কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে

কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ।
কোন-গাছ-জলাবদ্ধতা-সহ্য-করতে-পারে
পরিবেশ, জলবায়ু এবং মাটির বৈচিত্র্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ধরনের গাছের জন্ম হয়। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন কোন কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে তার  সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।

.কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে

জলাবদ্ধতা হলো মাটির মধ্যে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা, যা গাছের শিকড়ে পৌঁছে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। তবে কিছু গাছ এমন রয়েছে যা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এবং এই পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সক্ষম। এই গাছগুলির শিকড় অতিরিক্ত পানিতে অক্সিজেনের অভাবের মধ্যে টিকে থাকতে পারে এবং তাদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় না। নিচে কিছু গাছের উল্লেখ করা হলো, যা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে।
  • ধান গাছের অন্যতম প্রধান গুণ হলো এটি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। ধানের ক্ষেতগুলি সাধারণত জলাভূমিতে অথবা খালের পাশে চাষ করা হয়, যেখানে পানির স্তর বেশি থাকে। এই গাছটির শিকড় অতিরিক্ত পানিতে খুব ভালোভাবে টিকে থাকে।
  • ঝাউ গাছ হল এক ধরনের গাছ যা উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। এই গাছগুলি সাধারণত লবণাক্ত পানি সহ্য করতে পারে এবং সাগরের কুলে বেড়ে ওঠে। ঝাউ গাছের শিকড়ে বিশেষ ধরনের শ্বাসযন্ত্র থাকে, যা তাদের পানি-অববাহিকা পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
  • কলা গাছ এমন একটি গাছ যা জলাবদ্ধতায় ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এটি মাটির নিচে অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে এবং আর্দ্র পরিবেশে ভাল ফলন দিতে সক্ষম।
  • মটরশুঁটি গাছও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। এটি বেশি পানি পেলে শিকড়ের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে এবং পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়।
  • হলুদ গাছ পানির অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি মাটির আর্দ্রতা উপভোগ করে এবং জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে।
  • তরমুজ গাছও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে, তবে এই গাছটির শিকড় বেশি জলভর্তি মাটিতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
  • এছাড়া কুমড়া গাছ, শাক-সবজি যেমন লাল শাক এবং শসা গাছও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। এমন গাছ চাষ করার আগে পরিবেশ এবং মাটির উপযুক্ততা দেখে নিতে হয়। কেননা অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা কিছু গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন কিছু গাছ রয়েছে যেগুলি অতিরিক্ত পানি বা জলাবদ্ধ পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এই গাছগুলির মধ্যে জারুল, অর্জুন, মান্দার, ছাতিম, করচ, বরুণ, হিজল, কদম, বাঁশ, বেঁত এবং পিটালী উল্লেখযোগ্য। এসব গাছের শিকড় অতিরিক্ত পানিতে অক্সিজেনের অভাবের মধ্যে টিকে থাকতে পারে এবং তারা জলাবদ্ধ পরিবেশে বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত।
  • চর এলাকায় যেখানে মাটির উচ্চতা কম এবং পানি জমে থাকে, সেখানে কিছু বিশেষ গাছ চাষ করা যায়। যেমন বাবলা, ঝাউ, জারুল, কড়ই, কাঁকড়া, গরান, এবং বাইন গাছ। এই গাছগুলি চর অঞ্চলের পরিবেশে উপযুক্ত এবং জলাবদ্ধতায় টিকে থাকতে পারে।
  • এই গাছগুলির মূল গঠন এবং শিকড়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সেগুলিকে জলাবদ্ধতার পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা দেয়। এজন্য এসব গাছ নিদিষ্ট এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে।
এভাবে কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছের প্রজাতি নির্বাচন করে মাটির অবস্থা এবং জলাধারের স্তর অনুযায়ী উপযুক্ত চাষ করা যেতে পারে।

ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায়

ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ চাষ করার জন্য সঠিক প্রজাতি নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোন কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে আবার কোন গাছ এই ধরনের পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। তবে কিছু গাছ রয়েছে যা ছায়াযুক্ত স্থানে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং সুফল দেয়। এই গাছগুলি সাধারণত কম আলো ও আর্দ্র পরিবেশে ভালভাবে টিকে থাকতে পারে।
  • সালভিয়া গাছটি ছায়াযুক্ত স্থানে খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং এর ফুল এবং পাতা দেখতে খুব সুন্দর। এই গাছটি ছোট বা মাঝারি আকারের হয়ে থাকে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে সহজে বৃদ্ধি পায়।
  • অ্যালো ভেরার গাছ ছায়াযুক্ত স্থানে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এটি বিশেষত ত্বকের জন্য উপকারী।
  • হোস্টা একটি ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করার জন্য খুবই জনপ্রিয় গাছ যা কম আলোতে বৃদ্ধি পায় এবং শীতকালেও ভালো থাকে।
  • কলা গাছ কিছুটা ছায়াযুক্ত জায়গায় বেড়ে উঠলেও কিছু সূর্যের আলো প্রয়োজন। ছায়াযুক্ত স্থানে এই গাছটি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না তবে সঠিক যত্নের প্রয়োজন।
  • ওলকচু, মানকচু, সীম, ধুন্দল, গাছ আলু, মেটে আলু, মিষ্টি কুমড়া, কাঁকরোল এই সবজি গুলি ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো ফলন দিতে পারে। কারণ তারা অতিরিক্ত রোদে নয় আর্দ্র পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
  • গ্রীষ্মকালীন শাকজাতীয় সবজি যেমন টমেটো, সজনে ডাটা, মাশরুম, এবং ছায়াযুক্ত শাক-সবজি যেমন পুদিনা পাতা, কচু শাক, কলমি শাক, বিলাতি ধনিয়া, লেটুস ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করা যায়।
  • এছাড়া চা গাছ এবং ফেঞ্চ গাছ ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করা যেতে পারে। এই গাছগুলি শাক-সবজি এবং মসলা হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। ছায়াযুক্ত স্থানে রান্নায় ব্যবহৃত অনেক ধরনের মসলা গাছ জন্মাতে পারে।
আশা করছি আপনারা ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। এই সব গাছ এবং সবজিগুলি ছায়াযুক্ত স্থানে সহজেই বেড়ে ওঠে এবং কম আলোতে নিজেদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করতে পারে, যা চাষীদের জন্য একটি লাভজনক ও সহজ চাষ পদ্ধতি হতে পারে।

কোন গাছ লাগানো লাভজনক

লাভজনক গাছ নির্বাচন করার জন্য অনেক বিষয় খেয়াল করতে হয়। যেমন- চাষের পরিবেশ, বাজারে চাহিদা, কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে, মাটির ধরন, এবং সময়কাল। কিছু গাছ রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদি লাভ দিতে পারে। ফল গাছ বিশেষ করে আম, আনারস, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, পেঁপে এবং পেয়ারা লাগানো লাভজনক হতে পারে। এসব গাছের বাজার চাহিদা বেশ ভালো এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে। নিম্নে কোন গাছ লাগানো লাভজনক তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
  • আম গাছ একবার লাগালে অনেক বছর ধরে ফল দেয়। তবে ফসল আসতে কিছু বছর সময় লাগবে। এর পাশাপাশি ভালো সার্বিক যত্নের মাধ্যমে ফলের গুণগত মান বাড়ানো সম্ভব। যা বাজারে ভালো দাম পেতে সাহায্য করবে।
  • অরেঞ্জ গাছ ও পেয়ারা গাছ একটি লাভজনক ফসল হতে পারে। কারণ এটি সহজে বেড়ে ওঠে এবং বাজারে উচ্চ দাম পায়।
  • আপেল গাছের ফলন দীর্ঘমেয়াদী এবং এটি লাভজনক হতে পারে। এছাড়া রোজমারি, লেবু গাছ ইত্যাদি গাছও লাভজনক হতে পারে। নেটেল গাছের পাতা থেকে তৈরি ওষুধি উপাদান বাজারে ভালো দাম পায়।
  • সেগুন, বাবলা, অশোক এবং আম গাছের ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করতে পারে। একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।
  • বিষয়ী গাছ যেমন সেগুন, মহাগনি, সেগুন, চন্দন, তেঁতুল ইত্যাদি এসব গাছের কাঠের চাহিদা থাকে ফার্নিচার শিল্প এবং নির্মাণ কাজের জন্য। কাঠের গাছ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে লাভজনক হতে পারে। কিছু গাছের কাঠ দামি এবং চাহিদা বেশি।
  • যারা ফুলের ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য জবা, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ গাছ এসব ফুলের গাছ লাভজনক হতে পারে। ফুলের গাছের দামও ভালো থাকে এবং ফুল বিক্রি করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব।
  • হরিতকি এবং আছল গাছের ফলের ঔষধি গুণাবলী থাকার কারণে বাজারে চাহিদা রয়েছে।
  • অতএব লাভজনক গাছের নির্বাচন করতে হলে কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায়, বাজারের চাহিদা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করা উচিত।
  • লাভজনক গাছ লাগানো নির্বাচনের জন্য পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিতে হয়।
একাধিক ধরনের গাছ রয়েছে যা কৃষক বা উদ্যোক্তাদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে কোন গাছটি লাভজনক হবে তা নির্ভর করে স্থান, আবহাওয়া, মাটি, বাজারের চাহিদা এবং শুরুতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হবে তার ওপর।

কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না

যে সমস্ত গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তারা অতিরিক্ত পানি বা জলাবদ্ধ পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না এবং এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতা গাছের শিকড়ের অক্সিজেনের যোগান বন্ধ করে দেয়। ফলে শিকড় পচে যেতে পারে এবং গাছ মারা যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, টমেটো গাছ অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, এতে শিকড় সহজেই পচে যায় এবং ফলন কমে যেতে পারে। একইভাবে, মিষ্টি আলু গাছেও জলাবদ্ধতা সহ্য করার ক্ষমতা কম। এতে শিকড় গলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পালং শাক গাছের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত পানি সমস্যার সৃষ্টি করে। ফলে এর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন কমে যায়।

মুলা গাছ ও অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। এতে গাছের শিকড় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গাজর গাছ, বেগুন গাছ এবং কাঁঠাল গাছও জলাবদ্ধতায় ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। জলাবদ্ধতার কারণে এসব গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্ত গাছের জন্য জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। তাই এসব গাছের জন্য পর্যাপ্ত জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

কোন কোন গাছ পানিতে মরে না

কিছু গাছ পানিতে দীর্ঘসময় ডুবে থাকলেও মরে না এবং জলাবদ্ধ অঞ্চলে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বকুল, মান্দার, ছাতিম, জারুল, রেইনট্রি, বরুণ, অর্জুন, কদম, বাঁশ, বেঁত, তাল ও খেজুর। এগুলো সাধারণত নদী তীরবর্তী বা জলাভূমি অঞ্চলে জন্মায়। চরাঞ্চলে ঝাউ, বাবলা, কড়ই, গরান প্রভৃতি গাছ জন্মে।

হিজল ও করচ গাছ পানিতে দাঁড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এছাড়া কাঁঠাল, জাম ও নারকেল গাছও সামান্য সময় পানিতে বেঁচে থাকতে পারে। এই গাছগুলো পানির লবণাক্ততা ও আর্দ্রতা সহ্য করতে সক্ষম। জলাভূমি বা প্লাবন অঞ্চলে এ ধরনের গাছ রোপণ করলে মাটি ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই জলমগ্ন এলাকায় টিকে থাকা এসব গাছ পরিবেশবান্ধব ও উপকারী।

ছায়াতে চাষ করার উপযুক্ত মাটি

এখন ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায় তার জন্য কিছু বিশেষ ধরনের মাটি প্রয়োজন। কারণ যে কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে তা নয়, এক্ষেত্রে এমন মাটি যেখানে জলাবদ্ধতা না থাকে এবং যা হালকা ও আর্দ্র থাকে সেগুলি ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করার জন্য আদর্শ। ছায়াযুক্ত স্থানে চাষের জন্য মাটির pH স্তরও গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে।
  • ছায়াযুক্ত স্থানে গাছের শিকড় যদি অতিরিক্ত আর্দ্রতায় থাকে, তবে মাটি থেকে পানি নিষ্কাশন ভালো হতে হবে।
  • মাটি কম্পোজিশন হিসেবে ছায়াযুক্ত স্থানে যেসব গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়, তাদের জন্য মাটি হালকা ও পাথুরে হওয়া উচিত।
  • গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য মাটির মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান- নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ থাকতে হবে।
  • কিছু গাছের জন্য ছায়াতে চাষ করার উপযুক্ত মাটি অ্যাসিডিক হতে হবে, যেমন হোস্টা।

ঘরে গাছ লাগানোর নিয়ম

গাছের চাষ ও পরিচর্যায় যে সকল বিষয়গুলি আমাদের মাথায় রাখতে হয়, তার মধ্যে জলাবদ্ধতা সহ্য করার ক্ষমতা এবং ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করার উপযুক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছের প্রজাতি, পরিবেশের অবস্থা, মাটির ধরন এবং খোলামেলা বা ছায়াযুক্ত স্থান অনুযায়ী চাষের পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। ঘরে গাছ লাগানোর জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করা উচিত, যাতে গাছগুলো সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।
  • ঘরের মধ্যে গাছ রাখার সময় তাদেরকে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো দেওয়া উচিত, তবে সরাসরি সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচাতে হবে।
  • মাটি নির্বাচনে ঘরের গাছের জন্য মাটি হালকা ও বালুকাময় হতে হবে। ঘরের গাছের জন্য বিশেষ কম্পোস্ট মাটি উপযোগী হতে পারে।
  • গাছের উপরে পানি দেওয়ার সময় অতিরিক্ত পানি না দেওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে শিকড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়।
  • ঘরের গাছগুলোর পাতা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং মৃত পাতা বা শাখা কেটে ফেলতে হবে।
  • ঘরের গাছের জন্য পাত্রের আকার গাছের আকার অনুযায়ী নির্বাচন করুন।
  • শেষ কথা গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে, ছায়াযুক্ত স্থানে কি কি চাষ করা যায়, লাভজনক গাছ এবং ঘরে গাছ লাগানোর নিয়ম বিষয়ে এগুলিই কিছু মৌলিক ধারণা। প্রতিটি গাছের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে কোন গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ঘরে গাছ লাগানোর নিয়ম, উপযুক্ত স্থান ও মাটি এবং কোন গাছ লাগানো লাভজনক সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url