মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায়
আপনি কি মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? যদি আপনাদের এই বিষয়টি অজানা থাকে তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই। বন্ধুরা আপনাদের সুবিধার্থে আজকে আমি এই আর্টিকেলে এই বিষয়টি একদম বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হয়তো আপনাদের জন্য এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাই আপনারা যারা এ বিষয়টি গুগলে সার্চ করে এই পর্যন্ত এসেছেন। তাদের কাছে একটাই অনুরোধ এই আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
যদি আপনারা সম্পূর্ণ আর্টিকেল একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে কি খেলে মাথা ঘোরা কমবে এবং মাথা ঘুরার কারণ ও সমাধানসহ আরো বিভিন্ন যে বিষয়গুলো রয়েছে তা সঠিকভাবে জেনে যাবেন। তাই আর দেরি না করে আসুন জেনে নিন।
ভূমিকা
বর্তমান সময়ে মাথা ঘোরার সমস্যা অনেক বেশি দেখা যায়। কেউ কেউ অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকার কারণে এ ধরনের সমস্যা হয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে মাথা ঘোরা কিংবা বমি বমি ভাব হয়। তবে আপনারা যদি মাথা ঘোরার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকেন তাহলে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। যা হয়তো আপনারা কল্পনাও করতে পারছেন না। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকে আমি এই আর্টিকেলে মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানিয়ে দেব। তাহলে আশা করি আপনারা সকলেই এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পেয়ে যাবেন। এছাড়াও কি খেলে মাথা ঘোরা কমবে এটাও জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনাদের কথা ভেবেই আজকে আমি এই আর্টিকেলে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই আসুন আর দেরি না করে এই আর্টিকেল এর মূল্যবান তথ্যটুকু মনোযোগ দিয়ে জেনে নিন।
মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায়
মাথা ঘোরার সমস্যাটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন রক্তস্বল্পতা রক্তের চাপ কমে যাওয়া হিট স্ট্রোক মাইগ্রেশন হার্টের কার্যক্রমের সমস্যা মাথায় আঘাত পাওয়া দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সহ আরো বিভিন্ন কারণে মাথা ঘুরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও মানসিক চাপ ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পানি স্বল্পতা সহ আরো বিভিন্ন কারণে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
তবে মাথা ঘোরার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে আশা করা যায় মাথা ঘোরা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে। তাহলে আসুন আর দেরি না করে মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় কি কি রয়েছে জেনে নিন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুনঃ অনেক সময় পানি স্বল্পতার কারণে মানুষের মাথা ঘোরার সমস্যা হয়। তাই এরকম সমস্যা হলে প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি আপনি মধু দিয়ে ভাজস চা তৈরি করে পান করতে পারেন। এতে করে অনেকটা আরাম পাবেন এছাড়াও পারলে ফলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
আদা খানঃ আজ আপনার বমি বমি ভাব কিংবা বমি এড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করবে। এছাড়াও এটি মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতেও বিশেষ ভাবে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয় আপনার দ্রুত মাথা ঘোরার সমস্যা থেকেও রেহাই করছে আদা সাহায্য করবে। তাই যদি আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা হয় তাহলে এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। পাশাপাশি আদা চা তৈরি করেও খেতে পারেন। তাহলে আপনার মাথা ঘোরা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।
