প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
প্রেগন্যান্সি-টেস্ট-কিট-কতবার-ব্যবহার-করা-যায়
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট নারীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস যার সঠিক ব্যবহারে সহজেই গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে সক্ষম। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট সাধারণত একবার ব্যবহার করার জন্য ডিজাইন করা হয়। এর মানে একটি কিট ব্যবহার করার পর তা পুনরায় ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। একাধিক কারণে এটি পুনরায় ব্যবহার করা উচিত নয়। টেস্ট কিটের সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য এটি একক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। অন্যদিকে পুনরায় ব্যবহারের ফলে কিটে মজুদ থাকা রিএজেন্টগুলি কার্যক্ষমতা হারাতে পারে, যা ফলাফলের নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই কিটের অংশগুলি যেমন স্ট্রিপ বা স্যাম্পল কনটেইনারের পরিষ্কার অবস্থা নষ্ট হতে পারে যা পরীক্ষার প্রক্রিয়াতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটে সাধারণত একটি লিমিটেড সময়ের জন্য স্টোরেজের উপযুক্ততা থাকে। কিটটি একবার খুললে এতে উপস্থিত রিএজেন্ট এবং কেমিক্যাল কম কার্যকর হতে পারে। ফলে ফলাফল সঠিক নাও হতে পারে।

তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কিটের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের আগেই এটি ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া টেস্টটি করা উচিত প্রথম সকালে মূত্র দিয়ে। যেহেতু তখন হরমোনের কনসেন্ট্রেশন বেশি থাকে, যা আরও সঠিক ফলাফল প্রদান করতে সহায়ক। অতএব প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট একবার ব্যবহার করার পর নতুন কিট ব্যবহার করা উচিত।

আর ফলাফল যদি সন্দেহজনক হয় তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে যেহেতু অনেক সময় প্রথম টেস্টে ভুল হতে পারে। তাই কিছুক্ষণ বা একদিন পরে নতুন কিট ব্যবহার করে টেস্ট করা উচিত। তাই মনে রাখা উচিত প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায়, তা একবারই নির্ধারিত।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট সঠিকভাবে ব্যবহারে গর্ভবতী হওয়ার সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়। এটি একটি সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতি। তবে ফলাফল সঠিক হওয়ার জন্য কিছু নিয়মাবলী অনুসরণ করা জরুরি। নিচে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের সঠিক নিয়ম দেয়া হলো।

কিটটি নির্বাচনঃ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কিনে নেওয়ার সময়, প্রথমে কিটের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেখে নিন। মেয়াদ উত্তীর্ণ কিট ব্যবহার করলে ফলাফল সঠিক নাও হতে পারে। তাছাড়া প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় তাও জানা প্রয়োজন। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কিট পাওয়া যায়। তাই ভালো মানের কিট বেছে নেয়া উচিত।

সঠিক সময় নির্বাচনঃ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন আপনার পিরিয়ড মিস হয় এবং আপনি অন্তত এক সপ্তাহের জন্য গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ অনুভব করছেন। প্রথম প্রেগন্যান্সি টেস্ট সাধারণত প্রথম সকালে মূত্র দিয়ে করা উচিত। কারণ তখন আপনার মূত্রে গর্ভধারণের হরমোন (hCG) সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে। যা সঠিক ফলাফল পেতে সহায়ক।

কিট প্রস্তুতিঃ টেস্ট করার আগে কিটটি একটি পরিষ্কার এবং শুকনো স্থানে রাখুন। কিটের সাথে থাকা নির্দেশাবলী মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। কিটের বক্সে সাধারণত একটি টেস্ট স্ট্রিপ বা কাভার থাকে যা মূত্রের সাথে যোগাযোগ করবে।

স্যাম্পল সংগ্রহঃ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটে সাধারণত মূত্রের একটি ছোট পরিমাণ প্রয়োজন হয়। এটি সংগ্রহ করার জন্য টেস্ট কিটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কিটের সাথে একটি পিপেট অথবা স্যাম্পল কনটেইনার থাকে, যাতে মূত্র সংগ্রহ করতে হয়।

ফলাফল দেখুনঃ মূত্র স্ট্রিপের উপর ড্রপ করার পর কিছু সময় অপেক্ষা করুন (সাধারণত ৩-৫ মিনিট)। ফলাফলটি নির্দেশিকার উপর ভিত্তি করে আপনার জন্য সহজে বোঝা যাবে। যদি দুটি রঙিন লাইনের উপস্থিতি হয় তবে আপনি গর্ভবতী। যদি একটিও না থাকে, তবে গর্ভাবস্থার কোনো প্রমাণ নেই।

