ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়
ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
টেস্টোস্টেরনের বৃদ্ধি বা অভাব পুরুষদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.
ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়
ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পুরুষদের শারীরিক গঠন, যৌন ক্ষমতা এবং মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে শরীরে বেশ কিছু সমস্যা এবং পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
শারীরিক পরিবর্তনঃ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে গেলে পেশীর বৃদ্ধি এবং শারীরিক শক্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি চেহারায় অতিরিক্ত লোম গজানো, ত্বকের তৈলাক্তভাব বৃদ্ধি এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাথার চুল পড়ে যাওয়া বা টাক পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
মনোভাব ও আচরণগত পরিবর্তনঃ অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরনের ফলে আচরণে আক্রমণাত্মকতা এবং উগ্রতা বাড়তে পারে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং রাগ বা উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া মানসিক স্থিতিশীলতায় সমস্যা হতে পারে। যেমন উদ্বেগ বা হতাশার প্রবণতা।
যৌন স্বাস্থ্যঃ টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির ফলে লিবিডো বা যৌন চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এর উচ্চ মাত্রা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাবে পরবর্তীতে যৌন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।
স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরনের কারণে হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এটি রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে লিভার এবং কিডনির কার্যক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রজনন ক্ষমতাঃ উচ্চ মাত্রার টেস্টোস্টেরন শরীরের স্বাভাবিক হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে শুক্রাণুর উৎপাদন কমে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণের উপায়ঃ যদি শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক ডায়েট, ব্যায়াম এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এখন বলা যায় শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মাত্রা শরীর ও মন দুইয়ের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই অবস্থাটি শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় স্বাস্থ্য সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ
টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা যৌন ক্ষমতা, পেশী গঠন, হাড়ের ঘনত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যখন এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, তখন শরীর ও মনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার কিছু প্রধান লক্ষণ নিচে উল্লেখ করা হলো।
যৌন ক্ষমতা হ্রাসঃ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে যৌন চাহিদা বা লিবিডো কমে যেতে পারে। এছাড়া ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পেশী শক্তি এবং ভর কমে যাওয়াঃ পেশী গঠন এবং শক্তি বজায় রাখতে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্রা কমে গেলে পেশী ভর কমতে শুরু করে এবং শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসঃ টেস্টোস্টেরনের অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতাঃ যারা টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে ভুগছেন, তারা প্রায়ই অকারণে ক্লান্তি এবং শক্তিহীনতা অনুভব করেন। সারাদিনের কাজের পরিশ্রম সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মানসিক অবস্থা ও আচরণগত পরিবর্তনঃ টেস্টোস্টেরন কমে গেলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
চুল পড়াঃ টেস্টোস্টেরন হরমোন চুলের বৃদ্ধির সাথেও জড়িত। এর ঘাটতির কারণে চুল পড়া শুরু হয় এবং মাথায় টাক পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
শরীরের চর্বি বৃদ্ধিঃ টেস্টোস্টেরনের অভাবে শরীরে ফ্যাট জমা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, বিশেষ করে পেটের চারপাশে।
ঘুমের সমস্যাঃ ঘুম না আসা বা ঘুমের গুণগত মান খারাপ হওয়া টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার আরেকটি লক্ষণ।
প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসঃ শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় এবং কমে গেলে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি। টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা এড়াতে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
টেস্টোস্টেরন হরমোন কি
টেস্টোস্টেরন হরমোন হল একটি প্রধান যৌন হরমোন যা পুরুষের দেহে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক এবং মানসিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটি অণ্ডকোষ এবং আংশিকভাবে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। যদিও এটি মূলত পুরুষদের জন্য প্রধান হরমোন, মহিলাদের দেহেও টেস্টোস্টেরন অল্প পরিমাণে থাকে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোন যৌন বিকাশ, প্রজনন ক্ষমতা এবং শরীরের পেশিশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, দেহের বিভিন্ন অংশে চুল বৃদ্ধি এবং হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্যও দায়ী। এছাড়া টেস্টোস্টেরন হরমোন মানসিক স্থিতিশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
তবে টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্যহীনতা শরীরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় এ সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। যখন ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়, তখন এটি আচরণে আক্রমণাত্মক প্রবণতা, ত্বকে ব্রণ এবং অস্বাভাবিক চুল বৃদ্ধির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যায়, তখন এটি শারীরিক শক্তি হ্রাস, যৌন আগ্রহের অভাব এবং মানসিক উদ্বেগের কারণ হতে পারে। টেস্টোস্টেরনের সঠিক মাত্রা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি। তাই শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হরমোন টেস্ট কিভাবে করে
হরমোন টেস্ট হলো একটি বিশেষ পরীক্ষা যা শরীরের হরমোনের মাত্রা নির্ধারণ করে। শরীরের বিভিন্ন কার্যপ্রক্রিয়া যেমন প্রজনন, বিপাক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হরমোনের মাত্রায় অসামঞ্জস্য থাকলে তা বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এই পরীক্ষা সাধারণত রক্ত, মূত্র বা লালা নমুনার মাধ্যমে করা হয়। নিচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো কিভাবে হরমোন টেস্ট করা হয়।