কিছু খানঃ যদি আপনার রক্তের সুগারের মাত্রা অনেকটা কমে যায় বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের যদি সুগারের মাত্রা কমে যায় তাহলে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে। তাই এমন অবস্থায় অবশ্যই স্বাস্থ্যকর কোন স্ন্যাকস খান। এতে করে আপনার সমস্যার সমাধান অনেকটা পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি যে সকল খাবারে উচ্চ পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে সেগুলো খাবার খেতে পারেন যেমন কলা চকলেট। পারলে এক মুঠো কাঠ বাদাম খেতে পারেন। তাহলে আপনি মাথা ঘোরা সমস্যা থেকে আস্তে আস্তে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানঃ অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানোর কারণেঅনেকের মাথা ঘোরার সমস্যা হয় তবে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। তাহলে আশা করি মাথা ঘুরানো সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুনঃ অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ না করার কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়। এতে করে রক্তস্বল্পতা রক্তচাপ কমে যাওয়া সহ আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ আয়রন আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। আর এগুলো খাবার নিয়মিত খাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আশা করি মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন।
কি খেলে মাথা ঘোরা কমবে
মাথা ঘোরা একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেক কারণেই হতে পারে। কখনও রক্তচাপ কমে গেলে, কখনও শরীরে পানির অভাব, আবার কখনও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মাথা ঘোরা অনুভূত হয়। এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে আপনি সহজেই আরাম পেতে পারেন। এই আর্টিকেলে আমরা মাথা ঘোরা কমানোর জন্য কী খেতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব।
লেবু পানিঃ লেবুতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে রিফ্রেশ করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এতে আপনার শক্তি ফিরে আসবে এবং মাথা ঘোরার অনুভূতি কমবে।
খেজুর বা চিনি মিশ্রিত পানিঃ মাথা ঘোরা অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে। এক গ্লাস পানিতে চিনি বা মধু মিশিয়ে পান করুন। খেজুরও দ্রুত শক্তি বাড়াতে এবং মাথা ঘোরা কমাতে সাহায্য করে।
কলাঃ কলাতে রয়েছে পটাসিয়াম, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মাথা ঘোরা অনুভব করলে একটি কলা খেয়ে নিন। এটি শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে।
টক দইঃ টক দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরকে শীতল রাখে। এটি মাথা ঘোরা কমাতে এবং শরীরকে পুনর্জীবিত করতে কার্যকর।
বাদামঃ বাদামে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেল থাকে, যা শরীরে শক্তি জোগায়। কিছু কাজু, বাদাম বা আখরোট খেলে মাথা ঘোরার সমস্যা কমতে পারে।
যদি আপনার মাথা ঘোরা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা নিয়মিত ঘটে, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে উপরের খাবারগুলো খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই খাবারগুলো আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং মাথা ঘোরা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তাহলে আশা করি মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কি খেলে মাথা ঘোরা কমবে এই বিষয়টিও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
মাথা ঘোরার কারণ ও সমাধান
বিভিন্ন কারণে আপনার মাথা ঘুরতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নির্ভর করে অনেক অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর। তাই মস্তিষ্কের যে বিশেষ কেন্দ্রগুলো রয়েছে সেগুলোর সঠিক সংকেত পাঠানোর জন্য চোখ ভেতরে বিভিন্ন অংশ এবং ঘাড় ও মধ্য শরীর এবং পায়ের মাংস হলে ঠিকমতো কাজ করে।
যদি এইসব অঙ্গগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে আপনার সারা শরীর কিংবা মাথা ঘুরতে থাকে। তবে মাথা ঘুরলে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। এ ধরনের সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করে তার সঠিক চিকিৎসা করলে আপনার ভালো হয়ে যাবে। তবে চলুন মাথা কেন ঘুরে এর কারণ জেনে নিন।
মাথা ঘোরার কারণঃ-
- অতিরিক্ত পরিশ্রম
- অন্তঃকর্ণের রক্তবাহী নালির অস্বাভাবিকতা
- অন্তঃকর্ণের প্রদাহ
- বিভিন্ন ওষুধ
- দুশ্চিন্তা
- ঘাড়ে আঘাত
- কপালের একপাশে ব্যথা
- মস্তিষ্কের অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ
