ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায়
ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় সে প্রসঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই আপনাদের জন্য আরও থাকছে, ব্লাড ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সমূহ। তাই আমাদের আজকের পোস্টটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন ব্লাড ক্যান্সারের ধরণ, লক্ষণ, রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।ব্লাড ক্যান্সার একটি মারাত্মক ব্যাধি যার সঠিক চিকিৎসা না করালে জীবননাশের হুমকি রয়েছে। তাই আজকের পোস্টে ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় সেই বিষয় সম্পর্কে বিশদভাবে সকল তথ্য আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করছি আপনারা ধৈর্য সহকারে আজকের পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
ভূমিকা
রক্তের ক্যান্সার নামে পরিচিতব্লাড ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ। যা রক্ত, অস্থিমজ্জা এবং লিম্ফ সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এই রোগের কারণে শরীরের রক্ত উৎপাদন ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। তবে সময়মতো সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এটি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা যা কিছু জানবো তা হল- ব্লাড ক্যান্সার কত প্রকার, ব্লাড ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ, ব্লাড ক্যান্সার লক্ষণ, ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ, ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায়, ব্লাড ক্যান্সার কি ভাল হয় এ সকল বিষয়ের তথ্য সম্পর্কে।
ব্লাড ক্যান্সার কত প্রকার
ব্লাড ক্যান্সার হল রক্তের ক্যান্সার। যেটা রক্ত, অস্থিমজ্জা এবং লিম্ফ সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এটি তিনটি প্রধান ধরনে বিভক্ত- লিউকেমিয়া (Leukemia), লিম্ফোমা (Lymphoma) এবং মায়েলোমা (Myeloma)। প্রতিটি ধরণের ব্লাড ক্যান্সার ভিন্নভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে।
লিউকেমিয়াঃ লিউকেমিয়া হলো এমন এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার যেখানে শ্বেত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রক্তের অন্যান্য কোষগুলোর ক্ষতি করে। এটি আবার দুই প্রকারের। একিউট লিউকেমিয়া খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে তীব্র প্রভাব ফেলে। এর লক্ষণগুলো হঠাৎ করে দেখা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। আর ক্রনিক লিউকেমিয়া ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট হয় না। আর এই ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে এটিতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন।
লিম্ফোমাঃ লিম্ফোমা হলো লিম্ফ সিস্টেমের ক্যান্সার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি দুই ভাগে বিভক্ত। হজকিন লিম্ফোমা এই ধরনের ক্যান্সারে লিম্ফোসাইট নামে একটি বিশেষ ধরণের শ্বেতকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এটা তুলনামূলক সহজে নিরাময়যোগ্য। আর নন-হজকিন লিম্ফোমা লিম্ফ সিস্টেমের অন্যান্য অংশে তৈরি হয় এবং বেশি সংখ্যক লিম্ফোসাইট অস্বাভাবিক আচরণ করে।
মায়েলোমাঃ মায়েলোমা হলো প্লাজমা কোষের ক্যান্সার। প্লাজমা কোষ রক্তের এক ধরণের শ্বেতকণিকা যা অ্যান্টিবডি তৈরি করে। মায়েলোমা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি মূলত অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং হাড় ও রক্তের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ব্লাড ক্যান্সার তিনটি প্রধান প্রকারের হলেও প্রতিটি ধরণের মধ্যে আবার আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই ক্যান্সারগুলো নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্লাড ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ
ব্লাড ক্যান্সারে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা সাধারণত রোগের অগ্রগতির সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং শেষ পর্যায়ে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। সেজন্য ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় পেতে আগে লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। রোগীরা অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করেন। যা সাধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন করে তোলে। এটিই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। শারীরিক ক্লান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে রোগী প্রায়শই বিছানা থেকে উঠতেও অক্ষম হয়ে পড়েন।
- ব্লাড ক্যান্সারের ফলে রক্তশূন্যতা বা অ্যনিমিয়া দেখা দেয়। এর ফলে রোগীর ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পরিবাহিত না হওয়ার কারণে রোগী অত্যন্ত দুর্বল অনুভব করেন।
- দীর্ঘস্থায়ী জ্বরও ব্লাড ক্যান্সারে মৃত্যুর লক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই জ্বরের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘাম এবং কাঁপুনি থাকে, ওষুধেও সহজে কমে না।
- পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত ওজন হ্রাস হয়। যা শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়। যা প্রমাণ করে রোগীর শরীর ধীরে ধীরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে তারা বারবার সংক্রমণের শিকার হন।
- পরবর্তী ধাপে রোগীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির কার্যক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে লিভার এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। যার ফলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের মৃত্যুর লক্ষণের মধ্যে মানসিক বিভ্রান্তিও একটি বড় লক্ষণ। রোগীরা প্রায়ই স্মৃতি হারানো, মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক চাপ, এবং অস্থিরতায় ভোগেন।
- এইসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা উচিত। ব্লাড ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ গুলো রোগের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয় এবং এই সময় সঠিক সমর্থন ও যত্ন রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- সময়মতো সচেতনতা এবং পদক্ষেপ গ্রহণ রোগীর মানসিক ও শারীরিক কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারে।
ব্লাড ক্যান্সার লক্ষণ
ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণগুলো রোগের প্রকারভেদ এবং অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে। প্রাথমিক অবস্থায় এগুলো অনেক সময় অস্পষ্ট থাকলেও রোগের অগ্রগতির সাথে সাথে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- এই রোগের প্রথম এবং সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো শারীরিক দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি। লোহিত রক্তকণিকার অভাবে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ হয় না। যার ফলে রোগী সব সময় ক্লান্তি অনুভব করেন। এই ক্লান্তি সাধারণ কাজকর্ম ব্যাহত করে এবং রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
- ব্লাড ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ। ছোটখাটো আঘাতে অতিরিক্ত রক্তপাত, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, কিংবা ত্বকের নিচে লাল বা বেগুনি রঙের দাগ দেখা দেওয়া এই রোগের স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এই রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। এছাড়া রোগীর ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। যা রক্তশূন্যতার কারণে ঘটে।
- অস্থিসন্ধি এবং হাড়ের ব্যথাও ব্লাড ক্যান্সারের আরেকটি বড় লক্ষণ। এটি সাধারণত অস্থিমজ্জায় ক্যান্সারের প্রভাবের কারণে হয়। যেখানে রক্ত উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অনেক রোগীর শরীরে লিম্ফ নোডে ফোলাভাব দেখা যায়। বিশেষ করে গলা, বগল বা কুঁচকির এলাকায়। এই ফোলাভাব ব্যথাহীন হলেও এটি লিম্ফ সিস্টেমে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
- বারবার সংক্রমণ হওয়া ব্লাড ক্যান্সারের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে রোগীরা প্রায়ই দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, সর্দি বা অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ সময় ধরে হালকা জ্বর থাকা এবং রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, লিম্ফোমার ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি উপসর্গ।
- ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণগুলোর মধ্যে ওজন হ্রাস এবং ক্ষুধামন্দাও উল্লেখযোগ্য। রোগীরা অকারণে দ্রুত ওজন কমতে দেখেন এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
এছাড়া রোগীর মধ্যে মানসিক বিভ্রান্তি, স্মৃতিভ্রংশ এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগের শেষ পর্যায়ে এই লক্ষণগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ব্লাড ক্যান্সারের এসব লক্ষণ শরীরে ক্রমাগত গভীর সমস্যা তৈরি করছে বলে ইঙ্গিত দেয়। তাই এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো খুব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা কঠিন। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রোগটির সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে। রোগী প্রায়শই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। যা স্বাভাবিক কাজকর্মেও বাধা সৃষ্টি করে। রক্তে লোহিত কণিকার অভাবে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। যার ফলে এই দুর্বলতা দেখা দেয়।
