কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ গুলো কি কি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
কম্পিউটার-গ্রাফিক্স-ডিজাইন-কত-প্রকার-ও-কি-কি
কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমানে সৃজনশীল জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন, ফ্রিল্যান্সিং বা ব্র্যান্ড বিল্ডিং সব ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।
.

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চিত্র, লেখা এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল তৈরি করার একটি প্রক্রিয়া। এটি প্রধানত দুইটি ভাগে বিভক্তঃ রাস্টার গ্রাফিক্স এবং ভেক্টর গ্রাফিক্স। পাশাপাশি ২ডি, ৩ডি গ্রাফিক্স এবং মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাস্টার গ্রাফিক্সঃ গ্রাফিক্স ডিজাইনের মধ্যে রাস্টার গ্রাফিক্স হলো পিক্সেলভিত্তিক ডিজাইন। এটি সাধারণত ফটো এডিটিং, পোস্টার ডিজাইন এবং ছবির মান উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি ছবি ছোট ছোট পিক্সেলের সমন্বয়ে তৈরি হয়। যা জুম করলে ফেটে যায় বা ব্লার হয়। ফটোগ্রাফি এডিটিং, ডিজিটাল পেইন্টিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়। জনপ্রিয় সফটওয়্যার হচ্ছে Adobe Photoshop, Corel PHOTO-PAINT।

ভেক্টর গ্রাফিক্সঃ গ্রাফিক্স ডিজাইনের মধ্যে ভেক্টর গ্রাফিক্স হলো পয়েন্ট, লাইন এবং জ্যামিতিক আকারের সমন্বয়ে তৈরি ডিজাইন। এটি যেকোনো আকারে স্কেল করা যায় এবং মান অক্ষুণ্ণ থাকে। লোগো, আইকন এবং কার্টুন ডিজাইনের কাজে ব্যবহার করা হয়। জনপ্রিয় কিছু সফটওয়্যার হচ্ছে Adobe Illustrator, CorelDRAW।

টু-ডাইমেনশনাল (2D) গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ ২ডি ডিজাইনে উচ্চতা এবং প্রস্থ ব্যবহার করে চিত্র তৈরি করা হয়। এটি পোস্টার, ফ্লায়ার এবং কার্ড ডিজাইনে ব্যবহৃত হয়।

থ্রি-ডাইমেনশনাল (3D) গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ ৩ডি গ্রাফিক্স উচ্চতা, প্রস্থ এবং গভীরতার সমন্বয়ে তৈরি হয়। এটি সাধারণত গেমিং, অ্যানিমেশন এবং আর্কিটেকচারাল মডেলিংয়ে ব্যবহৃত হয়। এধরনের জনপ্রিয় সফটওয়্যার হচ্ছে Blender, 3ds Max।

মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ এটি একটি বিশেষ ধরণের গ্রাফিক্স ডিজাইন যেখানে ভিডিও, অ্যানিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাধ্যমে গল্প বলা হয়। এটি সিনেমা, বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। After Effects এবং Adobe Premiere Pro এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত জনপ্রিয় সফটওয়্যার।

UI/UX ডিজাইনঃ ইউজার ইন্টারফেস এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন হলো UI/UX ডিজাইন। এটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ইউজারদের জন্য একটি সহজ এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন তৈরি করা হয়। Figma এবং Adobe XD এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

ওয়েব গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ ওয়েবসাইটের জন্য ব্যানার, স্লাইডার এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করা হয়। HTML, CSS এবং JavaScript-এর পাশাপাশি Photoshop এবং Illustrator এখানে ব্যবহৃত হয়।

এতক্ষণে আপনারা কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন মূলত রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্স থেকে শুরু করে ২ডি, ৩ডি এবং মোশন গ্রাফিক্সের মতো বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত। প্রতিটি শাখার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার রয়েছে। সৃজনশীল ডিজাইনের জন্য সঠিক সফটওয়্যার এবং দক্ষতা একটি প্রোফেশনাল ডিজাইনারকে আরও সফল করে তোলে।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ গুলো কি কি

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমানে একটি বহুমুখী ক্ষেত্র, যা বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে সৃজনশীল আইডিয়া বাস্তবায়ন করা হয় এবং ব্র্যান্ডিং থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে লোগো ডিজাইন, যা একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতি গড়ে তুলতে সহায়ক। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মার্কেটিং ম্যাটেরিয়াল যেমন পোস্টার, ব্যানার এবং ফ্লায়ার তৈরি করা এর গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রেও গ্রাফিক্স ডিজাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের ভিজ্যুয়াল লেআউট এবং ইউজার ইন্টারফেস আকর্ষণীয় করা হয়। ইলাস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বইয়ের চিত্র, কার্টুন বা অ্যানিমেশন তৈরি করা হয়, যা শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে ও বিনোদনে ব্যবহৃত হয়।

মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভিডিও এডিটিং এবং অ্যানিমেটেড কন্টেন্ট তৈরি করা হয়। যেটা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন এবং চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও, আর্টওয়ার্ক, ডিজিটাল অ্যাসেট এবং থ্রি-ডি মডেল তৈরির মতো কাজও এর মধ্যে পড়ে।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজগুলো এতই বিস্তৃত যে এটি কর্পোরেট, মিডিয়া এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান রাখছে। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি এ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে এর সাহায্যে সুবিধা মত কাজ করা সম্ভব। এটি শুধু সৃজনশীলতাই প্রকাশ করে তা নয় পেশাগত দিক থেকেও অসংখ্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি

গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো একটি ভিজ্যুয়াল আর্ট ফর্ম যেখানে চিত্র, লেখা ও রঙের সাহায্যে একটি বার্তা সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। লোগো, পোস্টার, ব্যানার, বইয়ের কাভার, ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেস সব কিছুতেই গ্রাফিক্স ডিজাইন ব্যবহার হয়। এটা হলো একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া যেখানে ভিজ্যুয়াল উপাদান এবং টেক্সট ব্যবহার করে একটি বার্তা বা ধারণা প্রকাশ করা হয়। এটি বিভিন্ন শিল্পকর্ম, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং এবং যোগাযোগ মাধ্যম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের মূল লক্ষ্য হলো দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা এবং একটি নির্দিষ্ট বার্তা সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছে দেওয়া। এই ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়। যেমন রঙ, ফন্ট, ছবি, চিত্রকল্প এবং স্থান। এগুলোর সঠিক ব্যবহার ডিজাইনের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়া কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ গুলো কি কি সম্পর্কে জানা থাকলেও এর সঠিক ব্যবহার করা যায়।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি এর উপর ভিত্তি করে ডিজাইন তৈরির জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। যেমন Adobe Photoshop, Illustrator, CorelDRAW, Canva ইত্যাদি। ডিজাইনাররা এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে লোগো, পোস্টার, ব্যানার, ফ্লায়ার, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং আরও অনেক কিছু তৈরি করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিল্প তার সাথে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে একটি পণ্য, সেবা, বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং কার্যকরভাবে করা যায়। উদাহরণস্বরূপ একটি আকর্ষণীয় লোগো বা পোস্টার গ্রাহকদের মনে প্রতিষ্ঠানের একটি ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমান যুগে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে গ্রাফিক্স ডিজাইনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দক্ষ ডিজাইনাররা সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও ব্যবসায়িক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি লাভজনক

গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমান যুগে একটি লাভজনক পেশা। ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম যেমন Fiverr, Upwork এবং Freelancer-এ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিংয়ের জন্য দক্ষ ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে থাকে। একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মাসে $১,০০০ বা তার বেশি উপার্জন করতে পারেন।

স্থানীয় বাজারে অভিজ্ঞ ডিজাইনারদের মাসিক আয় সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হয়ে থাকে। ডিজাইন ছাড়াও বিভিন্ন প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ যেমন ডিজিটাল অ্যাসেট বিক্রি করেও আয় সম্ভব। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদী পেশা হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি লাভজনক ফল হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় আর থাকার কথা নয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শেখা যায়

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে আপনাকে কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং টুলে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম যেমন Udemy, Coursera, Skillshare এবং YouTube-এ গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য বিনামূল্যের বা স্বল্পমূল্যের কোর্স পাওয়া যায়। এই কোর্সগুলো নতুনদের জন্য সহজে শেখার উপযোগী এবং দিকনির্দেশনামূলক।

সফটওয়্যার শেখা গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এজন্য কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নিতে হবে। Adobe Photoshop, Illustrator এবং Canva হলো এমন কিছু সফটওয়্যার যা ডিজাইনারদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতে হয়। এগুলো শেখার মাধ্যমে আপনার ডিজাইন দক্ষতার ভিত্তি তৈরি হবে। শেখার সঙ্গে নিয়মিত প্র্যাকটিস করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন নতুন ডিজাইন প্রজেক্টে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব।

