এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব
এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব সে প্রসঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, এসিড বৃষ্টির মূল উপাদান কি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন এসিড বৃষ্টির উপাদান, কারণ, ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।এসিড বৃষ্টির ফলে দ্রুতবেগে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যা প্রাণিজগতে এবং স্থাপনার উপর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই আজকের পোস্টে এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব সেই বিষয় সম্পর্কে বিশদভাবে সকল তথ্য আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করছি আপনারা ধৈর্য সহকারে আজকের পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
ভূমিকা
আধুনিক বিশ্বের অন্যতম পরিবেশগত সমস্যা হলো এসিড বৃষ্টি। শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যার ফলে এসিড বৃষ্টির মতো সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এসিড বৃষ্টি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর কারণে মাটি, জলাশয়, গাছপালা, প্রাণীকুল এবং অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা যা কিছু জানবো তা হল- এসিড বৃষ্টি কি, এসিড বৃষ্টির মূল উপাদান কি, এসিড বৃষ্টির কারণ কি, এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধের উপায়, এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব, অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য কোন গ্যাস দায়ী এ সকল বিষয়ের তথ্য সম্পর্কে।
এসিড বৃষ্টি কি
এসিড বৃষ্টি বলতে এমন একটি পরিবেশগত সমস্যাকে বোঝানো হয় যেখানে বৃষ্টির জল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অম্লীয় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) জাতীয় গ্যাস বৃষ্টির পানিতে মিশে বৃষ্টির পানিকে এসিডযুক্ত করে। এই এসিডযুক্ত বৃষ্টিকেই অম্ল বৃষ্টি বা এসিড বৃষ্টি বলা হয়।
সাধারণত বৃষ্টির পানির পিএইচ (pH) মান ৫.৬ এর কাছাকাছি থাকে। কিন্তু যখন বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাস গুলো বৃষ্টির পানিতে মিশ্রিত হয়, তখন এর পিএইচ মান কমে যায় এবং এটি এসিডিক প্রকৃতির হয়ে পড়ে। পিএইচ (pH) স্তর কমে ৪.৫ এর নিচে নেমে যায়। ফলে এই ধরনের বৃষ্টিকে এসিড বৃষ্টি বলা হয়। এই বৃষ্টির ফলে মাটি, জলাশয়, গাছপালা এবং জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসিড বৃষ্টির মূল উপাদান কি
এসিড বৃষ্টির মূল উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবেশ সচেতনতার জন্য অপরিহার্য বিষয়। এসিড বৃষ্টির প্রধান উপাদান হলো সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ)। এই গ্যাসগুলো মূলত কল-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যানবাহন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে বিশেষ করে কয়লা পোড়ানোর সময় প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়।
এছাড়া যানবাহনের ইঞ্জিন এবং বিমান থেকে নির্গত ধোঁয়া নাইট্রোজেন অক্সাইড ছড়িয়ে দেয়। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ভাসমান জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে। সালফার ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে অক্সিজেন এবং জলীয় বাষ্প মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) তৈরি করে। একইভাবে নাইট্রোজেন অক্সাইডের বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃)। এসিড বৃষ্টির গ্যাসের বিক্রিয়া প্রক্রিয়া।
এসিড বৃষ্টির প্রধান দুটি গ্যাস— সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ)। এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে।
- SO₂ + H₂O → H₂SO₄ (সালফিউরিক অ্যাসিড)
- NOₓ + H₂O → HNO₃ (নাইট্রিক অ্যাসিড)
এই অ্যাসিডগুলো পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার মাধ্যমে মাটিতে পড়ে এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এখন এসিড বৃষ্টির মূল উপাদান কি, এর উত্তরে আপনারা বলতে পারবেন সালফার ডাইঅক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডের মিশ্রণ। সচেতনতার জন্য এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করা হবে। এসিড বৃষ্টির এই উপাদানগুলো শুধু বায়ু দূষণের কারণ নয়, একইসাথে মাটি, জলজ প্রাণী এবং উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এসিড বৃষ্টির কারণ কি
এসিড বৃষ্টি একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা, যার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ) গ্যাসের বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়ে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে। নিচে এসিড বৃষ্টির কারণগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।
- শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই কল-কারখানা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইস্পাত কারখানা, কাগজকল এবং বিভিন্ন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে পানির সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) তৈরি করে, যা এসিড বৃষ্টির প্রধান উপাদান।
- কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে প্রচুর সালফার ডাইঅক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লা পোড়ানোর সময় সর্বাধিক পরিমাণে এই গ্যাসগুলো নির্গত হয়। নিম্নমানের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করলে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
- বড় শহরগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বায়ু দূষণের মাত্রাও বেড়েছে। গাড়ির ইঞ্জিন থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ) গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পানির সাথে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) তৈরি করে। এটি এসিড বৃষ্টির একটি বড় কারণ।
- বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা ও তেল পোড়ানো হয়। এই প্ল্যান্টগুলো বায়ুমণ্ডলে বিশাল পরিমাণ সালফার ডাইঅক্সাইড ছেড়ে দেয়। যা পরবর্তী সময়ে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে।
- বনভূমি ধ্বংস বা দাবানলের সময়ও বিভিন্ন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। বনভূমি পোড়ানোর ফলে সালফার ও নাইট্রোজেনের যৌগ তৈরি হয়, যা এসিড বৃষ্টির কারণ হতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হিসেবে কিছু প্রাকৃতিক উৎসকেও দায়ী করা যায়। যেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়।
- এছাড়াও বজ্রপাতের সময় নাইট্রোজেনের অক্সাইড গঠিত হয়। যদিও প্রাকৃতিক উৎসের অবদান তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু এটি এসিড বৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
তাহলে বলা যায়, এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত মানুষের কার্যকলাপের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কিছু প্রাকৃতিক কারণ এসিড বৃষ্টি তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও মানুষের অবহেলার কারণে এসিড বৃষ্টির প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধে আমাদের শিল্প কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে মনোযোগী হতে হবে।
এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধের উপায়