- দীর্ঘ সময় ধরে হালকা জ্বর থাকা ব্লাড ক্যান্সারের আরেকটি প্রাথমিক লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এই জ্বর দেখা দেয় এবং প্রায়ই অন্যান্য সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- ত্বকে চুলকানি এবং লাল দাগের উপস্থিতি এই রোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। অনেক সময় রোগীরা ত্বকের নিচে ছোট ছোট রক্তক্ষরণের দাগ বা চাকা দেখতে পান। এগুলো লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতির কারণে হয়। ব্লাড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরে সহজেই ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। ছোটখাটো আঘাতেও রক্তক্ষরণ হয়, যা সহজে বন্ধ হয় না। মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া বা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়াও এই সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
- লিম্ফ নোডে ব্যথাহীন ফোলা ব্লাড ক্যান্সারের একটি সাধারণ লক্ষণ। এটি বিশেষ করে ঘাড়, বগল বা কুঁচকির অঞ্চলে দেখা যায়। লিম্ফ নোডের অস্বাভাবিক এই ফোলাভাব অনেক সময় লিম্ফোমা বা অন্যান্য ধরনের ক্যান্সারের ইঙ্গিত দেয়।
- হাড়ের গভীর অস্বস্তি বা ব্যথা, বিশেষ করে মায়লোমার ক্ষেত্রে ব্লাড ক্যান্সারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এই ব্যথা সাধারণত অস্থিমজ্জার ক্ষতির কারণে দেখা দেয়। যেখানে রক্ত উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- ক্ষুধামন্দা এবং ওজন হ্রাসও ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। রোগী খাবারের প্রতি অরুচি অনুভব করেন এবং শরীরের ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে।
এই লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়। প্রাথমিক অবস্থায় ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায়
ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচতে সচেতন জীবনযাত্রা এবং সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল যেমন ব্রোকলি, পালংশাক, বেদানা ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান এবং চিনি, প্রসেসড ফুড, ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
- নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন অসুখ থেকে রক্ষা করে।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। মানসিক চাপ ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যান বা যোগব্যায়াম মানসিক চাপ দূর করতে সহায়ক।
- পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এছাড়া দূষিত পরিবেশ এবং রাসায়নিক পদার্থ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ব্লাড ক্যান্সার কি ভাল হয়
ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য কিনা, তা রোগের ধরন ও অবস্থার উপর নির্ভর করে। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক ব্লাড ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে রোগী অনেক সময় সুস্থ হয়ে ওঠেন। ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, এবং স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ব্লাড ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। তবে অ্যাকিউট লিউকেমিয়া অত্যন্ত মারাত্মক এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা ওষুধের মাধ্যমে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেন, কিন্তু অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (এএলএল) ক্ষেত্রে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল হতে পারে।
কেমোথেরাপির মাধ্যমে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। ক্রনিক লিউকেমিয়ারও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে এবং চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন। সঠিক চিকিৎসায় ক্রনিক লিউকেমিয়া রোগীরা দীর্ঘ সময় ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। মলিকুলার টার্গেটেড থেরাপি আবিষ্কৃত হওয়ার পর ক্যানসারের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বিশেষ করে ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়ায় এই চিকিৎসা ৮৫ শতাংশেরও বেশি সফল হতে পারে। কিছু অ্যাকিউট লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমার ক্ষেত্রে, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বিএমটি) ছাড়া কার্যকর চিকিৎসা নেই। ব্লাড ক্যান্সার কি ভাল হয়, এর উত্তরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক। তবে এর জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
ব্লাড ক্যান্সার একটি জটিল রোগ হলেও এটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা সম্ভব। সচেতনতা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া ব্লাড ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ জানলে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। তাই সঠিক জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসা এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলে ব্লাড ক্যান্সার থেকে বাঁচার উপায় তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং পরিজনের সকলকে ব্লাড ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরণ, লক্ষণ, বাঁচার ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যগুলো জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ
মাহ্ফুজ আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url