ইন্টার্নশিপ করা গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ গুলো কি কি জানা থাকলে স্থানীয় ডিজাইন এজেন্সিতে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। এটি আপনাকে বাস্তব জীবনের কাজের চাপ এবং ক্লায়েন্টদের চাহিদা বুঝতে সাহায্য করবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা ধৈর্য এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে একবার শিখে গেলে সৃজনশীলতা এবং দক্ষতার সংমিশ্রণে এটি আয়ের একটি দারুণ পথ হয়ে উঠবে। একজন সফল ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রচেষ্টা থাকলে গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে একটি সফল পেশা।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার

অনেকেই জানতে চান কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি এর সাথে সাথে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার। মূলত এটি তিনটি প্রধান প্রকারে বিভক্ত, যা বিভিন্ন ডিজাইন প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহৃত হয়। নিম্নে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন এর প্রকারভেদ উল্লেখ করা হলো।

২ডি গ্রাফিক্সঃ পিক্সেলভিত্তিক বা ভেক্টর-ভিত্তিক ডিজাইন হলো ২ডি গ্রাফিক্স যা উচ্চতা এবং প্রস্থের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এটি সাধারণত লোগো, পোস্টার, ফ্লায়ার এবং ব্যানার ডিজাইনে ব্যবহৃত হয়। ভেক্টর গ্রাফিক্স মান অক্ষুণ্ণ রেখে যেকোনো সাইজে ব্যবহার করা যায়, যেখানে রাস্টার গ্রাফিক্স পিক্সেলভিত্তিক এবং জুম করলে ফেটে যেতে পারে।

৩ডি গ্রাফিক্সক্ষ এই ৩ডি গ্রাফিক্স হলো ত্রিমাত্রিক ডিজাইন, যা উচ্চতা, প্রস্থ এবং গভীরতার মাধ্যমে তৈরি হয়। এটি সাধারণত অ্যানিমেশন, গেমিং এবং আর্কিটেকচারাল মডেলিংয়ে ব্যবহৃত হয়। ৩ডি সফটওয়্যার যেমন Blender এবং Autodesk Maya এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

মোশন গ্রাফিক্সঃ আর মোশন গ্রাফিক্স হলো চলমান চিত্র এবং ভিডিও ডিজাইন। এটি বিজ্ঞাপন, সিনেমা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য অ্যানিমেশন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। After Effects এবং Adobe Premiere Pro এর জন্য জনপ্রিয় সফটওয়্যার। আধুনিক ক্ষেত্রে বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে Augmented Reality (AR) এবং Virtual Reality (VR) ডিজাইন। এই প্রযুক্তিগুলো ইন্টারেকটিভ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদানে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের এই শাখাগুলো বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম।

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে কত টাকা ইনকাম করা যায়

গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমানে একটি চাহিদাসম্পন্ন পেশা। দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ফ্রিল্যান্সিং, পূর্ণকালীন চাকরি এবং প্যাসিভ ইনকামের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন। নিচে এই পেশায় আয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো।

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Fiverr, Upwork এবং Freelancer-এ কাজ করে আয় করা সম্ভব। সাধারণত ছোট প্রকল্প থেকে বড় প্রকল্প পর্যন্ত আয়ের পরিমাণ $৫-$১০০ বা তার বেশি হতে পারে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে মাসে হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

পূর্ণকালীন চাকরির সুযোগ হিসেবে এই সেক্টরে কাজ করার অনেক সুযোগ-সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করে একটি স্থিতিশীল আয় সম্ভব। বাংলাদেশে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মাসিক বেতন সাধারণত ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। বড় প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে কাজ করলে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে প্যাসিভ ইনকামও সম্ভব। ডিজিটাল অ্যাসেট যেমন লোগো, ব্যাকগ্রাউন্ড, টেমপ্লেট এবং আইকন ডিজাইন করে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে (Creative Market, Envato Elements) বিক্রি করা যায়। জনপ্রিয় ডিজাইন বারবার বিক্রি হলে প্যাসিভ আয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ গুলো কি কি সম্পর্কে জানলে বুঝা যায়, এটি কেবল পেশাদারদের সঙ্গে নতুনদের জন্যও একটি চমৎকার সুযোগ। এসবের সঙ্গে এতক্ষণে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে কত টাকা ইনকাম করা যায় এ সম্পর্কে আপনারা ধারণা পেয়েছেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সঠিক প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার করার উপর।

একজন ডিজাইনার ক্রমাগত দক্ষতা বাড়িয়ে কাজ করলে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমানে সৃজনশীলতার সাথে সাথে একটি প্রফেশনাল স্কিল যা দিয়ে আয় করা যায়। সঠিক উপায়ে শিখে এবং অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি আপনার ক্যারিয়ারকে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে পারবেন।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার ও কি কি তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি, কত প্রকার, গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শেখা যায় এবং এর মাধ্যমে লাভজনক ইনকাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url