শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব - বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। তাই আপনারা যারা জানেন না তারা এই আর্টিকেলের অংশটুকু থেকে এ বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। কারণ এ বিষয়টি জানলে আপনি খুব সহজেই শিক্ষাই মাতৃভাষার কি কি গুরুত্ব রয়েছে তা সঠিকভাবে জেনে যাবেন।এছাড়াও আপনি যদি সম্পূর্ণ আর্টিকেল একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কি কি রয়েছে সেটুকুও সঠিকভাবে জেনে যাবেন। তাই আর দেরি না করে আসুন আপনাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তরগুলো জেনে নিন।
ভূমিকা
আমাদের মাতৃভাষা হলো বাংলা। যা আমরা ছোট থাকতে মায়ের কাছ থেকে শিখে থাকি। তবে এই ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কতটুকু তা আমাদের অনেকেরই অজানা। বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা জানার জন্যই আজকে আমি এই আর্টিকেলে আপনাদের সঠিকভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আপনারা যারা শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন না তারাও এই আর্টিকেলের অংশটুকু থেকে জেনে যাবেন। যেহেতু এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন না সেহেতু আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে জেনে যাবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের মধ্যে অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে। তাই আজকে আমি আপনাদের জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিস্তারিত আলোচনা করব। মাতৃভাষা প্রেমী বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি বা শহীদ দিবস বিশেষ একটি মর্যাদা ও গৌরবের একটি দিন। এই দিনে আমাদের জীবনের সকল চেতনা অনেক উচ্চ হয়ে উঠেছে।
১৯৯২ সালের এই দিনের মায়ের ভাষার মান রাখতে এ দেশের লাখো লাখ ছেলেরা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন। সেই ভাষা শহীদের স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস পালন করা হয় প্রতিটা স্কুল কলেজে।এই একুশে ফেব্রুয়ারীর কারণে বাঙালি জীবনে এক গৌরবময় ও অতিবাহিত দিন ফিরে এসেছে।
বাঙালি জাতীয় জীবনে সকল চেতনার উৎস হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিনটি। আমাদের এই বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করারও ঐতিহাসিক দিন হল এটি। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের কারণে স্মৃতি বিজড়িত হাজার হাজার মানুষের স্মৃতি আজও রয়েছে এই বাংলা মাটিতে। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র মাতৃভাষা দিবস নয়।
এই একুশে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে পালিত হয় যাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়। ১৯৪৮ সালের পাকিস্তানের জেনারেল মোঃ আলী জিন্নাহু উর্দু ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রবিস হিসেবে ঘোষণা দিলে ছাত্র সমাজরা এটা নিয়ে তীব্র গণআন্দোলন শুরু করেন। আর ওই সময় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র মর্যাদা দেওয়ার জন্য ছাত্র সমাজ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১১৪ নম্বর ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন।
এই মিছিলটি হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি। যখনি তারা এর কাছাকাছি আসে ঠিক তখনই পুলিশ মিছিলের নির্বাচনে গুলি চালাই। আর এতে করে নিহত হন সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার সহ আরো অনেকেই। অতঃপর ক্রমাগত আন্দোলনে ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রাধান্য করে।
সালে এই সংবিধান সরকার কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। ১৯৯৯ সালের সুতরে নভেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ২০২১ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বব্যাপী প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই সেই সময় থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতীয় জীবনে এক গৌরব মত ঐতিহাসিক দিন হিসেবে পরিচিত।
মুখের তাজা রক্ত ঝরিয়ে লাখো লাখো ছাত্রসমাজ আজ বাঙালি ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার নিয়েছে। এই দিবসে প্রত্যেক ভাষার মানুষকে নিজের মাতৃভাষাকে যেমন ভালোবাসবে ঠিক তেমনি জাতির ভাষাকেও অনেক বেশি মর্যাদা দেবে। আর এভাবেই একুশকে চেতনার ধারণ করে মাতৃভাষাকে ভালবাসার প্রেরণা পাবে মানুষ।