- হৃদরোগ
- ক্যারোটিড সাইনাস সংবেদনশীলতা
- রক্তস্বল্পতা
- অস্বাভাবিক দৃষ্টিগত সমস্যা
মূলত উপরে উল্লেখিত যে কারণগুলো দেয়া হয়েছে এগুলোর কারণেই আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা হয় তবে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন। তাহলে আপনাকে চিকিৎসক সঠিক অসুখ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করবেন। তবে এর কিছু সমাধান রয়েছে যদি আপনারা সঠিকভাবে ফলো করতে পারেন তাহলে আশা করা যায় এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।
সমাধানঃ -
- যদি আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা সমাধান করতে চান তাহলে অবশ্যই গাড়ি চালানো কিংবা ভারী যন্ত্রপাতি চালানো এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
- যত সম্ভব পুষ্টিকর ও ভিটামিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। কারণ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা মোটেও থাকবে না।
- যদি আপনার মাথা ঘোরা সমস্যা হয় তাহলে দৌড়ানো কিংবা হাঁটা থেকে বিরত থাকুন। কারণ দৌড়ালে কিংবা হাঁটলে আপনার মাথা হঠাৎ করে চক্কর দিতে পারে।
- মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে ওষুধ খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে এবং এর বিকল্প সম্পর্কে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
- অনেকেই রয়েছে যারা অ্যালকোহল এবং তামাক খেয়ে থাকেন কিন্তু এগুলো খেলে মাথা ঘোরা কখনোই সেরে উঠবে না তাই এগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব বাদ দিতে হবে।
- যদি আপনার ডিহাইড্রেশনের কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম করার চেষ্টা করুন পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এতে করে আপনার মাথা ঘোরা ইনশাআল্লাহ কমে যাবে।
প্রিয় বন্ধুরা যদি আপনারা এই সমাধানটি নিয়মিত ফলো করতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা খুব সহজেই দূর করা সম্ভব হবে। মাথা ঘুরার সমস্যা খুবই মারাত্মক একটি লক্ষণ হতে পারে তাই এটি যত দ্রুত সম্ভব ভালো করা অত্যন্ত জরুরী।
মাথা ঘোরা ও বমি কিসের লক্ষণ
একজন মানুষের মাথা ঘোরার বিভিন্ন লক্ষণ থাকতে পারে। আবার অনেকেরই মাথা ঘোরার সাথে সাথে বমিওমি ভাব চলে আসে। তবে কেন এ ধরনের সমস্যা হয় অনেকেই জানেন না। তাই আজকে আমি এই আর্টিকেলে মাথা ঘোরা ও বমি কিসের লক্ষণ তা বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। তাই আপনারা যারা এ বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না তারা অবশ্যই এই আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। চলুন তাহলে আর দেরি না করে জেনে নিন।
খাদ্যে বিষক্রিয়া হলেঃ যদি আপনার খাদ্যে কোন বিষক্রিয়া হয় অর্থাৎ দূষিত খাবার হয় তাহলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। আর এই অসুস্থতার সাধারণ লক্ষণ হল বিষক্রিয়া এবং বমি বমি ভাব। মূলত এই বিষক্রিয়ার কারণে শরীরে অনেক বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি মূলত Salmonella, E. coli, Staphylococcus aureus- প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া খাবারকে দূষিত করে এবং খাওয়ার পরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
মাথায় আঘাত পেলেঃ যদি আপনার মাথায় আঘাত লাগে তাহলে ওই সময় আপনার মাথা ঘোরার মত লক্ষণ দেখা দেয়। এটি একটি সাধারণ ঘটনা হলেও বিশেষ করে যখন কেউ অতিরিক্তভাবে মাথায় আঘাত করে তাহলে মাথায় আঘাত লাগার পাশাপাশি আরো মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে মাথা ঘোরা ও বমি ভাবের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কানের সংক্রমণের কারণেঃ কানের সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা যা কানের ভেতরের অংশ সংক্রমণের ফলে হয়। আর এটির কারণে শুধু কানে ব্যথা এবং শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয় না তা নয় বরং এটা আমাদের শরীরে ভারসাম্যর সমস্যা সৃষ্টি করতেও পারে। কানের যে ভেতরের অংশটি রয়েছে সেটি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ তবে এই অংশে সংক্রমণ তখন ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ফলে অনেক মানুষেরই অস্থিরতা বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেঃ অনেক গর্ভবতী মহিলা রয়েছে প্রথম তিন মাসে মাথা ঘুরা সহ বমি বমি ভাবের সমস্যা অনেক বেশি দেখা যাই। এদিকে সাধারণত মর্নিং সিকনেস বলা হয়। যদিও এ ধরনের সমস্যা দিনে যেকোনো সময় হতে পারে কিন্তু গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনে পরিবর্তন হয় ফলে এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে এই পরিবর্তন হওয়ার কারণে প্রত্যেকটা গর্ভবতী মায়েদের মাথা ঘুরাসহ বমি ভাবের মূল কারণ দেখা দেয়।