সঠিক ফলাফল নিশ্চিত করুনঃ যদি আপনি ফলাফলে সন্দেহভাজন হন বা ফলাফল পরিষ্কার না হয়, তাহলে পরবর্তীতে নতুন কিট ব্যবহার করে পুনরায় পরীক্ষা করুন। আপনি চাইলে ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

পিরিয়ডের বিলম্বের পরে পুনরায় পরীক্ষাঃ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের পর যদি ফলাফল নেতিবাচক আসে, তবে ৩-৪ দিন পর পুনরায় পরীক্ষা করতে পারেন। কারণ গর্ভাবস্থার প্রাথমিক সময়ে হরমোনের পরিমাণ খুব কম হতে পারে।

যদি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ফলাফল পজিটিভ আসে, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য একজন গাইনোকোলজিস্ট বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিটি কিটের সাথে দেওয়া নির্দেশিকায় প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় আর নির্দিষ্ট নিয়মাবলি দেওয়া থাকে। যা ভালোভাবে পড়া উচিত। কিটে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ফলাফল দেখুন। নির্ধারিত সময়ের পরে টেস্ট স্ট্রিপের পরিবর্তন সঠিক ফলাফল দেখাবে না। সঠিকভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম মানলে এটি নির্ভরযোগ্য সহজ সমাধানের কাজ করবে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কোনটা ভালো

বর্তমানে বাজারে অনেক প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ব্র্যান্ডের মান ভিন্ন হতে পারে। কিছু ব্র্যান্ড যথেষ্ট ভালো মানের এবং নির্ভুল ফলাফল দেয়। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হলো।
  • Prega News: এটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। এর ব্যবহার সহজ এবং এটি দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে।
  • Clearblue: উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই কিটটি গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহ নির্ধারণে সক্ষম। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপযুক্ত যারা গর্ভাবস্থার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।
  • Velocit: দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেওয়ার জন্য পরিচিত এই কিটটি সহজেই প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করতে সাহায্য করে। আর অধিকাংশ ব্যবহারকারী একে নির্ভরযোগ্য মনে করেন।
  • AccuNews: সঠিক ফলাফল প্রদানের জন্য পরিচিত ব্র্যান্ড। এই কিটটি সাধারণত বেশ জনপ্রিয় এবং বাজারে সহজে পাওয়া যায়।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কেনার সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া কিট এড়াতে মেয়াদ পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া প্রতিটি ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য টেস্ট কিটের সঙ্গে থাকা নির্দেশাবলী ভালোভাবে পড়ে, সঠিক সময় এবং পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা উচিত।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কি ভুল হয়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কখনো কখনো ভুল ফলাফল দেখাতে পারে এবং এটি False Positive বা False Negative নামে পরিচিত। বিভিন্ন কারণে এমনটা হতে পারে।

প্রথম টেস্টের সময় ত্রুটিঃ যদি টেস্ট কিট সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে ভুল ফলাফল আসতে পারে। যেমন নির্দেশনা মেনে না চললে, যথাযথ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করলে বা টেস্ট কিটে অযথা কোনো ত্রুটি থাকলে এটি প্রভাবিত হতে পারে।

অতিরিক্ত পানি পান করার পর টেস্ট করাঃ অতিরিক্ত পানি বা তরল পান করলে প্রস্রাবের মধ্যে HCG হরমোনের ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে টেস্ট কিটে হরমোনের পর্যাপ্ত পরিমাণ না পাওয়ার কারণে ভুল ফলাফল আসতে পারে।

অন্যান্য ওষুধের প্রভাবঃ কিছু গর্ভধারণজনিত ওষুধ বা হরমোনজাতীয় চিকিৎসার কারণে HCG হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা টেস্টের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি কোনো বিশেষ চিকিৎসা নেওয়ার পরও কিটের ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে।

পুরোনো কিট ব্যবহারঃ মেয়াদ উত্তীর্ণ কিটে উপাদানগুলি কার্যকরী থাকে না। যার ফলে ভুল ফলাফল আসতে পারে। তাহলে যদি প্রথম টেস্টে সঠিক ফলাফল নিয়ে সন্দেহ হয়, একদিন পরে আরেকটি কিট ব্যবহার করে ফলাফল নিশ্চিত করা উচিত।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করার আগে অনেকেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন। যদিও এই পদ্ধতিগুলি শতভাগ নির্ভুল নয়, তবুও কিছু প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো কিছুটা সহায়ক হতে পারে। নিচে দুটি জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