মাতৃভাষা শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
মাতৃভাষা শিক্ষা আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি শুধু একটি ভাষা শেখার প্রক্রিয়া নয় বরং এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ব্যক্তিগত পরিচয়কে গভীরভাবে গড়ে তোলে। মাতৃভাষা আমাদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, যা সামাজিক যোগাযোগ এবং মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
মাতৃভাষা শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে ভাষার প্রতি দক্ষতা তৈরি করা এবং তাদের জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতাগুলোকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করার সুযোগ করে দেওয়া। এছাড়াও, এটি সঠিক পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মাতৃভাষায় শিক্ষিত ব্যক্তি সহজেই জ্ঞানার্জনের অন্যান্য স্তরে এগিয়ে যেতে পারে।
মাতৃভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
- ব্যক্তিত্বের বিকাশঃ ভাষার মাধ্যমে শিশুদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি।
- সাংস্কৃতিক সংযোগঃ নিজের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও সচেতনতা অর্জন।
- যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিঃ ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সঠিক ও সাবলীল যোগাযোগ সক্ষমতা।
- শিক্ষার ভিত্তি গড়াঃ অন্যান্য বিষয় শেখার প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার ব্যবহার।
মাতৃভাষা শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। এটি শুধু একটি ভাষার প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং এটি সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই, মাতৃভাষার সঠিক শিক্ষা এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব
পৃথিবীর প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা রয়েছে। সেটি হল মাতৃভাষা যা মায়ের মুখ থেকে পাওয়া যায়। আমাদের মাতৃভাষা হলো বাংলা এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি ভাষা। এটি আমরা স্বীকৃতি আমরা পাই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ঘোষণার মাধ্যমে। ভাষা হল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম যা একগুচ্ছ শব্দ এবং লিখিত প্রতীকের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের লোকেরা ব্যবহার করা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে।
কিন্তু আমাদের এই মাতৃভাষার প্রভাব ঐ ব্যক্তির জীবনে অনেকটাই আলাদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার কারণ হলো এই ভাষার সঙ্গে জড়িত থাকে ব্যক্তির শৈশব এবং এটি তার প্রথম ভাষা হিসেবে পরিচিত পাই। ছোট থেকে সকল শিশুরা মা-বাবার কাছ থেকে মাতৃভাষা পেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা যখন তাদের মাতৃভাষা বিকশিত করে ঠিক তখনই তারা একই সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বিভিন্ন দক্ষতার মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা পুরো বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করে।
এ দক্ষতা গুলো তাদের মধ্যে অনেক আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় সন্নিবেশিত করে নিয়ে যায়। যদি উদাহরণস্বরূপ বলি তাহলে যদি কোন শিশু তার প্রাসঙ্গিকভাবে কোন শব্দের অর্থ অনুমান করা ক্ষমতা বা লাইন বাই লাইন পরে অর্থ অনুমান করার দক্ষতা গড়ে তুলে তবে তাহলে তার দক্ষতাগুলো স্থানান্তর হয়। সাধারণত এই বহুমাত্রিক দক্ষতা সরাসরি দ্বিতীয় ভাষার মাধ্যমে শেখানো অনেকটাই কঠিন হয়।
মাতৃভাষা শিশুগুলোকে তাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষার যে দক্ষতা রয়েছে সেটা বিকাশের সহায়তা করে। মাতৃভাষা গুরুত্ব সম্পর্কেএকটি গবেষণায় বলেছেন এটি শিশুর বিকাশ ও তাদের মাতৃভাষার মধ্যে যোগসূত্র অনুষ্ঠান করে। এছাড়াও গবেষণায় আরো জানা গিয়েছে যে শিশুরা একই সঙ্গে দুটি বা এমন কি তিনটি ভাষার দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
