ করা এবং সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া উচিত। মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে আর আমাদের জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি হতে দুর করা যায়, এ সম্পর্কে জ্ঞান আমাদেরকে এই সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে সহায়তা করবে।

যদি মুখে সব সময় তেতো স্বাদ লেগে থাকে, তাহলে অন্যান্য স্বাদ সঠিকভাবে বোঝা যায় না এবং খাবার খাওয়ার আনন্দ কমে যায়। মুখের তেতো ভাবের সাথে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে মুখের তেতো স্বাদ থাকলে স্বাদকোরকের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কোনো শারীরিক সমস্যা বা স্বাদকোরকের দুর্বলতার কারণে হতে পারে। সেজন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মুখের স্বাদ চলে গেলে করণীয়

অনেক সময় ঠান্ডা, জ্বর, সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণে মুখের স্বাদ চলে যেতে পারে। এটি বেশ অস্বস্তিকর এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। তবে কিছু উপায় অনুসরণ করলে দ্রুত স্বাভাবিক স্বাদ ফিরে পাওয়া সম্ভব।
  • মৌখিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত ব্রাশ করা, জিহ্বা পরিষ্কার রাখা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের স্বাদকোরক সতেজ থাকে ও স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা ফিরে আসে।
  • পানিশূন্যতার কারণে জিহ্বার স্বাদকোরক ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে স্বাদ হ্রাস পায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা দরকার। বাদাম, শাকসবজি, ফলমূল ও দুগ্ধজাত খাবার খেলে স্বাদ ফিরে আসতে সাহায্য করে।
  • লেবু ও আদার ব্যবহার উপকারী হতে পারে। লেবুর খোসা চিবানো বা লেবু-পানি পান করলে স্বাদকোরকের সংবেদনশীলতা বাড়ে।
  • একইভাবে আদা চিবানো বা আদার চা পান করলেও স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত হয়।
  • মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে তা নির্ভর করে স্বাদকোরকের কার্যকারিতার ওপর।
যদি কোনো কারণে স্বাদকোরক দুর্বল হয়ে যায়, তবে স্বাদ বোঝার ক্ষমতাও কমে যায়। যদি মুখের স্বাদ দীর্ঘদিন ধরে না ফিরে আসে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের নিকট নেওয়া উচিত। সঠিক যত্ন নিলে সাধারণত দ্রুত স্বাদ ফিরে আসে এবং খাবার খাওয়ার আনন্দ আবার ফিরে পাওয়া যায়।

জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে আমরা কোন স্বাদ অনুভব করি

জিহ্বার অগ্রভাগ সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর মধ্যে একটি, যা মূলত মিষ্টি স্বাদ গ্রহণের জন্য দায়ী। যখন আমরা চিনি, মধু, মিষ্টি ফল বা অন্য কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খাই। তখন জিহ্বার সামনের অংশের স্বাদকোরক সক্রিয় হয়ে সেই স্বাদ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। এটি আমাদের মস্তিষ্ককে জানান দেয় যে খাবারটি কতটা মিষ্টি বা স্বাদযুক্ত।

মিষ্টি স্বাদ আমাদের মস্তিষ্কে সুখানুভূতি তৈরি করে। কারণ এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। কিছু হালকা লবণাক্ত স্বাদও জিহ্বার অগ্রভাগ দ্বারা অনুভূত হতে পারে। তবে প্রধানত এটি মিষ্টি স্বাদ গ্রহণের জন্য বেশি কার্যকর। মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে তা বুঝতে গেলে জানা দরকার যে জিহ্বার বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা স্বাদের জন্য দায়ী।

অগ্রভাগ মিষ্টি, পার্শ্ববর্তী অংশ লবণাক্ত ও টক, এবং পিছনের অংশ তেতো স্বাদ গ্রহণ করে। এই ভিন্ন অংশগুলো একসাথে কাজ করেই খাবারের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। তবে কোনো কারণে জিহ্বার সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সংবেদনশীলতা হারালে মিষ্টি স্বাদ কম অনুভূত হতে পারে। এ কারণে মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। যাতে জিহ্বার স্বাদকোরক ঠিকমতো কাজ করতে পারে।

জিভের কোন অংশে ঝাল লাগে

ঝাল স্বাদ অনুভবের জন্য জিহ্বার নির্দিষ্ট কোনো অংশ নেই। কারণ এটি আসলে ব্যথা বা তাপ অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ঝালযুক্ত খাবারে উপস্থিত ক্যাপসাইসিন নামক রাসায়নিক পদার্থ আমাদের জিহ্বার বিভিন্ন অংশে থাকা সংবেদনশীল নার্ভকে উত্তেজিত করে। যার ফলে আমরা ঝালের অনুভূতি পাই। সাধারণত জিহ্বার পার্শ্ববর্তী ও মাঝের অংশ ঝাল স্বাদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

আমাদের মরিচ, ঝাল মশলা বা মসলাদার খাবার খাওয়ার সময় এই অংশগুলোতে একধরনের জ্বালাপোড়া অনুভূতি হয়। কখনও কখনও ঝালের তীব্রতা এত বেশি হয় যে পুরো মুখেই তা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে এটি বুঝতে গেলে জানতে হবে যে ঝাল আসলে স্বাদ নয় তা সংবেদন। ঝাল খাবার খাওয়ার পর যে অনুভূতি হয় তা মূলত ব্যথা সংবেদনশীল নার্ভের কারণে ঘটে।

অনেক সময় অতিরিক্ত ঝাল খেলে জিহ্বার স্বাদকোরক সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তখন জিহ্বায় স্বাদ না পাওয়ার কারণ কি হবে, এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে বলা যায় অতিরিক্ত ঝাল খাবার স্বাদকোরকের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। যার ফলে কিছু সময়ের জন্য অন্য স্বাদ অনুভব করাও কঠিন হয়ে যায়। এজন্য ঝাল খাবার পরিমিত খাওয়া উচিত এবং বেশি ঝাল খেলে দুধ বা চিনি খেলে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি দ্রুত কমতে পারে।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে মানুষের জিহ্বা কত ধরনের স্বাদ গ্রহন করতে পারে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে জিহ্বার স্বাদ কোরক কি, মুখের স্বাদ চলে গেলে করণীয়, জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে আমরা কোন স্বাদ অনুভব করি এবং জিভের কোন অংশে ঝাল লাগে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url