এসিড বৃষ্টি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নিচে এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধের কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।
- জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জলবিদ্যুৎ শক্তির মতো পরিষ্কার ও পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। এটি সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ) গ্যাস নির্গমন কমাতে সাহায্য করবে।
- শিল্প-কারখানা এবং যানবাহনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব। কল-কারখানার চিমনিতে স্ক্রাবার ব্যবহার করে সালফার ডাইঅক্সাইডের নির্গমন কমানো যায়। যানবাহনের ক্ষেত্রে ক্যাটালিটিক কনভার্টার লাগানো গেলে নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
- বায়ুমণ্ডলের দূষিত গ্যাস শোষণ করতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। গাছ সালফার ডাইঅক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড শোষণ করতে সক্ষম। এছাড়া গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাতাস পরিশুদ্ধ করার কাজ করে।
- জ্বালানির গুণগত মান উন্নত করতে হবে, যাতে কম পরিমাণে সালফার নির্গত হয়। নিম্নমানের কয়লা ও তেল পোড়ানোর পরিবর্তে পরিশোধিত ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।
- এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যদিও ইতোমধ্যে এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও অত্যন্ত ভয়াবহ।
- ইতিহাসে এসিড বৃষ্টির প্রভাব উদাহরণস্বরূপ জানার মাধ্যমে জনমনে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যায়। ১৯৮০ সালের দিকে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বড় বড় বন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এবং কানাডার বিভিন্ন জলাভূমিতে জলজ প্রাণীর ব্যাপক মৃত্যু হয়।
- তাছাড়া মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে। এসিড বৃষ্টির ফলে বাতাসে অম্লীয় উপাদান ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শিশু এবং বয়স্ক মানুষের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক।
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তথা এসিড বৃষ্টি বৈশ্বিক সমস্যা হওয়ায় বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দূষণ কমাতে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সুতরাং এসিড বৃষ্টি প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং দূষণমুক্ত জ্বালানির প্রচলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি থেকে শুরু করে সরকার ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এসিড বৃষ্টি আধুনিক সভ্যতার একটি ভয়ংকর পরিবেশগত সমস্যা। এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব যেমন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় ঠিক তেমনি একে প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
পরিস্কার জ্বালানি ব্যবহার, উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং বনায়নই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। সময় থাকতে সচেতন হওয়া জরুরি, কারণ এসিড বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের পরিবেশ, জীবজগৎ এবং স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এসিড বৃষ্টির মূল উপাদান কি এই তথ্য জানা এবং দূষণ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাই এর সমাধানের পথ।
এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব
এসিড বৃষ্টিতে ক্ষতির প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক এবং সুদূরপ্রসারী। এটি পরিবেশের সাথে জীবজগতের জন্যও বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এসিড বৃষ্টি বিভিন্নভাবে মাটি, জলাশয়, উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিচে এসিড বৃষ্টির অন্যতম ক্ষতিকর দুটি প্রভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
মাটির উর্বরতা হ্রাসঃ এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে অন্যতম হলো মাটির উর্বরতা হ্রাস। এসিড বৃষ্টির ফলে মাটির পিএইচ (pH) মান কমে যায় এবং এটি অম্লীয় হয়ে ওঠে। অম্লীয় মাটির কারণে মাটির গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন— ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি ধুয়ে মাটির গভীরে চলে যায়। এসব পুষ্টি উপাদানের অভাবে উদ্ভিদ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না এবং গাছপালার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং কৃষির ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। দীর্ঘমেয়াদে এটি খাদ্য সংকটের কারণ হতে পারে। এছাড়াও মাটিতে থাকা ক্ষুদ্র জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা মাটির স্বাস্থ্যকে আরও দুর্বল করে দেয়। এসিড বৃষ্টির কারণে মাটির রূপান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
জলজ প্রাণীর মৃত্যুঃ এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব এর মধ্যে আরেকটি মারাত্মক প্রভাব হলো জলজ প্রাণীদের মৃত্যু। বৃষ্টির পানি যখন নদী, হ্রদ বা পুকুরে পড়ে, তখন এর পিএইচ মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। জলাশয়ের পানি অম্লীয় হয়ে পড়লে জলজ প্রাণী যেমন মাছ, ব্যাঙ এবং অন্যান্য অণুজীবের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
অম্লীয় পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং অনেক জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এছাড়া এসিড বৃষ্টির কারণে পানিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম যৌগ মুক্ত হয়ে জলজ প্রাণীদের শ্বাসনালীতে জমা হতে পারে। এর ফলে তাদের দেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যু ঘটে। জলজ প্রাণীর মৃত্যু বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উল্লেখ্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো খুবই দ্রুত পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রভাব টিকে থাকে। মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জলজ প্রাণীর মৃত্যু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যার সঙ্গে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য কোন গ্যাস দায়ী
এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধ করতে এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য মূলত দুই ধরনের গ্যাস দায়ী। এগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂): সালফার ডাইঅক্সাইড হলো এসিড বৃষ্টির প্রধান দায়ী গ্যাস। এটি মূলত কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে, কল-কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকেও প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়।
নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ): নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস যানবাহন এবং শিল্প কারখানার ইঞ্জিন থেকে নির্গত হয়। এটি বায়ুমণ্ডলে পানি এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) তৈরি করে, যা এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
এই দুটি গ্যাসই প্রধানত অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী এবং সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে এসিড বৃষ্টির দুটি ক্ষতিকর প্রভাব তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে এসিড বৃষ্টি, কারণ, ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url