তারা অবশ্যই বড় হয়ে বাক্য এবং বাক্য গঠন করে তারা গভীর ধারণা অর্জন এবং সামরিকভাবে ভাষার ব্যবহার সহজ করে তুলতে পারবে। তবে মাতৃভাষা শেখানোর যে দক্ষতা গুলো রয়েছে তা ভাষা শেখার পদ্ধতির মাধ্যমেই স্থানান্তর হতে পারবে। সুতরাং যদি কোন শিশু কিভাবে বাক্যটি সরবরাহ করতে পারে এবং কিভাবে ব্যবহার করতে পারে তা অবশ্যই চিন্তা করে দেখতে হবে এবং তাদের সংস্কৃতির পরিচয় সঙ্গে সহজেই খাপ খাইতে নিতে পারবে বলে ধারণা করা যায়।
শিশুর বিকাশের জন্য মাতৃভাষার ভূমিকা অপরিসীম। মাতৃভাষার শেখা শিশুরা তাদের পরিবেশের স্বাচ্ছন্দ্যবোদ্ধ ভাবে থাকতে পারে এবং বেশি স্কুল উপভোগ করে ও দ্রুত যেকোনো বিষয়গুলো শিখতে পারে। এবং তারা আরো বেশি আত্মসম্মানের এবং একই ভাষা শেখা কার্যক্রম থাকার কারণে পিতা-মাতার বাড়ির কাজগুলোকে সহায়তা করতে পারে।
অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। আরও দেখা গিয়েছে যে সকল শিশু বহুভাসিকতার মাধ্যমে শেখার জন্য অর্থ উপার্জন বা ব্যয় করে তারা অতি সহজেই উচ্চ এবং সামাজিক অবস্থান উভয় করতে পারে। মোট কথা হলো মাতৃভাষা হলো আমাদের জাতিসত্তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি জীবন্ত প্রতীক যা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং আত্মমর্যাদা ভৌগোলিক অবস্থানগত সম্মান সহ বিভিন্ন ধরনের পত্রভূমি গঠনের সকলের জন্য সম্মান সুযোগ সরবরাহ করা সহজ করে তোলে।
যদি আজকের বিশ্বে কোন মাতৃভাষা পরদেশিত হয় তবে বিশ্বের সাথে যোগাযোগ ও কথাবার্তা করা আজও সহজ হয়ে যায় এবং বিশ্বের সামনে এই ভাষা নেতৃত্ব দিতে কোন রকম সমস্যা হয় না। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর জেনারেল কনফারেন্সেনে আমাদের মাতৃভাষাকে ঘোষণার মাধ্যমে বুঝতে পারে উক্ত ঘোষণার পরে ২০০০ সাল থেকে আমাদের দেশে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত করা শুরু হয়েছে। আশা করি শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব কি কি রয়েছে জানতে পেরেছেন।
বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
বাংলা ভাষা হল আমাদের বাঙালির জাতির প্রাণ। এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি প্রতিজ্ঞা আমাদের সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয় এর বাহক। বাংলাদেশের এই জাতীয় ভাষা হিসেবে এর গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম এর প্রয়োজনীয়তা কেবল জাতীয় সীমানায় আবদ্ধ নয় বরং এটি সারা বিশ্বে অনেক বেশি বিস্তার ও প্রভাব রয়েছে।
বাংলা ভাষার গুরুত্বঃ
জাতীয় পরিচয়ঃ বাংলা ভাষা হল আমাদের বাঙালি জাতের একটি আত্ম একটি প্রধান উপাদান। এই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটি অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছি যা ভাষার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে প্রজন্মের ধারণা ও বিকশিত করি।
যোগাযোগ ও বোঝাপড়াঃ ভাষা হল একটি যোগাযোগের মাধ্যম যেখানে দৈনন্দিন জীবনের যোগাযোগ ব্যবসা প্রশাসন ইত্যাদি কারণে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে আমাদের চিন্তা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা গুলোকে খুব সহজেই প্রকাশ ও বিনিময় করা যায়।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিঃ বাংলা ভাষা একটি সাহিত্যিক অধিকারী ভাষা। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দ দাশ নজরুল সহ অসংখ্য কবি বাংলাদেশের বিশ্বের দরবারে সমুন্নত করেছেন। এই ভাষার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরনের সংগীত সাহিত্য নাটক সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন ও বিকশিত করি।
শিক্ষা ও জ্ঞানঃ শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের মাতৃভাষা গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম। মূলত এই বাংলা ভাষার শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই বিভিন্ন বিষয়বস্তু সঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশ করতে পারে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ এই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি দেয়া হয়েছে। বাংলা ভাষা বিকাশ ও প্রচার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৈদেশিক বিনিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদি ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলা ভাষার প্রয়োজনীয়তাঃ
জাতীয় ঐক্য ও সংহতিঃ বাংলা ভাষা আমাদের বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একটি ঐক্য ও সংহিতের প্রতীক। মানুষ এই ভাষার মাধ্যমে একত্রিত হয় এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য কাজ করে যায়।