হরমোন টেস্ট প্রস্তুতিঃ ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় বা কমলে কি সমস্যা হয় বুঝতে প্রথমে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। তিনি লক্ষণ দেখে এবং রোগীর স্বাস্থ্য ইতিহাস বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করেন কোন হরমোন পরীক্ষা প্রয়োজন। কিছু হরমোন পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া বন্ধ রাখতে বলা হয়, যেমন ফাস্টিং (খালি পেটে থাকা)। ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তা চিকিৎসককে জানানো জরুরি। কারণ এটি পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেঃ বেশিরভাগ হরমোন টেস্ট রক্তের মাধ্যমে করা হয়। একজন স্বাস্থ্যকর্মী একটি সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রোগীর হাতের শিরা থেকে রক্ত সংগ্রহ করেন। এরপর রক্তের নমুনাটি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়, যেখানে তা বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমেঃ কিছু হরমোন যেমন কর্টিসল বা প্রজনন হরমোন, মূত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। রোগীকে একটি পরিষ্কার পাত্রে নির্দিষ্ট সময়ে মূত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। অনেক সময় ২৪ ঘণ্টার মূত্র সংগ্রহ করা হয়, যা পরীক্ষার জন্য আরও সঠিক ফলাফল প্রদান করে।
লালা পরীক্ষার মাধ্যমেঃ নির্দিষ্ট হরমোন যেমন কর্টিসল বা প্রোজেস্টেরন, লালা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। এরপর রোগীকে একটি পাত্রে লালা জমা দিতে বলা হয়, যা ল্যাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
ল্যাব বিশ্লেষণ এবং রিপোর্টঃ ল্যাবরেটরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনাগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলের রিপোর্ট সাধারণত ১-২ দিনের মধ্যে প্রদান করা হয়। চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে রোগীর হরমোনের ভারসাম্য বা সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
হরমোন টেস্ট একটি সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি। যা শরীরের হরমোন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সনাক্ত করতে সাহায্য করে। ফলাফলের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা বা থেরাপি প্রদান করেন।
পুরুষের টেস্টোস্টেরন এর স্বাভাবিক মাত্রা কত
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা 280-1100 ng/dL (ন্যানোগ্রাম/ডেসিলিটার) এর মধ্যে থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। মহিলাদের জন্য এটি 15 থেকে 70 ng/dL।
যুবকঃ এই সময়ে অর্থাৎ ১৮-৩৫ বছর বয়সে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সাধারণত সর্বোচ্চ থাকে।
মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ পুরুষঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতি বছর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১-২% করে কমে যায়।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উচ্চ বা নিম্ন হলে তা শরীরের নির্দিষ্ট সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাত্রা টেস্টিস বা ডিম্বাশয়ে টিউমার থাকার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। অন্যদিকে নিম্ন মাত্রা হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা, বয়সজনিত প্রভাব বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে হতে পারে। যদি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এই সীমার বাইরে চলে যায়, তবে এটি স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যায় কেন
টেস্টোস্টেরন হরমোন হলো পুরুষদের শরীরে প্রধান যৌন হরমোন। এই হরমোনের ভারসাম্য শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
- সাধারণত বিভিন্ন কারণে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো।
- বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। ৩০-৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছর প্রায় ১-২% হারে এই হরমোনের ক্ষরণ হ্রাস পায়।
- অতিরিক্ত চর্বি, বিশেষ করে পেটের অংশে, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখে।
- দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণকে বাধাগ্রস্ত করে।
- পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ব্যায়ামের অভাবও এই হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
- কিছু রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা, বা লিভারের রোগ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে।
- ওষুধের প্রভাবে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যায় কেন না, স্টেরয়েড, ব্যথানাশক ওষুধ, বা কিছু হরমোন থেরাপি টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং মাদকদ্রব্যের ব্যবহার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
সঠিক জীবনধারা অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এই সমস্যা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। টেস্টোস্টেরন হরমোন কমার লক্ষণ থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করালে সুস্থ থাকা সহজ হয়।
পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায়
যদি আপনার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, তবে তা বাড়ানোর কিছু প্রাকৃতিক এবং চিকিৎসা-পদ্ধতি রয়েছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিঃ
- শরীরচর্চা বা নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষত ওজন উত্তোলন এবং কার্ডিও এক্সারসাইজ, টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে।
- পুষ্টিকর খাবার তথা জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- ডিম, মাছ, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজি।
- প্রতিরাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পরিমিত পরিমাণে গভীর ঘুম হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে।
- মানসিক চাপ কমাতে হবে। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়মিত অভ্যাস স্ট্রেস কমিয়ে হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত চর্বি শরীরের টেস্টোস্টেরন কমাতে পারে। তাই সুষম ডায়েট এবং শারীরিক কার্যকলাপ অপরিহার্য।
চিকিৎসার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিঃ
- টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (TRT) টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন বা গেলের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি পূরণ করা হয়।
- আরো একটি পদ্ধতি হলো ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট। কিছু নির্দিষ্ট সাপ্লিমেন্ট টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে কার্যকর। তবে এগুলো ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ। কারণ টেস্টোস্টেরন পুরুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা জীবনধারার মান নির্ধারণ করে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপন টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক জ্ঞান এবং সচেতনতাই সুস্থ জীবনধারার চাবিকাঠি।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়া বা কমার কারণ, লক্ষণ, হরমোন টেস্ট এবং পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url