থাইরয়েড সমস্যা হলেঃ থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের জন্য বিপাক ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে কিন্তু এই গ্রন্থি যখন সঠিকভাবে কাজ করে না তখন থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে আর এটির কারণে হরমোনের অতিরিক্ত সমস্যা তৈরি হয় ফলে অনেক মানুষের মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা যায়।
ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলেঃ কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যার কারণে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। তবে এই মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব হওয়ার বিভিন্ন লক্ষণ থাকে। যদি আপনি সঠিক লক্ষণ বের করতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
কিছু ওষুধের কারণে হতে পারেঃ কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যে ওষুধ খাওয়ার ফলে আপনার মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই যেহেতু এই ওষুধগুলো আপনার সমস্যা সৃষ্টি করছে সেহেতু ডাক্তারের সাথে কথা বলে আপনি অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে শরীর সুস্থ করতে পারেন।
হঠাৎ মাথা চক্কর দেওয়ার কারণ
মাথা চক্কর দেওয়া একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেকের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে থাকে। এটি শরীরের ভেতরে নানা কারণের জন্য হতে পারে। হঠাৎ মাথা চক্কর দেওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রক্তচাপের পরিবর্তনঃ যদি আপনার শরীরে হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যাই কিংবা বেড়ে যায় তাহলে আপনার মাথা চক্কর দিতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ করে রক্ত শরীর থেকে অন্যজনকে দিলে এই ধরনের সমস্যা বেশি খেয়াল করা যায়।
ডিহাইড্রেশনঃ শরীরে পানির অভাব হলে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, যা মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে।
লো ব্লাড সুগারঃ এছাড়াও দীর্ঘ সময় খাবার না খেলে আপনার রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায়, ফলে মাথা চক্করের কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপঃ যদি আপনার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগও হয় তাহলে মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে।
হঠাৎ মাথা ঘুরানোর কারণ কি
হঠাৎ করে মাথা ঘোরানোর কারণ হলো অতিরিক্ত পরিশ্রম, কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, দুশ্চিন্তা, মধ্যখানের প্রদাহ, অস্বাভাবিক দৃষ্টিগত সমস্যা, বেশি উঁচুতে উঠে নিচের দিকে তাকানো, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, মস্তিষ্কের নিচের দিকে টিউমার সহ যাবতীয় যে সমস্যাগুলো রয়েছে মূলত এ ধরনের সমস্যার কারণে আপনার হঠাৎ করে মাথা ঘুরতে পারে।
এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির ঘাটতির কারণে আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে কিংবা আপনার ঘুমের ঘাটতি দেখা দিলে হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাথা ঘোরার সমসাকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকুন।
লেখকের মন্তব্যঃ মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায়
আর্টিকেলটি আপনারা যারা সম্পূর্ণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন আশা করি তারা সকলেই মাথা ঘুরানো থেকে মুক্তির উপায় এবং কি খেলে মাথা ঘোরা কমবে এ বিষয়গুলো সঠিকভাবে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। তাই আপনারা যারা এ বিষয়গুলো জেনে একটু উপকৃত হয়েছেন তারা অবশ্যই আপনার প্রিয়জনের কাছে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এছাড়াও এই আর্টিকেলে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url