গণতন্ত্র ও সুশাসনঃ গণতন্ত্র ও সুশাসন য় প্রতিষ্ঠায় জনগণের অংশগ্রহণ অনেক বেশি প্রয়োজন। বাংলা ভাষার মাধ্যমে খুব সহজেই জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং তথ্য আদান প্রদান করতে পারে।
প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নয়নঃ আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের উন্নতি অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষা বিশেষভাবে পরিচালনার মাধ্যমে এই দেশে অগ্রগতি ধারা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বায়নের যুগে বাংলা ভাষাঃ এ যুগে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত করা অত্যন্ত জরুরি। তার কারণ হলো এই মাধ্যমে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারবো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করতে পারব।
আধুনিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার গুরুত্ব
বাংলা ভাষা শুধু একটি ভাষাই নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, একটি সংস্কৃতি, এবং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে, যা একে পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলা ভাষার ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনই এটি আধুনিকতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দৃষ্টান্তও।
আজকের ডিজিটাল যুগে বাংলা ভাষার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা এখন বিশ্বব্যাপী প্রসারিত। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গৌরবময় অতীত যেমন নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টিতে প্রতিফলিত, তেমনই আধুনিক বাংলা ভাষা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
অনলাইন শিক্ষা, ই-বুকস, এবং বাংলায় সহজলভ্য ডিজিটাল কন্টেন্ট এখন বাংলা ভাষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। বাংলা ভাষা শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি মানুষের আবেগ, চিন্তা এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন। আধুনিক শিক্ষা, ব্যবসা, এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ছে।
বাংলায় ব্লগ, ইউটিউব কন্টেন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের চাহিদা প্রমাণ করে যে এই ভাষার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আধুনিক সময়ে বাংলা ভাষার গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত নয়। এটি একটি জাতীয় পরিচয়েরও প্রতীক। তাই আসুন, বাংলা ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করি।
ভাষা কিভাবে পরিবর্তন হয়
ভাষা একটি যোগাযোগের মাধ্যম। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। মানুষ যেমন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলে, তেমনি ভাষাও মানুষের যোগাযোগের প্রয়োজন ও সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে পরিবর্তিত হয়। শব্দের উচ্চারণ, বাক্য গঠন, এবং অর্থের বিবর্তন এগুলো ভাষার পরিবর্তনের স্বাভাবিক অংশ।
ভাষার পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক প্রভাব, প্রযুক্তির উন্নয়ন, এবং ভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণ। উদাহরণস্বরূপ, এক সময়ে ব্যবহৃত অনেক শব্দ আজকের দিনে অপ্রচলিত হয়ে গেছে, আবার নতুন শব্দ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জায়গা করে নিয়েছে। যেমন, ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের আবিষ্কারের ফলে প্রচুর নতুন শব্দ যোগ হয়েছে।
লেখকের মন্তব্যঃ শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব
প্রিয় পাঠক আশা করি আপনারা সকলেই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে শিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আশা করি আমাদের এই মাতৃভাষা নিয়ে আপনাদের আর কোন প্রশ্ন না থাকার কথা। সম্পূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিত এই আর্টিকেলে জানিয়ে দিয়েছি। আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা যারা উপকৃত হয়েছেন তারা অবশ্যই আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করে জানিয়ে যাবেন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url