বেকিং সোডা পরীক্ষাঃ বেকিং সোডা দিয়ে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে প্রস্রাব সংগ্রহ করতে হবে। এরপর এতে ১-২ চামচ বেকিং সোডা মেশান। যদি বেকিং সোডার সাথে প্রস্রাব মিশে ফেনা ওঠে, তাহলে এটি গর্ভাবস্থার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। এই পদ্ধতি একদম নির্ভুল নয় এবং এর ফলাফল অন্য কোন কারণে ভিন্ন হতে পারে। যেমন পাত্রের পরিচ্ছন্নতা বা বেকিং সোডার পরিমাণ।

চিনি পরীক্ষাঃ চিনি দিয়ে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার পদ্ধতিটি অনেকের কাছে পরিচিত। এতে প্রথমে একটি পাত্রে ১-২ চামচ চিনি নিন এবং তার ওপর প্রস্রাব দিন। যদি চিনি সহজে গলে না যায় তবে এটি গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই পদ্ধতিও নির্ভুল নয়। কারণ চিনি গলানোর প্রক্রিয়া বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ভিন্ন হতে পারে। যেমন তাপমাত্রা বা চিনি-এর ধরন।

এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার জন্য কিছু লোকের কাছে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলির নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলির ফলাফল শুধুমাত্র একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। যা নিশ্চিত করার জন্য প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করা উত্তম।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বাজারে সহজলভ্য। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এটি ক্রয় করতে পারবেন। আর প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম মেনে চললে এটি আরও নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। যদি ঘরোয়া পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মনে হয়, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় হল মাসিক রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর কয়েকদিন পর। সাধারণত গর্ভধারণের পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা সম্ভব। তবে সঠিক ফল পেতে কিছু সময় অপেক্ষা করা উচিত। অধিকাংশ গর্ভধারণ টেস্ট পদ্ধতি ইউরিনের মাধ্যমে করা হয় এবং এটি গর্ভাবস্থার হরমোন, হিউম্যান কোরিওনিক গনাডোট্রপিন (hCG), এর উপস্থিতি চিহ্নিত করে।

এই হরমোনটি গর্ভধারণের প্রথম দিকে শরীরে সৃষ্ট হয়। গর্ভধারণের প্রথম ১০-১৪ দিন পর এই হরমোনের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। তাই টেস্ট করার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যদি আপনি মাসিকের বিলম্ব ঘটনার পরে পরীক্ষা করেন, তবে hCG হরমোনের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে যাবে এবং টেস্ট ফলাফল আরও সঠিক হবে।

তবে যদি আপনি পরীক্ষাটি মাসিকের আগেই করেন, তখন হরমোনের পরিমাণ পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে ফল ভুল আসতে পারে। যাদের শারীরিক অবস্থার জন্য পরীক্ষার সময় অনিশ্চিত, তারা তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। যদি টেস্ট ফলাফল নেগেটিভ আসে এবং পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যে মাসিক না আসে, তবে পুনরায় টেস্ট করা উচিত। টেস্টের ফলস্বরূপ বুঝতে পারলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট এর দাম

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের দাম বাজারে বিভিন্ন রেঞ্জে পাওয়া যায়। যা সাধারণত ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এই দাম ব্র্যান্ড, কার্যকারিতা এবং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, Prega News কিটের দাম ৫০-৮০ টাকা, Clearblue কিটের দাম ২৫০-৩০০ টাকা, Velocit কিটের দাম ৮০-১০০ টাকা এবং AccuNews কিটের দাম ৪০-৭০ টাকার মধ্যে থাকে।

যারা নিয়মিত প্রেগন্যান্সি টেস্ট করেন, তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামের কিট কেনা ভালো হতে পারে। তবে কেবল দাম নয়, সঠিক ব্র্যান্ড বাছাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্র্যান্ডের মান এবং কার্যকারিতা সঠিক ফলাফল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি নিশ্চিত করবে যে টেস্ট কিট সঠিক তথ্য প্রদান করবে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে নির্ভুল ফলাফল দেবে।

এছাড়া প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও জানা প্রয়োজন। কারণ সাধারণত কিটগুলো একবার ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়। তাই টেস্টের সঠিক ফলাফলের জন্য প্যাকেটের নির্দেশিকা মেনে ব্যবহার করা উচিত। যাঁরা নিয়মিত টেস্ট করেন, তাঁদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কিট কেনা ভালো।

তবে সঠিক ব্র্যান্ড বাছাই এবং প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় তা জানা এবং প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি দ্রুত নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। তাছাড়া সঠিক সময় এবং নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের কিট ব্যবহার করাই গর্ভাবস্থা শনাক্তের সবচেয়ে ভালো উপায়।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কতবার ব্যবহার করা যায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কোনটা ভালো, ব্যবহারের নিয়ম, প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি এবং কিট এর দাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url